রুনি ও রোনালদো যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে
রুনি ও রোনালদো যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে

রোনালদো যা করেছেন ‘সব দিক থেকেই ভুল’, বললেন রুনি

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ওয়েইন রুনির সম্পর্কটা একসময় ছিল সতীর্থের। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে একসঙ্গে খেলেছেন পাঁচ বছর, জিতেছেন তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেই রুনিই এবার পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে রোনালদোর দল ছাড়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, রোনালদো যা করেছেন, তা ‘সব দিক থেকেই ভুল’।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাইলেও কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে নিজের তুলনাও টানেন। রোনালদোর এই আচরণ ভালোভাবে নেননি রুনি।

‘দ্য ইউনাইটেড স্ট্যান্ড’ অনুষ্ঠানে রুনি বলেন, ‘রোনালদোকে নিয়ে আমার মনে শুধু একটা প্রশ্ন—কেন? যেদিন (লিওনেল) মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায় নিচ্ছিল, সেদিন পর্তুগাল দল থেকে এভাবে বেরিয়ে আসা, এরপর ওই বিবৃতি দেওয়া—সব দিক থেকেই ভুল।’

রোনালদোর আচরণে কোচ, সতীর্থ ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি অসম্মান দেখেছেন রুনি। তাঁর ভাষায়, ‘কোচকে খাটো করা, সতীর্থদের খাটো করা, যেভাবে সে করেছে, তা একেবারেই ভুল। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে খাটো করা—সবকিছুই ভুল ছিল।’

২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে ইউনাইটেডে একসঙ্গে খেলেছেন রুনি ও রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে ২০০৯ সালে ইউনাইটেড ছাড়েন রোনালদো। রুনি ক্লাবটি ছাড়েন আরও আট বছর পর।

দীর্ঘদিনের সেই সতীর্থের এমন আচরণ রুনির কাছে হতাশাজনক বলেই মনে হয়েছে। খেলা ছাড়ার পর কোচিংয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা রুনি যোগ করেন, ‘ফুটবলের দৃষ্টিকোণ থেকে, একজন সতীর্থ ও কোচের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি দেখতে ভালো লাগেনি। প্রত্যেক খেলোয়াড়কেই একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সে বিষয়টি রোনালদো ভালোভাবে সামলাতে পারছে না। ব্যাপারটা দেখতে অস্বস্তিকর।’

২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ইউনাইটেড ও রিয়ালের হয়ে মুখোমুখি হন রুনি ও রোনালদো

রোনালদোর বিবৃতির একটি অংশ নিয়েও আলাদাভাবে বলেছেন রুনি। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে কোচের তাঁর সম্পর্কে কী বলা উচিত ছিল, সেটি উল্লেখ করেছিলেন রোনালদো। রুনির মতে, একজন কোচ কী বলবেন, তা খেলোয়াড় ঠিক করে দিতে পারেন না, ‘আপনি একজন কোচকে বলতে পারেন না, তাঁকে কী বলতে হবে। আমি এখন পর্যন্ত যা কিছু দেখেছি, এটা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’