২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুস মারেন জিদান
২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুস মারেন জিদান

এবার স্যুট পরে ইতালির মুখোমুখি জিদান, সেই ‘ঢুস’ নিয়ে অনুশোচনা নেই

বার্লিনে ২০ বছর আগের সেই বিশ্বকাপ ফাইনাল কারও কারও নিশ্চয়ই মনে আছে? টাইব্রেকারে ফ্রান্সের বিপক্ষে জিতেছিল ইতালি। কিন্তু তার আগেই একটি ঘটনা ছাপিয়ে গিয়েছিল ফাইনালের ফলকে।

অতিরিক্ত সময়ের খেলায় ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জি কিছু একটা বলেছিলেন জিনেদিন জিদানকে। ফরাসি কিংবদন্তির তা সহ্য হয়নি। মাথা দিয়ে ঢুস মেরে মাতেরাজ্জিকে ফেলে দেওয়ার শাস্তি হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন জিদান। বিশ্বকাপ ট্রফি এক পাশে রেখে নিচু মাথায় জিদানের মাঠ ছাড়ার সেই দৃশ্য বিশ্বকাপ ইতিহাসেই অন্যতম বিষাদময় মুহূর্তগুলোর একটি।

দুই দশক পর সেই ঘটনাটি আবারও আলোচনায় উঠে আসায় কারণ নেশনস লিগে ফ্রান্স-ইতালি ম্যাচ। সেন্ট ডেনিসে স্বাগতিক হয়ে আজ রাতে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের কোচ এখন জিদান। গত জুলাইয়ে ফ্রান্স কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরের মাঠে এটাই ’৯৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির প্রথম ম্যাচ। ২০ বছর আগে জার্সি পরে ইতালির মুখোমুখি হলেও এবার হয়তো স্যুট পরা জিদানকে ডাগআউটে দেখা যাবে। তার আগে বার্লিন ফাইনালের সেই ‘হেড বাট’–এর প্রসঙ্গ উঠেছিল গতকাল জিদানের সংবাদ সম্মেলনে।

ফ্রান্সের অনুশীলনে কোচ জিদান

সেই ঘটনা প্রসঙ্গে জিদান বলেছেন, ‘ছবিগুলো আমাকে সব সময় সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়, সেগুলো বারবার দেখানো হয়। তবে সৌভাগ্যবশত আমার ক্যারিয়ারে শুধু এটাই ঘটেনি, কিছু সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতিও রয়েছে।’

জিদান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মাথা দিয়ে ঢুস মারার সেই ঘটনায় তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই।

শুনুন জিদানের মুখেই, ‘এগুলো অনুশোচনা নয়, আমার ক্যারিয়ারের অংশ। যা ঘটেছে, সে জন্য আমি গর্বিত নই; তবে আপনি সব সময় শুধু ভালো কাজ করতে পারবেন না। আমাদের সবার জীবনযাত্রায় এমন সময় আসে, যখন আমরা এমন কিছু করে ফেলি, যা সেরা কাজ নয়। এখন সামনের দিনগুলোয় কী আছে, সেটাই আসল কথা।’

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর জিদান আর কখনোই মাঠে নামেননি। সর্বকালের অন্যতম সেরা এ মিডফিল্ডার তখন ভেবেছিলেন, ফ্রান্সের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ স্মৃতি হিসেবে লোকে ওই ঘটনাটি মনে রাখবে।

জিদানের ভাষায়, ‘হ্যাঁ, কারণ তখন আমি জানতাম না যে একদিন কোচ হব। তাই আমার কাছে সেটাই ছিল শেষ এবং আমি বলতে পারি সময়টা খুব খুব কঠিন ছিল। আমি ফ্রান্স দলের কোচ হিসেবে ফেরার জন্য প্রস্তুত, আমার যা কিছু আছে তার সবই উজাড় করে দিতে চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে জিদান

জিদান জানিয়েছেন, সেই ঘটনার পর মাতেরাজ্জির সঙ্গে আর কখনোই কথা বলেননি, ‘না। একদমই না।’

ফ্রান্স কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরের বাইরে তুরস্ক ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রথম দুটি ম্যাচেই জিতেছেন জিদান, দুটিতেই ব্যবধান ছিল ১-০। ঘরের মাঠে কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে জিদান বলেন, ‘আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা তৃতীয় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত, ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি এবং কোনো সমস্যা নেই। সমর্থকদের সামনে জয়ের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেব।’

চোটে পড়া কিলিয়ান এমবাপ্পের অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচেও ফ্রান্সের অধিনায়কত্ব করবেন উসমান দেম্বেলে।