অনেক ফুটবলারের জন্য ৩০ বছর বয়স হচ্ছে পূর্ণতার সময়। আর এ সময়েই বুটজোড়া তুলে রাখার ঘোষণা দিলেন জার্মানির নিকলাস সুলা। গত সেপ্টেম্বরে তিরিশে পা রাখা এই সেন্টারব্যাক বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের চলতি মৌসুমের শেষ ম্যাচ দিয়ে ফুটবল থেকে অবসর নেবেন।
জার্মানির হয়ে দুটি বিশ্বকাপে খেলা সুলা আরেকটি আসরের আগে সরে দাঁড়ালেন চোটের কারণে। ট্রান্সফারমার্কেটের তথ্যমতে, দুবার এসিএল (অ্যান্টিরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) চোটে পড়া সুলা ১৩ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ক্লাব ও দেশের হয়ে মোট ১৩৩টি ম্যাচ মিস করেছেন।
২০২২ সালে বায়ার্ন থেকে চার বছরের চুক্তিতে ডর্টমুন্ডে যোগ দেন সুলা। জার্মান ক্লাবটি আগেই জানিয়েছিল, এবারের মৌসুম শেষে চুক্তি নবায়ন হচ্ছে না। গত ১৮ এপ্রিল হফেনহাইমের বিপক্ষে সুলা হাঁটুতে চোট পান, যা দেখে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল আবারও এসিএল ছিঁড়ে গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে স্ক্যান রিপোর্টে দেখা যায়, সমস্যাটি যতটা ভাবা হয়েছিল, ততটা গুরুতর নয়।
এরপরও অবসরের সিদ্ধান্তই নিয়েছেন সুলা। স্পিলমাখার পডকাস্টে অবসরের খবর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ঘোষণা করতে চাই, এই গ্রীষ্মেই আমি আমার ক্যারিয়ার শেষ করছি।’ ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার এসিএল চোটে পড়েছেন, এমন শঙ্কার মুহূর্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হফেনহাইমের ড্রেসিংরুমে আমাদের দলের চিকিৎসক যখন ড্রয়ার টেস্ট করছিলেন, ফিজিওর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ছিলেন। এরপর ফিজিও পরীক্ষার পর আমার যে অনুভূতি হয়েছিল, আমি শাওয়ারে গিয়ে দশ মিনিট কেঁদেছিলাম। সেই মুহূর্তে আমি সত্যিই ভেবেছিলাম “এটা ছিঁড়ে গেছে”।’
তবে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সুসংবাদ পেলেও কেন খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই ব্যাখ্যায় সুলা বলেন, ‘পরদিন এমআরআই পরীক্ষায় জানতে পারি এসিএল হয়নি। তখন আমার কাছে এক হাজার শতাংশ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে সবকিছু শেষ। আবারও চোটে পড়ার চেয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় থাকাই আমার জন্য ভালো। যেখানে আমি স্বাধীন থাকব, ছুটিতে যাব, সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাব।’
২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা সুলা ২০২৪ সালে ডর্টমুন্ডের হয়ে রানার্সআপ হয়েছিলেন। এ ছাড়া বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা জিতেছেন পাঁচটি।