ওমর আরতানকে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে রীতিমতো সংবর্ধনা দিয়েছেন
ওমর আরতানকে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে রীতিমতো সংবর্ধনা দিয়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারা সেই রেফারিকে রাজকীয় সংবর্ধনা দিল সোমালিয়া

যুক্তরাষ্ট্রে তিনি ছিলেন অনাকাঙ্ক্ষিত, আর তাতেই সোমালিয়ায় হয়ে গেলেন জাতীয় গর্বের প্রতীক।

বিশ্বকাপে রেফারিং করতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন সোমালিয়ার ওমর আরতান। কিন্তু মায়ামি বিমানবন্দর থেকে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রাজধানী মোগাদিশুতে ফেরার পর এই ফুটবল রেফারিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন কয়েক হাজার সোমালিয়ান সাধারণ নাগরিকও। তাঁরা আরতানকে আকাশি-নীল রঙের সোমালি পতাকায় জড়িয়ে নেন। মোগাদিশুর একটি স্টেডিয়ামে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে রীতিমতো সংবর্ধনা দেন তাঁকে।

২০২৫ সালে আফ্রিকার বর্ষসেরা রেফারি হওয়া আরতানের এবারই প্রথম বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার কথা ছিল। সোমালিয়ার ইতিহাসে এমন কীর্তি প্রথম। তবে ফিফা তাঁকে অফিশিয়ালদের তালিকায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়নি। এ ঘটনার পর ফিফা তাঁকে রেফারি তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে।

কেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অনুমতি পেলেন না—ট্রাম্প প্রশাসনের এক সূত্র বিবিসকে জানিয়েছে, ‘এই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি খুঁজছিলেন। তবে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন কর্তৃক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও রয়েছে। এর ফলে অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে ওই ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন।’

আরতান অবশ্য এ ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি জানান, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁকে সোমালি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আল-শাবাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল। তিনি তাঁদের বলেছেন ওই গোষ্ঠী সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

সংবাদমাধ্যটিকে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার মনে হয় তাদের (যুক্তরাষ্ট্র সরকার) আমার দেশের সঙ্গে কোনো সমস্যা আছে।’ ফিফার অনুমোদন করা রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ‘যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ ছাড়া বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

আরতান অবশ্য দ্রুতই সবকিছু ভুলে সামনে তাকাতে চান। মোগাদিশুতে সোমালিয়ানদের সংবর্ধনা পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা শেষ। এটাই ভাগ্যে ছিল। ফিফা আমাকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আগামী বিশ্বকাপে অংশ নেব। আমাদের হতাশ হওয়া উচিত নয়। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং আমি তরুণদের তাদের লক্ষ্য পূরণের লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করি।’