গোল বাঁচানোর জন্য গোল লাইন থেকে হাত দিয়ে বল ঠেকালেন সাদ উদ্দিন। শেষ রক্ষা হয়নি। শেখ রাসেলের এই ডিফেন্ডারের হাতে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। এতে মোহামেডান স্পোর্টিং লিমিটেড গোল তো পেয়েছেই, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সাদকে। বল গোল লাইন অতিক্রম না করলে পেনাল্টি ছিল অনিবার্য।
গোলমুখের জটলা থেকে হেডটি করেছিলেন মোহামেডানের মালির স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে। ২৩ মিনিটে দিয়াবাতের এই গোলে মোহামেডান এগিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ার সঙ্গে ১০ জনের দল হয়ে যায় শেখ রাসেল। তবু ম্যাচটি জিততে পারেনি মোহামেডান। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১–১ গোলের সমতায়।
ম্যাচের শেষ দিকে শেখ রাসেলের সমতাসূচক গোলেও পরোক্ষভাবে ভূমিকা আছে আরেকটি লাল কার্ডের। ৬৬ মিনিটে বাতাসে বল দখলের লড়াইয়ে রহমত মিয়ার মুখে লাথি মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মোহামেডানের রাইটব্যাক মাসুদ রানা। মোহামেডানও ১০ জনের দল হয়ে পড়লে বল দখলের লড়াইয়ে ফিরে আসে সাইফুল বারির দল। ৮৪ মিনিটে আইজার আখমতভের গোলে ম্যাচেও ফিরে তারা।
টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে দুই লাল কার্ডের ম্যাচটি ছিল দারুণ উপভোগ্য। গোলের সুযোগগুলো নষ্ট না করলে দুই দলই অন্তত কয়েকটি করে গোল পেতে পারত। তবে ড্রতেই সন্তুষ্ট দেখা গেছে দুই প্রতিপক্ষকে।
নিষেধাজ্ঞা থাকায় মেসিডোনিয়ার সেন্টারব্যাক জাসমিনকে পায়নি মোহামেডান। মূল একাদশের সেন্টারব্যাক ছাড়াই প্রথমার্ধে ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে তারা। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে গোল বের করে নেওয়াটা তারই ফল।
৩৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত সাদা–কালোরা। রাইটব্যাক মাসুদের ক্রসে দূরের পোস্ট থেকে হেড করে গোল মুখে বল রেখেছিলেন জাফর ইকবাল। ফিরতি বলে অ্যারন জন হেড করলে সেভ করেন গোলকিপার আশরাফুল।
বিরতিতে যাওয়ার আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল শেখ রাসেলও। সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ব্রাজিলিয়ান থিয়াগো আমারাল ও পর্তুগালের ইসমাইল তাবারেজ।
ইসমাইলের গোলের সুযোগ নষ্ট করার ঘটনা ম্যাচ শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত চলল। ৮২ মিনিটে আখমাতভের রক্ষণচেরা পাস থেকে মোহামেডান গোলকিপার মোহাম্মদ সুজনকে একা পেয়ে তাঁর হাতে বল তুলে দিয়েছেন। যেন গোলকিপার সুজনকে বল হাতে মেরে অনুশীলন করালেন ইসমাইল। দুই মিনিট পরে গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে ভুলগুলোর ক্ষতে প্রলেপ দিয়েছেন কিরগিজ আখমতভ।
পিছিয়ে পড়েও জয় চট্টগ্রাম আবাহনীর
দিনের অন্য ম্যাচে মুন্সিগঞ্জের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ২–১ গোলে জিতেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচটি জিতেছে মারুফুল হকের দল।
৪ মিনিটে ফিলিপ আজাহর গোলে এগিয়ে যায় রহমতগঞ্জ। দ্বিতীয়ার্ধে ২০ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল করে ম্যাচ জেতে চট্টগ্রাম আবাহনী। ৫২ মিনিটে চট্টগ্রামকে সমতায় ফেরান পিটার। ৭২ মিনিটে জয় এনে দেওয়া গোলটি করেন রুবেল মিয়া।