লিভারপুল মিডফিল্ডার দমিনিক সোবোসলাই
লিভারপুল মিডফিল্ডার দমিনিক সোবোসলাই

পিএসজিকে হারাতে অ্যানফিল্ডে মরে যেতেও তৈরি লিভারপুলের সোবোসলাই

অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়নস লিগের রাতগুলোয় কখনো কখনো রূপকথা গল্প লেখা হয়। সেই রূপকথা কি আজ আবার ফিরে আসবে? পিএসজির মাঠে ২-০ গোলে হেরে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে লিভারপুল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের টিকিট কাটা—কাজটা পাহাড় ডিঙানোর মতো কঠিন।

তবে লিভারপুলের মিডফিল্ডার দমিনিক সোবোসলাই আরও একটি মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। পিএসজির বিপক্ষে আজ কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের আগে হাঙ্গেরিয়ান এই মিডফিল্ডার সাফ জানিয়ে দিলেন, দলের প্রয়োজনে তিনি মাঠে ‘মরতেও প্রস্তুত’।

২০১৮-১৯ মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল লিভারপুল। পরের অ্যানফিল্ডে রূপকথার গল্প লিখে ৪-০ ব্যবধানে দ্বিতীয় লেগ জিতে নিশ্চিত করে ফাইনাল। সেই আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুটও পরেছিল লিভারপুল।

এবারও পিএসজির বিপক্ষে তেমন কিছুই করতে চান সোবোসলাই। সংবাদ সম্মেলনে যেন বারুদ ঝরল তাঁর কণ্ঠে, ‘আমি মাঠে মরতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমাদের সব খেলোয়াড়ই এমনটা ভাবছে। আমরা এটা ভীষণভাবে চাই। প্রথম মিনিট থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের সবটুকু নিংড়ে দেব। লড়াই যদি ৯০ মিনিটের বদলে ১২০ বা ১২৫ মিনিটেও গড়ায়, আমরা হাল ছেড়ে দেব না।’

পিএসজির বিপক্ষে প্রথম লেগে হারের পর হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন ফন ডাইকরা

২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার জানেন, কাজটা কত কঠিন; কিন্তু অসম্ভব নয়। বরং তিনি এটাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে, পিএসজির মতো দলের বিপক্ষে, চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে যদি আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি, তাহলে এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় কামব্যাক হবে।’

এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করা সোবোসলাই প্রতিপক্ষের শক্তিটাও জানেন। আবার এটাও বলেছেন, ‘ওদের দলে সুপারস্টার আছে। তবে মেসি, এমবাপ্পে বা নেইমারের সময়ের মতো নয়। এখন ওদের খেলার ধরন আলাদা। সিস্টেম আলাদা। আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি। ২-০ লিড নিয়ে অ্যানফিল্ডে আসছে। তাই ম্যাচটা কঠিন হবেই। তবে আমরা প্রস্তুত।’

দারুণ ফর্মে থাকলেও সম্প্রতি এক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সোবোসলাই। এফএ কাপে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর একটি অঙ্গভঙ্গি নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল।

সেই তিক্ততাও ধুয়েমুছে দিতে চেয়েছেন তিনি, সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে সোবোসলাই বলেছেন, ‘ওটা স্রেফ ভুল–বোঝাবুঝি ছিল। এই ক্লাবের কাছে সমর্থকদের গুরুত্ব কতটুকু, তা আমি জানি। আমি সমর্থকদের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করি না। হারের পর ওরা যতটা কষ্ট পায়, আমার কষ্টটাও ঠিক ততটাই। আমি দুঃখিত।’