বসুন্ধরা কিংস–আবাহনী ম্যাচের একটি মুহূর্ত
বসুন্ধরা কিংস–আবাহনী ম্যাচের একটি মুহূর্ত

বাংলাদেশ ফুটবল লিগ

কিংসের উৎসব, না আবাহনীর প্রত্যাবর্তন

ক্লাব ফুটবলের মুকুটে হরেক রকম পালক আছে তাঁর। লিগ ট্রফি, ফেডারেশন কাপ বা স্বাধীনতা কাপ—শিরোপা জয়ের স্বাদ বসুন্ধরা কিংস অধিনায়ক তপু বর্মণের কাছে নতুন কিছু নয়।

তবে আজ আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে জিতলে সেটা হবে বিশেষ কিছু। কারণ, এই এক জয়েই এক ম্যাচ হাতে রেখে লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার হয়ে যাবে গত মৌসুমের আগে টানা পাঁচটি লিগজয়ী কিংসের। তপুর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, ‘আবাহনীকে হারিয়েই আমরা শিরোপা উৎসব করতে চাই।’

আবাহনীর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলুর চিত্রটা পুরোই উল্টো। ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির হয়ে চার মৌসুম ধরে খেললেও এখনো কোনো ট্রফির ছোঁয়া পাননি।

আবাহনী অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বাবলু

আবাহনী সর্বশেষ ফেডারেশন কাপ জিতেছিল ২০২২ সালের জানুয়ারিতে, এবার বিদায় নিয়েছে গ্রুপ থেকেই। ক্লাবটি সর্বশেষ স্বাধীনতা কাপ জেতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। আর লিগ জয়ের আক্ষেপ তো আরও দীর্ঘ। পেশাদার ফুটবল লিগে সর্বোচ্চ ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা ২০১৭-১৮ মৌসুম সর্বশেষ লিগ শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। বাবলুর জন্য আজকের ম্যাচটি তাই শিরোপা–খরা কাটানোর এক অগ্নিপরীক্ষাই।

লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে শেষ দুটি ম্যাচে জয় চাই আবাহনীর, যার প্রথমটিতে কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজ বিকেল পৌনে চারটায় কিংসের মুখোমুখি হবে ধানমন্ডির ক্লাবটি। মাচ ড্র হলে এবং আজই ব্রাদার্সকে হারালে ফর্টিস এএফসিও উঠে আসবে লিগ লড়াইয়ে। ফর্টিসের তখন পয়েন্ট হবে ৩৪, আবাহনীর ৩৫, কিংসের ৩৬। সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর এক পরিস্থিতির হাতছানি।

লিগ শেষ রাউন্ডে যাক, সেটা চাইবে না নানা সংকটের মধ্যে থাকা কিংস। আবাহনীকে অবশ্য শেষ রাউন্ড পর্যন্তই যেতে হবে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার গোপালনগর গ্রামের ছেলে বাবলুর কাছে আবাহনীর হোম ভেন্যু কুমিল্লার মাঠটা বেশ আপন। এই ডিফেন্ডার আজকের ম্যাচ নিয়ে স্বপ্নও দেখছেন, ‘কুমিল্লায় খেলা বাড়তি সুবিধা আমাদের জন্য। কিংসকে হারাতে পারলে আমরা সুবিধাজনক অবস্থায় চলে যাব। শেষ ম্যাচে জিতে লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছি।’

২৩ মে শেষ রাউন্ডে কিংসের প্রতিপক্ষ ফকিরেরপুল, আবাহনীর আরামবাগ। দুটিই সহজ ম্যাচ। ফলে আজকের ম্যাচটিই লিগের অলিখিত ফাইনাল। লিগটা এমন জমিয়ে তোলার কৃতিত্ব নিতে পারে আবাহনী। প্রথম পর্বে ৯ ম্যাচে মাত্র ১৩ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নম্বরে থাকা আকাশি নীলেরা দ্বিতীয় পর্বের টানা সাতটি ম্যাচই জিতে অবিশ্বাস্য ছন্দে আছে। কিংস প্রথম পর্বে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও দ্বিতীয় পর্বে সাত ম্যাচের দুটি ড্র করেছে। প্রথম লেগে কিংসের মাঠে দিয়াবাতে পেনাল্টি নষ্ট করলেও আবাহনী ২-২ ড্র করেছিল।

তবে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ঢের এগিয়ে কিংস। কিংসের ১২ জন খেলোয়াড়ই জাতীয় দলের। দলটির বড় শক্তি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। উইঙ্গার রাকিব, ফাহিমরা দেশসেরা। তাঁদের ক্রস থেকে অনায়াসে গোল করেন স্ট্রাইকার দরিয়েলতন গোমেজ। লিগে সর্বোচ্চ ১৬টি এবং ফেডারেশন কাপে ৯টি গোল করে এই মৌসুমে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।

তবে কিংসের জন্য বড় ধাক্কা—তিন হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় রাকিব আজ খেলতে পারবেন না। শাহরিয়ার ইমন খেলবেন তাঁর জায়গায়। বকেয়া বেতনের দাবিতে দুই নাইজেরিয়ান ইমানুয়েল ও সানডে আজও ম্যাচ বয়কট করছেন।

কাগজে–কলমে কিংসের টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর বায়েজিদ আলম জোবায়ের এখন প্রধান কোচ। কুমিল্লায় আজই শিরোপা উৎসব করার ব্যাপারে তিনি বেশ আশাবাদী, ‘আবাহনীকে হারিয়েই শিরোপা উৎসব করতে চাই আমরা।’ আবাহনীর কোচ মারুফুল হক স্বাভাবিকভাবেই সেটা হতে দিতে চাইবেন না, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে কিংসকে আমরা হারাব। লিগ নিয়ে যাব শেষ রাউন্ড পর্যন্ত। আমরা লিগ জয়ের প্রত্যাশা রাখছি।’

কার হাতে উঠবে ট্রফি

মারফুলের অধীনে আবাহনী পাসিং ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত। মারুফ নিজেই দলের বড় ভরসা, যাঁর কিংসের বিপক্ষে জয়ের ভালো অভিজ্ঞতা আছে। দলে কোনো চোট সমস্যা নেই। তিন বিদেশি ব্রুনো, এমেকা ও সুলেমান দিয়াবাতেকে নিয়ে তাদের আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী।

সঙ্গে তরুণ ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলাম নজর কাড়ছেন। নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিন নিজের সাবেক দলকে হারাতে মরিয়া। কিংসকে হারানো কঠিন কিছু হবে না বলেই বিশ্বাস তাঁর।

গতকাল দুপুরে ঢাকায় নিজেদের মাঠে শেষ অনুশীলন সেরে সন্ধ্যায় কুমিল্লায় পৌঁছেছে কিংস। আবাহনী হোম ভেন্যুতে বিকেলে প্রস্তুতি শেষ করেছে। এখন অপেক্ষা আজ বিকেলের শেষ বাঁশির।