ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের মন্তব্য কি নেইমারের জন্য পরোক্ষ সতর্কবার্তা? তেমনটি ভেবে নেওয়াই যায়। কারণ, ব্রাজিল দলের বাইরে থাকলেও নেইমার এখনো তাঁদের সবচেয়ে বড় তারকা।
ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগো কিংবা রাফিনিয়াদের এই তালিকায় তুলে আনা যায়। তবে বৈশ্বিকভাবে নেইমারের মতো জনপ্রিয়তা তাঁরা পাননি। অথচ চোটজর্জর ক্যারিয়ারের কারণে নেইমার দুই বছরের বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে। ওদিকে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ—নেইমার যেখানে খেলতে মরিয়া। ঠিক এমন মুহূর্তে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, শুধু নামের জোরে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি কাউকে বিশ্বকাপের দলে নেবেন না। তাহলে? দেশের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য তো পরোক্ষভাবে সেই দেশেরই সেরা তারকার জন্য এক রকম সতর্কবার্তাই।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। গত বছর মে মাসে ব্রাজিল কোচের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির স্কোয়াডে এখনো ডাক পাননি নেইমার। চোটের কারণে জাতীয় দলের বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন তারও আগে—২০২৩ সালের অক্টোবরে। এরপর আর পুরো ফিট হয়ে উঠতে না পারায় এবং নতুন করে চোটে পড়ায় নেইমারের আর জাতীয় দলে ফেরা হয়নি। আনচেলত্তিও একাধিকবার বলেছেন, নেইমারকে তিনি জাতীয় দলে চান, তবে সে জন্য তাঁকে সবার আগে পুরো ফিট হয়ে উঠতে হবে। নেইমারও এখনো সেই চেষ্টাতেই আছেন।
এদিকে বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুর চলছে। সোনালি ট্রফিটি পৌঁছেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলেও। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় প্লানান্তো প্যালেসে (প্রেসিডেন্টের কর্মক্ষেত্র) ট্রফি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন লুলা, ‘(আনচেলত্তি) মনে করেন, যারা শতভাগ ফিট তারাই খেলবে। তিনি নামের জোরে কাউকে দলে ডাকবেন না, তবে খেলার মধ্যে থাকলে, অনুশীলন করলে এবং পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলে ভিন্ন কথা। একজন কোচ যখন দায়িত্বশীল হন, তখন খেলোয়াড়রাও তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে।’
আনচেলত্তির ওপর ভরসা রেখে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট লুলা। তাঁর ভাষায়, ‘আমি নিশ্চিত যে এই বিশ্বকাপ আমরা জিতব। আমি কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাঁকে অত্যন্ত সিরিয়াস ও স্থিরমস্তিষ্কের মানুষ বলে মনে হয়েছে।’
৩৩ বছর বয়সী নেইমার সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সে ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে হাঁটুর ক্রুসিয়েট লিগামেন্টে গুরুতর চোট পান। এরপর দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে ছিলেন। ক্লাব ফুটবলেও নিয়মিত হতে পারেননি। গত বছর জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে নেইমার যোগ দেন তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। সেখানে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল। লিগে ২১ ম্যাচের মধ্যে ১৭টিতে খেলেছেন একাদশে। ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে এ সময়ে ১০ গোল করেছেন নেইমার।
গত পরশু রাতে ব্রাসিলেইরো সিরি আ–তে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে সান্তোসের জয়ে (২–১) জোড়া গোল করেন নেইমার। এর আগে অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসন শেষে দুই মাসের বেশি সময় পর ১৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামেন নেইমার। সেটি ছিল ২০২৬ সালে তাঁর প্রথম ম্যাচ। ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে গোল না পেলেও একটি অ্যাসিস্টে দলের জয়ে অবদান রাখেন। কিন্তু পরের ম্যাচেই নভোরিজোন্তিনোর কাছে ২–১ গোলে হেরে পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায় নেয় সান্তোস।
তবে সান্তোসের সর্বশেষ ম্যাচে নেইমারের জোড়া গোল বড় টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স করার বিষয়টি উসকে দিচ্ছে। যদিও গত বছর ডিসেম্বরেই নেইমারকে জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন আনচেলত্তি। সংবাদমাধ্যম স্পোর্ত রেকর্ডকে ব্রাজিলের এই কোচ বলেন, ‘নেইমারকে অবশ্যই শতভাগ ফিট হতে হবে। অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, কিন্তু আমাকে কেবল শতভাগ ফিট খেলোয়াড়ই বেছে নিতে হবে। বিষয়টা শুধু নেইমারের ক্ষেত্রে নয়, এটি হতে পারে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ক্ষেত্রেও। যদি ভিনিসিয়ুস ৯০ শতাংশ ফিট থাকেন, তাহলে আমি বরং ১০০ শতাংশ ফিট অন্য খেলোয়াড়কে নেব।’