
সিরি ‘আ’তে গোল করা কঠিন, এটা জানা কথা। এ লিগে যে চাইলেই ৪০ গোল করা যায় না সেটা ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি আগেই সাবধান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু যাঁর প্রসঙ্গে এত কথাবার্তা তাঁর নাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেই অ্যালেগ্রির কথাকে অতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু জুভেন্টাসের জার্সিতে তিন ম্যাচ কাটিয়ে দেওয়ার পরও গোলশূন্য রোনালদো। তাই সমালোচনা শুরু হতেও দেরি হয়নি। এর মাঝেই পারমা ম্যাচে সবচেয়ে বাজে রেটিং বসানো হয়েছে জুভেন্টাস ফরোয়ার্ডের নামের পাশে।
ইতালিয়ান লিগে অভিষেকেই গোল করতে পারতেন রোনালদো। কিন্তু রোনালদোকে হতাশ করার পুরো দায়িত্বটা নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন সোরেন্তিনো। কিয়েভো ভেরোনার গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে খালি হাতে ফিরেছেন রোনালদো। পরের ম্যাচে ভালো খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন রোনালদো। লাৎসিওর বিপক্ষে মানজুকিচকে দিয়ে গোলও করিয়েছেন, কিন্তু নিজে গোল পাননি। পারমার বিপক্ষেও খালি হাতে ফিরেছেন, খেলেছেনও বাজে। করিয়েরে দেল্লো স্পোর্ট এর শিরোনামটাও তাই ছিল, ‘সিআর ফাইভ পয়েন্ট ফাইভ’। বিখ্যাত ‘সিআরসেভেন’ কথাটিকে ব্যঙ্গ করেই করা হয়েছে এ শিরোনাম।
পাঁচ দশমিক পাঁচ রেটিংয়ের একটি গূঢ় অর্থ আছে। ফ্যান্টাক্যালসিও বা ইতালিয়ান লিগ নিয়ে যে ফ্যান্টাসি ফুটবল খেলা হয়, তাতে ৫.৫ মানে ম্যাচে কোনো ভূমিকাই ছিল না এক খেলোয়াড়ের। ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলেননি এমন রেটিং পয়েন্ট জুটেছে রোনালদোর। ইতালিয়ান অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোও রোনালদোর এমন দশা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। ২৩টি শট নিয়েও গোল পাননি। ইউরোপের সব লিগে এত শট নিয়ে গোলশূন্য নেই কেউ। রোনালদোর কারণে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে জুভেন্টাস দলে টানতে পারেনি, সে হিসাব নিকাশও চলছে।
রোনালদোর এমন শুরু অবশ্য অপরিচিত কিছু নয়। গত মৌসুমেই লা লিগায় চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার জন্য খেলতে পারেননি। ফিরেও ছন্দ খুঁজে পাননি। ডিসেম্বরের আগে লিগে মাত্র ২ গোল ছিল তাঁর। ডিসেম্বর শেষ হতে হতে সেটা চার গোল হয়েছিল, ১২ ম্যাচে! কিন্তু লিগের দ্বিতীয় পর্বেই ১৫ ম্যাচে ২২ গোল করে দান উল্টে দিয়েছিলেন। ইতালিতেও যে রোনালদো গোল পাবেন এবং খুব দ্রুত সমালোচনার জবাব দেবেন, এ নিয়ে বাজি ধরার লোকের অভাব নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছেই, সেটা কবে!