
মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের জন্য নির্ধারিত ইরানের অনুশীলন ভেন্যুর কাছে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে এই রোমহর্ষ ঘটনাটি ঘটল।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গ্রুপ পর্বে নিজেদের সব কটি ম্যাচ খেলবে ইরান। প্রস্তুতি সারতে মেক্সিকোর কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছে ইরান ফুটবল দল। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকেরা জানান, স্টেডিয়ামটির ঠিক উল্টো দিকে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে ক্যালিফোর্নিয়ার নম্বরপ্লেট–সংবলিত একটি ধূসর রঙের টয়োটা এসইউভি গাড়ি রাখা ছিল। পুলিশ গিয়ে সেটির পেছনের ডালা (ট্রাংক) খুললে লাশটি বেরিয়ে আসে। সাদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরা অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞরা লাশটি সরিয়ে নেওয়ার আগে গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
তিহুয়ানার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, পুলিশের একটি টহল দল প্রথমে লাশটির সন্ধান পায়। কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘গাড়ি তল্লাশি করার সময় পেছনের ডালায় কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো এক ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’ গাড়িটি গত বুধবার সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
কয়েক দিন ধরে এই শহরের তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। দিনভর তীব্র রোদের কারণে লাশটিতে দ্রুত পচন ধরে।
মেক্সিকোতে শক্তিশালী মাদক চক্রগুলোর দাপট রয়েছে এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হার থাকা দেশগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তঘেঁষা তিহুয়ানা শহরটির অপরাধের জন্য কুখ্যাতি আছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেখানে ১ হাজার ২০০টির বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে আগে থেকেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। দলটির প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বেজক্যাম্প করার কথা থাকলেও দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের কারণে পরে তা মেক্সিকোয় স্থানান্তর করা হয়।
মেক্সিকোতে যাওয়ার পর থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে ইরানের ফুটবল দল। সশস্ত্র সেনারা তাদের হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে আনা-নেওয়া করছেন। গতকাল স্টেডিয়াম থেকে লাশটি সরিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় কড়া নিরাপত্তায় ফুটবলারদের বহনকারী গাড়িবহর ভেন্যু ত্যাগ করে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা জানতে এএফপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ইরান ফুটবল দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।