ফুটবলে দুই মহাদেশেরই রাজত্ব। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা। কাল ছাপা হয়েছে ইউরোপে জাতীয় দলের হয়ে কমপক্ষে ৫০ গোল করেছেন, এমন কীর্তিমানদের কথা। তবে ইউরোপে সংখ্যাটা যেখানে ১৭, দক্ষিণ আমেরিকায় দেশের হয়ে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র চারজন ফুটবলার। একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে সেরা পাঁচের গল্প

১. পেলে ব্রাজিল
৯১ ম্যাচে ৭৭ গোল
কোনো রকম বিস্ময় ছাড়াই সবার ওপরের নামটা ফুটবলের রাজার। গোলসংখ্যাই হয়তো যথেষ্ট তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দিতে, তবে তা দিয়ে কখনোই পেলেকে বোঝা যাবে না। তিনটি বিশ্বকাপ জয়ী একমাত্র খেলোয়াড়, এটাতেও না। ব্রাজিলিয়ান কবি কার্লোস অ্যানড্রাডে লিখেছিলেন, ‘পেলের মতো ১০০০ গোল করাটা কঠিন কাজ নয়, কঠিন হচ্ছে পেলের মতো একটা গোল করা।’ ১৯৭০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পেলেকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল যাঁর ওপর, সেই ইতালিয়ান ডিফেন্ডার তারচিশিও বার্গনিচ পরে বলেছিলেন, ‘ম্যাচের আগে আমি ধারণা করেছিলাম, পেলে তো আমাদের মতোই রক্তমাংসের মানুষ। আমি ভুল করেছিলাম।’ বার্গনিচ কিছুটা বুঝেছিলেন পেলেকে।
২. রোনালদো ব্রাজিল
৯৮ ম্যাচে ৬২ গোল
তিনি ফুটবল ইতিহাসের সেরা স্ট্রাইকার কি না, এ নিয়ে কেউ কেউ বিতর্ক করেন। অনেকের ধারণা, বিতর্কের দরকারই নেই। রোনালদোর ব্রাজিলিয়ান সতীর্থ এমারসন একবার বলেছিলেন, ‘আমি পেলেকে দেখিনি, তবে রোনালদোকে দেখেছি।’ কয়েক দিন আগেও ইব্রাহিমোভিচ বলেছেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের সেরা প্রতিপক্ষ? রোনালদো। আমার দেখা সেরা? রোনালদো।’ বারবার চোটের সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে ফিরেছেন, যেভাবে ব্রাজিলকে ২০০২ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, শুধু সেটার জন্যই ফুটবল ইতিহাসে তাঁর আলাদা জায়গা থাকবে।
৩. গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা আর্জেন্টিনা
৭৮ ম্যাচে ৫৬ গোল
ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলেছিলেন, তাঁর দেখা সেরা স্ট্রাইকার বাতিস্তুতা। ‘বাতিগোল’কে ফুটবল সমর্থকেরা মনে রাখবেন ডি-বক্সের ভেতরে তাঁর ভয়ংকর উপস্থিতির কারণে। হেডে দক্ষতা, সময়মতো জায়গায় থাকা এবং দুর্দান্ত ফিনিশিং-নিখাদ স্ট্রাইকার বলতে যা বোঝায়, বাতিস্তুতা সেটাই ছিলেন। সম্ভবত তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সেরাও। ৫৬ গোলের বেশির ভাগই এসেছে বড় টুর্নামেন্টে, তবে আরও অনেক বিখ্যাত আর্জেন্টাইনের মতো বিশ্বকাপ অধরাই থেকে গেছে তাঁর।
৪. রোমারিও ব্রাজিল
৭০ ম্যাচে ৫৫ গোল
ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান কার? এই প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হবে রোমারিওর নাম। পেয়েছেন ওই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও। দুর্ভাগ্য তাঁর, চোটের কারণে পরের বিশ্বকাপটা খেতে পারেননি। দারুণ ফর্মে থাকার পরও বয়স ৩৬ হয়ে যাওয়ায় ২০০২ বিশ্বকাপে তাঁকে দলে রাখেননি কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি। নইলে হতো ব্রাজিলের হয়ে রোমারিওর অর্জনের তালিকাটা আরও দীর্ঘ হতো।
৫. লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা
১০৫ ম্যাচে ৪৯ গোল
লিওনেল মেসিকে খেলতে দেখেননি, এমন কেউ আজ থেকে অনেক বছর পরে বার্সেলোনার আর আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর গোল তুলনা করলে নিশ্চিত বিস্মিত হবেন। যে বিস্ময়টা এই প্রজন্মের ফুটবল দর্শকদের মনেও জাগে। কে জানে, হয়তো ফুটবলের চিরকালীন রহস্য হয়েই থাকবে এটা। আর ৭টি গোল করলেই বাতিস্তুতাকে ছুঁয়ে ফেলবেন মেসি, ৮টি গোল করলে হয়ে যাবেন আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার পরও সত্যি এটাই যে, মেসির নামের পাশে জাতীয় দলের হয়ে এই পরিসংখ্যান একেবারেই বেমানান।
আরও যাঁরা আছেন
| ম্যাচ | গোল | ||
| ৬. | জিকো (ব্রাজিল) | ৭১ | ৪৮ |
| ৭. | নেইমার (ব্রাজিল) | ৬৭ | ৪৬ |
| ৮. | লুইস সুয়ারেজ (উরুগুয়ে) | ৮২ | ৪৩ |
| ৯. | বেবেতো (ব্রাজিল) | ৭৫ | ৩৯ |
| ১০. | মার্সেলো সালাস (চিলি) | ৭০ | ৩৭ |
| ১১. | ডিয়েগো ফোরলান (উরুগুয়ে) | ১১২ | ৩৬ |
| ১২. | হার্নান ক্রেসপো (আর্জেন্টিনা) | ৬৪ | ৩৫ |
| ১৩. | রিভালদো (ব্রাজিল) | ৭৪ | ৩৫ |
| ১৪. | ডিয়েগো ম্যারাডোনা (আর্জেন্টিনা) | ৯১ | ৩৪ |
| ১৫. | জেয়ারজিনহো (ব্রাজিল) | ৮১ | ৩৩ |