
আরও একবার লামিনে ইয়ামাল...।
দুর্দান্ত খেলবেন, চোখে লেগে থাকার মতো গোল করবেন— এ আর নতুন কী! তবে অভিভূত করতে পারা বিস্ময়-বালকরা এরপরও কীভাবে যেন নতুন কিছু নিয়ে হাজির হন। করে ফেলেন অন্য রকম কিছু। ইয়ামালও যেমন করে ফেললেন। আগের দুুই ম্যাচের মতো আজও স্পেনের গোলের খাতা খুলেছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডই। তাও ম্যাচের ৬ মিনিটের মধ্যেই।
আর ইয়ামালের পথ ধরে আজও প্রতিপক্ষের জালে দুবারের বেশি বল পাঠিয়েছে স্পেন। উয়েফা নেশনস লিগে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ৩-১ গোলে। এটি এবারের আসরে স্পেনের টানা তৃতীয় জয়।
এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল স্পেন। সেই দুই ম্যাচেও প্রথম গোলটি এসেছিল ইয়ামালের পা থেকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ১০৪ সেকেন্ডে আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৭০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন। আজ অবশ্য চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ছয় মিনিট।
গোলটাও ছিল দুর্দান্ত। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর বক্সের ঠিক বাইরে বল পান ইয়ামাল। প্রথম স্পর্শে বলটা সামনে নিয়ে একটু জায়গা বানিয়ে নেন, এরপর বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠান দূরের ওপরের কোণে। চেক গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।
ওভেইদোর ম্যাচটিতে ইয়ামাল খেলেছেন শুধু প্রথমার্ধেই। এর মধ্যেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। ৩৫ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি আসে রদ্রির কাছ থেকে। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর বাড়ানো বল চেক প্রজাতন্ত্রের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলালে সেটি পেয়ে যান রদ্রি। বক্সে ঢুকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান স্পেনের অধিনায়ক।
দুই গোলে এগিয়ে বিরতিতে যাওয়ার পর অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের খেলায় কিছুটা ভাটা পড়ে। বলের দখল ও নিয়ন্ত্রণ লা ফুয়েন্তের দলের হাতেই ছিল, কিন্তু আক্রমণে আগের মতো ধার দেখা যায়নি।
এই সুযোগেই ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয় চেক প্রজাতন্ত্র। ৬৯ মিনিটে অ্যাডাম হ্লোজেকের পাস পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোল করেন জিরি স্লামা। ২-১ হয়ে যাওয়ার পর স্পেনের রক্ষণে আরও কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়। ৭২ মিনিটে তো গোলরক্ষক দাভিদ রায়া এগিয়ে থাকার সুযোগে লিংরের দূরপাল্লার শট প্রায় ২-২ করেই ফেলেছিল। শেষ মুহূর্তে ফিরে এসে বলটি ঠেকান রায়া।
এরপর ম্যাচে নাটক যোগ হয় আরও। ৭৯ মিনিটে রায়ার হাত ফসকে যাওয়া বলে রায়ান নাদেরি জালে বল পাঠালেও গোলটি বাতিল হয় লে নরমঁর ওপর ফাউলের কারণে। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হলুদ কার্ড দেখেন চেক অধিনায়ক ক্রেইচি। ছয় মিনিট পর ফার্নান্দেজকে থামাতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে মাঠও ছাড়তে হয় তাঁকে। ১০ জনের চেক প্রজাতন্ত্রের লড়াই তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত ৮৯ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্যও পুরোপুরি নিশ্চিত করে স্পেন। ভিক্টর মুনোজের শট চেক গোলকিপার ঠেকিয়ে দিলে ফিরতি বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো।
এই জয়ে নেশনস লিগের ‘এ’ লিগের গ্রুপ ৩-এ তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকল স্পেন। ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইংল্যান্ড, ৩ পয়েন্ট নিয়ে ক্রোয়েশিয়া তৃতীয়। চেক প্রজাতন্ত্র এখনও কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি।