ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে আগে গোল পেয়েছিল বাংলাদেশ।
ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে আগে গোল পেয়েছিল বাংলাদেশ।

ভারতের বিপক্ষে কেমন খেলে বাংলাদেশ?

লড়াইয়ের শুরু ১৯৭৮ সালে। ফুটবলে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথের বয়স দুই যুগ হওয়ার অপেক্ষায়। এই সময়ে দুই দল বহুবার বহু প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয়েছে। এশিয়ান গেমস, সাফ গেমস, বিশ্বকাপ বাছাই, প্রীতি ম্যাচ, বহুজাতিক প্রতিযোগিতা—দুই দল মুখোমুখি হয়েছে নানা উপলক্ষে। আজ তেমনই এক মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পরের পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা কারোরই নেই। কিন্তু এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য আজ দুই দলেরই জয়ের বিকল্প নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে সাফল্যের দিক থেকে ভারতের ধারেকাছে কেউ নেই। এরপর বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করা যাবে, সে উপায়ও নেই। সাফ গেমস বা সাফ ফুটবলে অধিকাংশবার ফেবারিটের তকমা লাগিয়ে হতাশ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজের দিক থেকে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের ধারেকাছে আসার সুযোগ নেই কারও। অন্তত ফুটবলে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচও বাংলাদেশের ম্যাচের মতো আগ্রহ জন্মায় না ভারতে।

আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় দোহায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। সে ম্যাচের আগে এ দুই দলের অতীত দ্বৈরথে নজর বোলানো যাক।

এ পর্যন্ত দুই দল ২৬ বার মুখোমুখি হয়েছে। এই ২৬ ম্যাচে মাত্র তিনবার জিতেছে বাংলাদেশ। ভারত জিতেছে ১২ বার। বাকি ১১ ম্যাচে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দুই দল। গোল করার দিক থেকে ভারত বহু ব্যবধানে এগিয়ে। ২৬ ম্যাচে মাত্র ১৯ গোল বাংলাদেশের, ওদিকে ভারত গোল করেছে ৩৬টি।

র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মধ্যে সব সময় ভারত এগিয়ে ছিল।

এ ম্যাচের আগে দুই দলের পার্থক্য টানতে বারবার র‍্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য টানা হচ্ছে। বাংলাদেশের (১৮৪) চেয়ে ৭৯ ধাপ এগিয়ে থাকায় ভারতকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো। ১৯৯২ সালে র‍্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকেই মুখোমুখি লড়াইয়ের সময়টায় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ কখনো এগিয়ে ছিল না। বরং সর্বশেষ মুখোমুখি লড়াইয়েও ভারত (১০৪) এগিয়ে ছিল ৮৩ ধাপ। কিন্তু সে ম্যাচে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের মাঠ থেকেই সমতা নিয়ে ফিরেছিল। মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশ র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের সবচেয়ে কাছাকাছি গেছে দুবার।

২০০৭ সালের আগস্টে নেহরু কাপ ও ২০১৪ সালের মার্চের ম্যাচ দুটিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ১০ ধাপ পিছিয়ে ছিল।

শুধু মুখোমুখি লড়াইয়ের সময়টাতেই নয়, প্রায় সব সময় র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে থাকে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বাংলাদেশ শুধু একবারই ভারতকে র‍্যাঙ্কিংয়ে টেক্কা দিয়েছিল।

র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের তুলনা।

২০১৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ভারতের চেয়ে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এই অগ্রগামিতা অবশ্য খুব বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি দল। ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতের ওপরে ছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকেই আবার র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে পিছিয়ে গেছে। সে ব্যবধান একবার এক শও হয়েছে!

বাংলাদেশ ম্যাচের কোন পর্যায়ে বেশি গোল করেছে?

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হতাশামাখা পারফরম্যান্সের পেছনে গোল করতে না পারার ব্যর্থতাই মূল ভূমিকা রেখেছে। ২৬ ম্যাচে মাত্র ১৯ গোল করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে একটি আত্মঘাতী গোল। বাকি ১৮ গোল করেছেন ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে রিজভি করিম রুমি, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব ও আলফাজ আহমেদ করেছেন দুটি গোল। ভারতের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচে গোল করার তৃপ্তি পাননি বাংলাদেশের কেউ।
অথচ বাংলাদেশ যে ভারতকে বাগে পায়নি এমন নয়। ২৬ ম্যাচের তিনটিতে গোল পায়নি দুই দল। বাকি ২৩ ম্যাচের ১০ ম্যাচেই আগে গোল করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু অগ্রগামিতা অধিকাংশ ম্যাচেই ধরে রাখা যায়নি।

প্রথমে গোল করে বাংলাদেশ মাত্র ৩ ম্যাচে পেয়েছে। এগিয়ে গিয়েও ড্র করতে হয়েছে ৭ ম্যাচ। এর মধ্যে ১৯৮৫ সালের সাফ ফাইনালের ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরেছে বাংলাদেশ। আর এগিয়ে গিয়েও হারের স্বাদ পেয়েছে ১৯৮৫ সালে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সে ম্যাচে আশীষ ভদ্রের গোলে এগিয়ে গিয়েও হেরেছে ভারত। ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে গোল করে কখনো হারেনি। ড্রও করেছে মাত্র একবার।

এগিয়ে থেকেও ম্যাচ বের করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ হার ২০০৯ সালে। বাংলাদেশকে হারাতে এর আগে কখনো এত দিন অপেক্ষা করতে হয়নি দেশটিকে। অবশ্য বাংলাদেশও ভারতকে হারাতে পাচ্ছে না ২০০৩ সালের পর থেকে। এটাও জয়ের জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা। গত সাত ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায়নি। ম্যাচের হিসাব চিন্তা করলে বাংলাদেশ এর আগেও (১৯৭৮-১৯৯১) টানা সাত ম্যাচ জয়হীন ছিল। ভারতকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়হীন থাকতে হয়েছে চার ম্যাচ। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৪—এ সময়টায় টানা চার ম্যাচে কোনো জয় পায়নি ভারত।

দুই দলের জয়ের অপেক্ষা।

টানা চার ম্যাচ জয় না পেলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে কখনো টানা দুই ম্যাচ গোলবঞ্চিত থাকেনি। ২৬ ম্যাচে মাত্র চারবার ভারত গোল পায়নি। ওদিকে বাংলাদেশ ১২ ম্যাচে গোল পায়নি। এর মধ্যে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো গোল পায়নি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথের আরও যা কিছু জানা দরকার।