
অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও পরে জোড়া গোল করে দলের জয়ের নায়ক বনে যান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে। মেসি সর্বোচ্চ নম্বর পাচ্ছেন, সেটি তো বোঝাই যাচ্ছে। অন্যরা কেমন খেললেন,সেটি দেখে নিতে পারেন রেটিং থেকে।
ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট গোল ডটকমের রেটিং অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন নিচে তুলে ধরা হলো:
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ: ৬/১০
মার্সেল সাবিটসারের একটি চমৎকার ফ্রি-কিক দারুণভাবে রুখে দেওয়া ছাড়া পুরো ম্যাচে তাঁকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। পোস্টের নিচে বলতে গেলে বেশ নিশ্চিন্তেই সময় কেটেছে এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের।
নাহুয়েল মলিনা: ৬/১০
প্রতিবারের মতোই ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণের গতি বাড়াতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। তবে আক্রমণভাগের চেয়ে মলিনার রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ও নিচে নেমে ডিফেন্সকে সাহায্য করার মানসিকতা কোচ স্কালোনিকে বেশি স্বস্তি দেবে।
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো: ৬/১০
ম্যাচের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই প্রতিপক্ষের কড়া ট্যাকলে চোট পান। সেই চোট নিয়েই কিছুটা সময় খেললেও ঝুঁকি না নিয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৫৭ মিনিট মাঠে থেকে পাঁচটি ক্লিয়ারেন্স ও দুটি রিকভারি করেছেন তিনি।
লিসান্দ্রো মার্তিনেজ: ৭/১০
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার রক্ষণে ছিলেন এককথায় নিখুঁত। অস্ট্রিয়ান ফরোয়ার্ড মিখায়েল গ্রেগরিটশ ও তাঁর সতীর্থদের আক্রমণগুলো লিসান্দ্রো যেভাবে সামলেছেন, তাতে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে পুরো ম্যাচেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যময় দেখিয়েছে। ৯০ মিনিটে রক্ষণভাগে সাতটি ক্লিয়ারেন্স এবং একটি সফল ট্যাকল ছিল তাঁর ঝুলিতে।
ফাকুন্দো মেদিনা: ৭/১০
লেফট-ব্যাক পজিশনে দুর্দান্ত খেলেছেন মেদিনা। একদিকে যেমন রক্ষণ সামলাতে গিয়ে আগ্রাসী ও লড়াকু ফুটবল খেলেছেন, ঠিক তেমনি ম্যাচের জয়সূচক গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে অবদান রেখেছেন আক্রমণেও। এর মধ্যেই একটি হলুদ কার্ড দেখায় ম্যাচের শেষ দিকে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাকে তুলে নেওয়াটাই ছিল কোচের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত।
রদ্রিগো দি পল: ৭/১০
ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তৈরির কাজটা বেশির ভাগ সময় তিনিই করেছেন, চষে বেড়িয়েছেন পুরো মাঠ। ৮২ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থেকে আক্রমণভাগেই ৫৯ বার বল টাচ করেছেন তিনি। আর পুরো ম্যাচে তাঁর পাসের নিখুঁততা ছিল ৯০ শতাংশ।
আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার: ৭/১০
রক্ষণভাগকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি পেছন থেকে বলের জোগান সচল রাখার কাজটি বেশ ভালোভাবেই করেছেন। যদিও তাঁর দু-একটি ট্যাকল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তারপরও ফাইনাল থার্ডে নয়টি সফল পাস এবং দুটি লং বল দিয়ে আক্রমণে দারুণ অবদান রাখেন তিনি।
এনজো ফার্নান্দেজ: ৬/১০
তাঁর বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকেই আর্জেন্টিনা ম্যাচের পেনাল্টিটি আদায় করে নেয়। ম্যাচের শেষভাগে আক্রমণভাগের কয়েকটি ভালো সুযোগের শতভাগ ফায়দা তুলতে না পারলেও মাঠজুড়ে তাঁর ওয়ার্ক-রেট (পরিশ্রম) ছিল এককথায় অসাধারণ।
লিওনেল মেসি: ৯/১০
শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও তার খেসারত দিতে হয়নি দলকে। জোড়া গোল করে দলকে এনে দিয়েছেন দারুণ জয়। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সর্বোচ্চ আটবার বল টাচ করেছেন, গোলমুখে নিয়েছেন সর্বোচ্চ সাতটি শট।
লাওতারো মার্তিনেজ: ৬/১০
অস্ট্রিয়ান ডিফেন্স ভেঙে ভেতরে ঢোকার দুর্দান্ত এক রান নেওয়ার কারণেই মূলত পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। তবে এরপর পুরো ম্যাচে তাঁকে আর গোল করার মতো তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ পেতে দেখা যায়নি।
থিয়াগো আলমাদা: ৭/১০
মেসির প্রথম গোলটির সময় আলমাদার ‘ডামি’ করাটা (বল না ছুঁয়ে চতুর কৌশলে ছেড়ে দেওয়া) ছিল স্রেফ জিনিয়াসের কাজ। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের তটস্থ রেখেছেন তিনি। তাঁর ৩৮টি পাসের মধ্যে ৩৩টিই সতীর্থদের কাছে সফলভাবে পৌঁছেছে।