লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল, আর্লিং হলান্ড, মোহাম্মদ সালাহ—বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে এই ফুটবলাররা যে বিশ্বকাপে খেলছেন, তা প্রায় সবারই জানা।
আবার নেইমার, এস্তেভাও, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোসহ বেশ কিছু ফুটবলার দলে জায়গা পাচ্ছেন কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।
এ ছাড়া খেলাটা যেহেতু দলীয়, কোন দেশ কেমন দল গড়ছে, রক্ষণে, মাঝমাঠে ও আক্রমণে সবচেয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড কারা কাদের নিয়ে গড়ছে, তা জানার আগ্রহ আছে অনেকের।
কিন্তু কবে জানা যাবে ৪৮টি দলের স্কোয়াড কোনটি কেমন?
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। ঠিক এক মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক দল জমা দেওয়ার কাজ। তবে কৌতূহলীদের জন্য দুঃখজনক খবর হচ্ছে, এই প্রাথমিক দলে কোন দেশ কাকে কাকে রেখেছে, সেটি পুরোপুরি তাঁরা জানতে পারবেন না। যদি না সংশ্লিষ্ট দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।
পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যাক। বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড ঘোষণার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তারিখ আছে।
দলগুলোকে ১১ মের মধ্যে ফিফার কাছে একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হবে। এই দলে সর্বনিম্ন ৩৫ জন থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ জন খেলোয়াড় রাখা যাবে। প্রাথমিক দলে বাধ্যতামূলকভাবে চারজন গোলকিপার রাখতে হবে।
এই লম্বা তালিকাটি টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্য খেলোয়াড়দের দাপ্তরিক পুল হিসেবে কাজ করবে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চোটের কারণে কোনো খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই এই তালিকা থেকেই নিতে হবে।
প্রাথমিক এই তালিকাটি দলগুলো চাইলে প্রকাশ করতে পারবে, তবে ফিফা এটি প্রকাশ করবে না। কারণ, বিশেষ ক্ষেত্রে এবং চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার আগপর্যন্ত প্রাথমিক তালিকায় পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে।
খেলোয়াড়েরা এখন নিজ নিজ ক্লাবের সঙ্গে আছেন। বিশ্বকাপের জন্য এই খেলোয়াড়দের ২৫ মের মধ্যে জাতীয় দলের জন্য ছেড়ে দিতে হবে ক্লাবগুলোকে। তবে যেসব খেলোয়াড় উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (৩০ মে), উয়েফা কনফারেনস লিগ (২৭ মে) এবং কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের (৩০ মে) ফাইনালে খেলবেন, ফিফার অনুমোদন সাপেক্ষে তাঁরা তত দিন পর্যন্ত ক্লাবে থাকতে পারবেন।
জাতীয় দলগুলো ২৫ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে ফিফার কাছে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা জমা দেবে। এই দলে সর্বনিম্ন ২৩ জন এবং সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় রাখা যাবে। চূড়ান্ত দলে অবশ্যই তিনজন গোলরক্ষক থাকতে হবে।
ফিফা জানিয়েছে যে দলগুলো তাদের ‘প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে গুরুতর আঘাত বা অসুস্থতার কারণে’ খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে পারবে, তবে সেই খেলোয়াড়ের নাম অবশ্যই প্রাথমিক তালিকায় থাকতে হবে। প্রাথমিকে না থাকা কেউ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন না।
জুনের ২ তারিখে ৪৮টি দলের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশ করবে ফিফা। তবে দলগুলো চাইলে এর আগে যেকোনো সময় তাদের খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করতে পারবে। তবে ২ জুন ফিফা কর্তৃক নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো অফিশিয়াল হিসেবে গণ্য হবে না।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলো চাইলে আগেভাগে বিশ্বকাপের প্রাথমিক বা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারবে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সব দলই স্কোয়াড ঘোষণা করবে কি না, আপাতত অজানা। তবে কয়েকটি দেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ জানা গেছে।
যেমন পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা হতে পারে ১৮ মে। এর পরদিনই রোনালদোদের দল পর্তুগালের স্কোয়াড ঘোষণা করার কথা রয়েছে। ২১ মে ঘোষণা করা হবে জার্মানির বিশ্বকাপ দল। আর ২২ মে দল ঘোষণা করবে ইংল্যান্ড।
ফেবারিটদের মধ্যে থাকা স্পেন অবশ্য দল ঘোষণায় দেরি করতে পারে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, লামিনে ইয়ামালের চোট সমস্যা থাকায় কোচ দে ফুয়েন্তে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য ১ জুন পর্যন্ত সময় নিতে পারেন।
অবশ্য গতবারের রানার্সআপ ও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের ১৩ মে–তেই প্রাথমিক দল ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোন তারিখে দল ঘোষণা করতে পারে, তা অবশ্য এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।