দারুণ এক গোলের পর খিচা কাভারাস্কেইয়া
দারুণ এক গোলের পর খিচা কাভারাস্কেইয়া

কাভারাডোনা–জাদু, পিএসজির জয়, লিভারপুলের দুর্দশা চলছেই

গত মৌসুমের ফলের পুনরাবৃত্তিই হলো। ঘরের মাঠে লিভারপুলকে হারালো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। পার্ক দে প্রিন্সেসে পিএসজি জিতেছে ২–০ গোলে। খিচা কাভারাস্কেইয়ার জাদুকরী এক গোল আর দেজিরে দুয়ের লক্ষ্যভেদে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে থাকল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

 কেন তাঁকে ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনা করে কাভারাডোনা বলা হয় সেটির প্রমাণ দেওয়া গোল করা কাভারাস্কেইয়ার ম্যাচ শেষে গোল কম হওয়ার আক্ষেপই করেছেন, ‘আমাদের আরও গোল করার সুযোগ ছিল। তবে ২-০ ব্যবধানও মন্দ নয়। এখন আমাদের ফিরতি লেগের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল পিএসজির। ১১ মিনিটেই লিড পায় লুইস এনরিকের দল। উসমানে দেম্বেলের সহায়তায় তরুণ তুর্কি দুয়ের নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ব্যালন ডি’অর জয়ী দেম্বেলে নিজে গোল করার অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে লিভারপুলের হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। এমনকি দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন তিনি।

এক ফ্রেমে পিএসজির দুই গোলদাতা—দিজেরে দুয়ে ও খিচা কাভারাস্কেইয়া

পিএসজিকে দুই গোলের লিড এনে দেন কাভারাস্কেইয়া। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মাঠের বাঁ প্রান্ত থেকে একক নৈপুণ্যে বল নিয়ে বক্সে ঢোকেন তিনি। জাদুকরী পায়ের কারিকুরিতে ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে পাঠান এই জর্জিয়ান। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে তাঁর অষ্টম গোল।

লিভারপুল গোলরক্ষক গিওর্গি মামারদাশভিলি অবশ্য বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। বিশেষ করে প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুয়ের একটি জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দেন তিনি।

ম্যানচেস্টার সিটির কাছে এফএ কাপে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই ম্যাচে রক্ষণে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরিয়েছিলেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। তবে আক্রমণভাগে কোচ আর্নে স্লটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুব একটা কাজে আসেনি। পুরো ম্যাচ মোহাম্মদ সালাহকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। লিভারপুলের হয়ে শেষ মৌসুম কাটানো সালাহ সাম্প্রতিক সময়ে সেরা ছন্দে নেই।

জয়ের পর পিএসজির খেলোয়াড়েরা

রেকর্ড ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনা স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক চোট কাটিয়ে ৭৮ মিনিটে মাঠে নামলেও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেননি।

 আগামী মঙ্গলবার লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ফিরতি লেগ। ২০১৯ সালের সেমিফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৪-০ ব্যবধানের জয়ে ফাইনাল খেলেছিল অলরেডরা। পিএসজির বিপক্ষে সেমিফাইনালের টিকিট পেতে হলে তেমন কোনো জাদুকরী প্রত্যাবর্তনেরই গল্প লিখতে হবে লিভারপুলকে।