
>জীবনের প্রথম বিশ্বকাপেই নকআউট পর্বে জোড়া গোল কিলিয়ান এমবাপ্পের। অথচ চারটি বিশ্বকাপ খেলে নকআউট পর্বে এখনো গোলহীন মেসি-রোনালদোর মতো দুই মহিরুহ
বয়স উনিশ পেরিয়ে যায়নি। চেহারায় মিশে আছে এখনো শৈশবের মায়াকাড়া ছায়া। অথচ গতকাল বল পায়ে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো ‘খুন’ করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে! তাঁর জোড়া গোলের ধ্রুপদি পারফরম্যান্সে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো সময়ের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসিকে। মাত্র সাড়ে উনিশ বছরের এক ছেলের কাছে হেরে গেলেন পাঁচ ফিফা ব্যালন ডি’অরের মালিক।
ফরাসি সৌরভ ছড়ানো এমবাপ্পের কাছে কেবল হারেনইনি, তিনি নিজে চারটি বিশ্বকাপ খেলে যা করতে পারেননি, এমবাপ্পে কাল সেটিই করে দেখিয়েছেন। কেবল মেসিই নয়, এমবাপ্পের সেই কীর্তি বিশ্বকাপে নেই গ্রহের অপর সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও।
কীর্তিটা আর কিছুই নয়। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কখনোই গোল পাননি মেসি-রোনালদো। কিন্তু কাল এমবাপ্পে করলেন জোড়া গোল। সেটিও জীবনের প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে। সেটিও পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে।
এমবাপ্পে কত দূর যেতে পারবেন, তা তো ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে কাল শুধু মেসি-রোনালদোকেই তিনি পেছনে ফেলেননি, ভাগ বসিয়েছেন কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডেও। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে এত কম বয়সে জোড়া গোল করার কীর্তি আছে কেবল পেলের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৭ বছর ৮ মাস বয়সে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন।
প্রায় এক যুগ ধরে আর্জেন্টিনাকে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন মেসি। তাঁর জাদুকরি পায়ের ওপর ভর করেই ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বে সেবার চার গোল করেছিলেন। নকআউট পর্বে গোলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছেন।
মেসি তো তা–ও দলকে ফাইনালে তুলেছেন একবার। রোনালদোর অবস্থা আরও খারাপ। বিশ্বকাপে তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। এবার স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও উরুগুয়ের বিপক্ষে তিনি রইলেন গোলহীন!
নতুন নায়কের পথচলা তাহলে কি শুরু হয়েই গেল!