শুরুতেই গোল করে এগিয়ে দেন আনিকা
শুরুতেই গোল করে এগিয়ে দেন আনিকা

মালদ্বীপের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয়, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ৪:২ মালদ্বীপ

মালদ্বীপের বিপক্ষে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে আগের তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতেছে অনায়াসে, দাপটের সঙ্গে। তবে গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ম্যাচের মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করে যখন বড় ব্যবধানে জয়ের সুবাস মিলছিল, ঠিক সেখান থেকেই যেন খেই হারিয়ে ফেলা। রক্ষণের দৃষ্টিকটু ভুল আর অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে দুই গোল শোধ করে ম্যাচ জমিয়ে তোলে মালদ্বীপ। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানের এক কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।

তা–ও চতুর্থ গোলটি এসেছে ম্যাচের শেষ মিনেটে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক মিশনের প্রথম ম্যাচে তিন পয়েন্ট আর সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলেও মাঠের অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে বাধ্য।

অথচ ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল রূপকথার মতো। ভারতের রেফারি কামানি রচনা ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজানোর পর ঘড়ির কাঁটায় মাত্র ১১ সেকেন্ডেই মালদ্বীপের জালে বল পাঠান সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। যে দ্রুত সময়ে গোল হয়েছে, তাতে আনিকার এই গোলটাই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের দ্রুততম কি না, এই কৌতূহল জেগেছে অনেকের মনেই। নিখুঁত রেকর্ডের অভাবে সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ তো বটেই, এমনকি সাফ পুরুষ ও নারী ফুটবল মিলিয়েও এটিই দ্রুততম গোল। কিক-অফ থেকে বল পেয়েই অধিনায়ক মারিয়া মান্দা নিখুঁত এক পাসে খুঁজে নেন উইঙ্গার ঋতুপর্ণা চাকমাকে। ঋতুপর্ণা বক্সে বল ঠেলতেই সেখানে ওত পেতে থাকা আনিকা দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জড়ান জালে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই আনিকার প্রথম গোল।

কোচ পিটার বাটলার কাল নিয়মিত স্ট্রাইকার তহুরা খাতুনকে বেঞ্চে রেখে আনিকাকে নামিয়েছিলেন ৯ নম্বর জার্সিতে। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে আনিকা সময় নেন মাত্র ১১ সেকেন্ড! কিন্তু এরপরই বাংলাদেশের আক্রমণভাগ তালগোল পাকিয়ে ফেলে।

মালদ্বীপের গোলকিপার ফাতহিমাত সাওসান বেশ কিছু ভালো সেভ করেন। অবশেষে ৩৪ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন উমেলাহ মারমা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলকিপার মিলির ভুলে এক গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। মিলি কিছুটা সামনে এগিয়ে থাকায় তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বল চলে যায় জালে।

প্রত্যাশা ছিল আরও বড় ব্যবধানের জয়। সেটি না হলেও ৪–২ গোলের জয়ে ঠিকই সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা ও মারিয়া মান্দাদের এমন উদ্‌যাপন এখন সেমিতেও দেখার অপেক্ষা। গতকাল গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে

২৫ মে মালদ্বীপকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে শুরু করেছে স্বাগতিক ভারত। সেই ভারতকে টপকে গ্রুপ–সেরা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে বাংলাদেশের দরকার ছিল বড় জয়। খেলাও বলতে গেলে মালদ্বীপের সীমানাতেই হয়েছে, কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে ঠিকঠাক আক্রমণ গুছিয়ে উঠতে পারছিলেন না মেয়েরা। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশকে খুব একটা গোছানো লাগেনি। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের শূন্য গ্যালারিতে নজর কেড়েছেন বাংলাদেশ থেকে আসা একমাত্র সমর্থক খোরশেদ মাতবর আলমগীর এবং ভিআইপি বক্সে লাভ চিহ্ন আঁকা ‘বাংলাদেশ’ ব্যানার হাতে থাকা জনা ছয়েক রুশ নাগরিক।

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ গোলের ব্যবধান বাড়াবে কি, উল্টো আফঈদার দুর্বল ডিফেন্ডিংয়ের খেসারত দিয়ে আরও একটি গোল খেয়ে বসে। আমিনাত ফাজলা বল জালে প্লেসিং করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় অবিশ্বাস্য ২-২! ড্রয়ের শঙ্কায় পড়া দলের হাল ধরতে কোচ বাটলার আনিকাকে তুলে তহুরা খাতুনকে নামান।

৬৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলকে স্বস্তি এনে দেন বদলি হিসেবে নামা সুরভী আকন্দ প্রীতি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে বাংলাদেশ আরও একটি গোল আদায় করে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে। শেষ গোলটি করেন ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু।

এই জয়ে প্রথম ম্যাচেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের। তবে মালদ্বীপের বিপক্ষে এই ঘামঝরানো জয় সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশনের শুরুতে বাংলাদেশকে বড় একটা সতর্কবার্তা দিয়ে গেল। ৩১ মে গ্রুপ–সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারতের। সে ম্যাচ ড্র হলে গ্রুপ–সেরা হবে ভারত, বাংলাদেশ রানার্সআপ। আর গ্রুপ রানার্সআপ হলে সেমিতে খেলতে হতে পারে নেপালের সঙ্গে। তাতে গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট নেপাল হয়ে উঠতে পারে বড় এক বাধা।