বুধবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৪–৩ গোলে হেরে রিয়াল মাদ্রিদ শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকেই বিদায় নেয়নি, কার্যত ২০২৫–২৬ মৌসুমের সব ট্রফির দৌড় থেকেই ছিটকে গেছে। চলতি মৌসুমে চারটি প্রতিযোগিতার তিনটিতেই রিয়ালের পথচলা শেষ। কোনোটিতেই ট্রফি জোটেনি। যেটি বাকি আছে, সেটির ট্রফিও অনেকটাই রিয়ালের নাগালের বাইরে।
তবে এবারের মৌসুমে শুধু রিয়াল মাদ্রিদই নয়, ট্রফি ছাড়া মৌসুম শেষ করতে চলেছে ইউরোপের আরও কয়েকটি পরাশক্তিও। এই দলগুলোর প্রায় প্রতিবছরই কোনো না কোনো প্রতিযোগিতার ট্রফিজয়ের কীর্তি আছে। কিন্তু এবার তাদের হাত খালি। তেমনই কিছু ক্লাবের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক।
চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ প্রথমেই হারায় স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতার সুযোগ। জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হারে জাবি আলোনসোর দল। এর তিন দিন পর রিয়াল বিদায় নেয় কোপা দেল রের শেষ ষোলো থেকে। বাকি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগা।
বুধবার বায়ার্নের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান থমকে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। মৌসুমের মাঝপথে কোচ বদলানো রিয়াল এখন শুধু লা লিগায় টিকে আছে। তবে সেটিও লিগ বলেই। ৩৮ ম্যাচের লিগে ৩১ ম্যাচ খেলে রিয়াল এখন দ্বিতীয়। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা ৯ পয়েন্ট এগিয়ে। অর্থাৎ, লা লিগা জয়ের সম্ভাবনাও প্রায় নেই বললে চলে।
গত বছর প্রিমিয়ার লিগ জেতা লিভারপুলও এবার শূন্য হাতে মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছে। গত আগস্টে মৌসুমের শুরুতেই কমিউনিটি শিল্ডের ফাইনালে হেরেছিল আর্নে স্লটের দল। ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে সেই হার ছিল টাইব্রেকারে।
যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা দিয়ে মৌসুম শুরু করা লিভারপুল এরপর একে একে ছিটকে গেছে লিগ কাপ (চতুর্থ রাউন্ড), এফএ কাপ (কোয়ার্টার ফাইনাল) এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ (কোয়ার্টার ফাইনাল) থেকে। মৌসুমের বাকি সময়ে অলরেডদের ব্যস্ততা শুধু প্রিমিয়ার লিগ ঘিরে। এ মুহূর্তে পয়েন্ট তালিকার ৫ নম্বরে থাকা লিভারপুলের লড়াইটা এখন আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা নিশ্চিত করা নিয়ে। ২০২৫–২৬ মৌসুম থেকে দলটির পাওয়ার আছে এটুকুই।
ইতালিয়ান পরাশক্তি জুভেন্টাসের দুর্দশা অবশ্য অন্যদের চেয়েও বেশি। ২০১১–১২ থেকে শুরু করে টানা ৯ বছর সিরি ‘আ’ জেতা দলটি ২০১৯–২০ মৌসুমের পর আর লিগ জিততে পারেনি। ২০২১ সালের পর দলটির একমাত্র ট্রফি ২০২৩–২৪ মৌসুমের কোপা ইতালিয়া।
জুভেন্টাস এবার সিরি ‘আ’ ও কোপা ইতালিয়ার পাশাপাশি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছে। ইউরোপে দৌড় থেমেছে নকআউট প্লে–অফেই। আর কোপা ইতালিয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালে। লিগে জুভেন্টাস এখন চার নম্বরে, আর এক ধাপ পেছালে চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিটই পাওয়া হবে না। সব মিলিয়ে টানা দুই মৌসুম ট্রফিহীন শেষ করতে চলেছে ইতালিয়ান ক্লাবটি।
একসময় ইউরোপে রাজত্ব করা আয়াক্স এখন ভীষণ বাজে সময় পার করছে। নেদারল্যান্ডের সবচেয়ে সফলতম ক্লাবটি (৩৬টি লিগ শিরোপা) গত তিন মৌসুমের ধারাবাহিকতায় এবারও কোনো ট্রফি জিততে পারছে না। ২০২১–২২ মৌসুমে ডাচ লিগ জেতার পর থেকে চলছে ট্রফি–খরা।
চারবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ীরা এবার মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় লিগ পর্ব থেকে ছিটকে গেছে। কাপ টুর্নামেন্ট কেএনভিবিতে বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলো থেকে। আর লিগে এ মুহূর্তে অবস্থান ৫ নম্বরে। লিগ জেতা যে হচ্ছে না, সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে। তার চেয়েও বড় কথা চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করতে পারবে কি না, তা–ই অনিশ্চিত। ডাচ লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের বাছাই রাউন্ডে যেতেও অন্তত তৃতীয় হতে হয়, আপাতত লক্ষ্য হতে পারে এটাই।
ট্রফির শোকেসে কিছু যোগ হচ্ছে না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরও। প্রিমিয়ার লিগের ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা টানা দ্বিতীয় বছর কিছু না জিতে মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগে অবস্থান ৩ নম্বরে, শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে পিছিয়ে ১৫ পয়েন্টে। লিগের বাইরে ইউনাইটেডে এবার খেলেছে মাত্র দুটি প্রতিযোগিতায়—লিগ কাপে আর এফএ কাপে। প্রথমটিতে দ্বিতীয় রাউন্ড আর পরেরটিতে তৃতীয় রাউন্ডেই বিদায়।
এ বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ তো বটেই, ইউরোপা লিগেও খেলতে পারেনি দলটি। এবার লিগে ভালো খেলায় আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস লিগ টিকিট অনেকটাই নিশ্চিত, তবে মৌসুম শেষ করতে হচ্ছে কিছু না জেতার হতাশা নিয়েই।
এ বছর কোনো ট্রফি ছাড়া মৌসুম শেষ করতে চলছে এসি মিলান, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাবগুলোও।