কার্লোস এস্পি
কার্লোস এস্পি

মরিনিওর প্ল্যান ‘বি’: রিয়ালে এমবাপ্পে–ভিনিদের সতীর্থ কে এই এস্পি

বাংলাদেশে ‘এস্পি’ শব্দটি শুনলে পুলিশের বড় কর্মকর্তার পদের কথা মনে পড়তে পারে। ফুটবল মাঠে কার্লোস এস্পির যে কাজ তাতে তাঁর দায়িত্বটা খুব একটা আলাদা নয়। অপরাধী খুঁজতে পুলিশ যেমন বিভিন্ন জায়গা চষে বেড়ায়—২১ বছর বয়সী এস্পিকেও তেমনই গোলের খোঁজে চষে বেড়াতে হয় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ।

এখন থেকে এস্পিকে সেই কাজটা করতে হবে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে। লেভান্তে থেকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে তাঁকে দলে ভেড়ানোর বিষয়টি গতকালই নিশ্চিত করে মাদ্রিদের ক্লাবটি।

স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানায়, রিয়াল তাঁকে ‘বিদ্যুৎগতি’তে দলে টেনেছে। কারণ? প্রতিভার ছটা তো আছেই। লা লিগায় গত মৌসুমে ১১ গোল করা এস্পি অনূর্ধ্ব–২৩ বছর বয়সীদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় হন।

রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও

পাশাপাশি গঞ্জালো গার্সিয়াকে যেহেতু ফুলহামের কাছে ছাড়তে হচ্ছে, তাই কিলিয়ান এমবাপ্পের পেছনে খেলাতে একজন ‘নাম্বার নাইন’ ফরোয়ার্ড দরকার রিয়ালের। নতুন কোচ জোসে মরিনিওর সবুজ সংকেত পাওয়ার পর রিয়াল তাই দেরি করেনি। মার্ক কুকুরেয়া, ডেনজেল ডামফ্রিজ, বের্নার্দো সিলভা ও ইব্রাহিম কোনাতের পর এ মৌসুমে এটি রিয়ালের পঞ্চম সাইনিং।

এএসের প্রতিবেদনের ভাষায়, পুরো চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আগেই চলছিল। এর মধ্যে লেভান্তেকে রিয়াল মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়, তারা তরুণ এই স্ট্রাইকারের ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করতে প্রস্তুত। এরপর লেভান্তেও দলবদলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের কথা জানার পর কয়েকটি প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা স্থগিত করে দেন এস্পি। মেডিক্যাল পরীক্ষার মুখোমুখি হতে আজই তাঁর মাদ্রিদে পৌঁছানোর কথা। লেভান্তের একাডেমি থেকে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড় এখন এস্পি।

কে এই এস্পি

স্পেনের পূর্বাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ভ্যালেন্সিয়ান কমিউনিটিতে জন্ম এস্পির। লেভান্তের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর ক্লাবটির মূল দলে অভিষেক ২০২৪ সালে।

লেভান্তে তখন দ্বিতীয় বিভাগে। সেই মৌসুমে ৩৬ ম্যাচে ৬ গোল করে লেভান্তের লা লিগায় ফেরায় ভালো ভূমিকা ছিল এস্পির। সব মিলিয়ে লেভান্তের হয়ে তিন মৌসুমে ৬৬ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল। স্পেনের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ও অনূর্ধ্ব–২০ দলে খেলেছেন এস্পি।

রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ড আলভারো মোরাতার সঙ্গে এস্পির খেলার ধরনে বেশ মিল আছে। উচ্চতাও দুজনের প্রায় সমান। এস্পি তাঁর ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা কাজে লাগিয়ে হেডে গোল করতে বেশ ভালো। প্রতিপক্ষের বক্সে ‘পোচার’ ফরোয়ার্ডদের কাতারে তাঁর নামটা আসে। অপ্টার পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, লা লিগায় গত মৌসুমে ন্যূনতম ১০ গোল করা খেলোয়াড়দের মধ্যে হেডে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৩৬.৪ শতাংশ) গোল এস্পির।

লা লিগায় ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত মৌসুমে লেভান্তের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলও তাঁর। বেশির ভাগ সময়েই বেঞ্চ থেকে নেমে গোল করেছেন। অভিষেকের পর লা লিগায় মাত্র দুটি ম্যাচে একাদশের হয়ে খেলেছেন।

এস্পি যেভাবে মরিনিওর প্ল্যান ‘বি’ হতে পারেন

রিয়াল কোচ মরিনিওর প্রতিপক্ষের বক্সে দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী সেন্টার-ফরোয়ার্ডের প্রয়োজন পড়লে ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে কাজে আসবেন এস্পি। রিয়ালের সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোয় গঞ্জালো গার্সিয়া ও হোসেলুকে একইভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এনদ্রিকের মতো ফরোয়ার্ডদের চেয়ে এস্পির খেলার ধরন বেশ ভিন্ন।