ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবল ‘পরিচালনার অযোগ্য’

২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচনার তীব্র জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আর এই জবাবের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়াও শুনতে হয়েছে ফিফা সভাপতিকে। একটি মানবাধিকার সংস্থার পরিচালক তাঁকে বিশ্ব ফুটবল পরিচালনার অযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।

১৯ জুলাই শেষ হওয়া বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের বিতর্ক, সমালোচকদের তোপ আর বিষোদ্‌গার—সবকিছুর জবাবে এক খোলাচিঠিতে ক্ষোভ আর বিরক্তি উগরে দেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। গতকাল তাঁর এই চিঠি প্রকাশ হওয়ার পর রাতেই ফিফা সভাপতির ‘হিসাব চুকানোর বক্তব্যের’ বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মানবাধিকারকর্মীরা।

এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যাঁরা ‘ঘৃণা’ করেন, তাঁদের উচিত এর বদলে ‘ধ্যান করা, প্রার্থনা করা কিংবা ফুটবল ম্যাচ দেখা’।

সমালোচকদের উদ্দেশে এই ক্রীড়া প্রশাসক আরও লেখেন, ‘আপনারা সমালোচনা আর ঘৃণায় এতটাই অন্ধ হয়ে ছিলেন যে ফুটবল উৎসবের আসল আনন্দটাই মিস করে গেছেন।’

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ১৫ পাতার বার্তায় ইনফান্তিনো দাবি করেন, সমালোচকেরা ‘সব আনন্দ ও সম্প্রীতি এড়িয়ে গেছেন’ এবং তাঁরা ‘ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছেন’।

তবে টিকিটের দাম বাড়িয়ে মুনাফা আয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের তদবিরের পর মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা বাতিল—এসব বিষয়সহ নানা বিতর্কে বিদ্ধ হয়েছিল এবারের বিশ্বকাপ।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিতে (আইওসি) অভিযোগ করা মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কোয়ার ইনফান্তিনোর জবাবের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই বিবৃতি প্রমাণ করে নিজের অজনপ্রিয়তা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই নেই।

ফেয়ারস্কোয়ারের পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস ম্যাকগিহান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘ইনফান্তিনোর হিসাব চুকানোর বক্তব্য বিশ্ব ফুটবল পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর অযোগ্যতাকে আরও প্রকট করে তোলে। তিনি সংস্থার ভেতরে তোষামোদকারীদের দ্বারা বেষ্টিত এবং বাইরে নিজের অজনপ্রিয়তার বাস্তব পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।’

বিশ্বকাপ ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এ সম্পর্কের পরিধি নিয়ে জানতে লিখিত সাক্ষাৎকারের জন্য এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইনফান্তিনোকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগীয় কমিটির সামনে হাজির হওয়ার আহ্বান জানান। এরপরই ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও কংগ্রেস সদস্য জেমি রাসকিন ফিফার কাছে ট্রাম্প, তাঁর প্রশাসন এবং ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগের সব নথি সরবরাহ করার অনুরোধ জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ম্যাচের রেফারি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে পরে এই লাল কার্ডের কার্যকারিতা বাতিল করা হয়

গত বছর ফিফা ট্রাম্প টাওয়ারে কার্যালয় ভাড়া নেয়। দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাসকিন ইনফান্তিনোর কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তাঁর প্রশাসনের সদস্য বা তাঁদের পরিবারের সদস্য কিংবা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের মতো তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থাকে দেওয়া যেকোনো মূল্যবান জিনিসের (অর্থ লেনদেন, উপহার, পুরস্কার বা জনসমক্ষে উপস্থিতিসহ) একটি তালিকা চেয়েছেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে নানা বিষয়ে ফিফাকে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। কয়েকটি দেশের দর্শক ও কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের শাস্তির ঘটনা নিয়ে।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ার পর তাঁর ওপর যে এক ম্যাচের স্বাভাবিক নিষেধাজ্ঞা আসার কথা ছিল, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর ফিফা সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে তুমুল শোরগোল হয়।