নকআউটে ওঠার উচ্ছ্বাস দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড়দের
নকআউটে ওঠার উচ্ছ্বাস দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড়দের

দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, অপেক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ : ০ দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকার ডাগআউটের সবাই তৈরিই ছিলেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অপেক্ষা করছিলেন, কখন রেফারির শেষ বাঁশিটা বাজবে। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে সেটি বাজতেই ‘দে ছুট ...’।

যিনি যাঁকে পাচ্ছেন জড়িয়ে ধরছেন। দুজনকে দেখা গেল, একে অপরকে জড়িয়ে মাটিতে গড়াগড়িও খাচ্ছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের মুখে তখন রাজ্যের অন্ধকার। কেউ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে, কেউ বসে পড়েছেন মাঠেই। কারণ, ম্যাচের ফল দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলে দিয়েছে, আর দক্ষিণ কোরিয়াকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তায়, অপেক্ষায়।

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১–০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬৩তম মিনিটে থাপেলো মাসেকোর গোলে পাওয়া এই জয় ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় স্থান এনে দিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া নেমে গেছে তিনে।

প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার আজ ড্র করলেই চলত। তবে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল ৩ পয়েন্টের জয়।

শুরুতে কিছুটা চাপ সামলাতে হলেও ম্যাচে প্রথম বড় সুযোগগুলো তৈরি করে দক্ষিণ আফ্রিকাই। এমনকি কোরিয়ান ডিফেন্ডার লি গিহিউক শেষ মুহূর্তে ঠেকিয়ে না দিলে প্রথমার্ধেই মাসেকো গোল পেয়ে যেতে পারতেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে থাপেলো মাসেকোর গোলে

বিরতির পর আক্রমণভাগে গতি আনতে সন হিউং-মিনকে নামান দক্ষিণ কোরিয়া কোচ। তবে গোলের খোঁজে কোরিয়ানদের ওপরে ওঠার ফাঁকেই পাল্টা আক্রমণ হানে দক্ষিণ আফ্রিকা। বদলি খেলোয়াড় তেশপাং মোরেমির বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ৬৩তম মিনিটে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জয়সূচক গোলটি করেন মাসেকো।

এই জয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের আগে ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি তারা। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম নকআউট ম্যাচে ২৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে কানাডার বিপক্ষে খেলবে তারা।

একই সময়ে শুরু হওয়া গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো ৩–০ গোলে হারিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্রকে। তিন ম্যাচের সব কটিতে জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মেক্সিকো। বিপরীতে কোনো ম্যাচ জিততে না পারা চেকরা বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই।

এক দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার হতাশা, আরেক দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্ছ্বাস

দক্ষিণ কোরিয়া তিন ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ফলে তাদের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর। সেরা তৃতীয় স্থানধারী আট দলের মধ্যে থাকতে পারলে তারা নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।