কখনো কখনো নিজের ব্যর্থতাও হয়তো আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে!
জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের যেমন এখন। সুইডেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ক্লাব ফুটবলে একের পর এক শিরোপা জিতেছেন, ইউরোপের বড় বড় লিগে গোলের পর গোল করেছেন। অথচ বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর নামের পাশে কোনো গোল নেই। দুই বিশ্বকাপ খেলেও জালের দেখা পাননি একবারও। সেই পরিসংখ্যানই এবার টেনে আনলেন ইব্রাহিমোভিচ। তবে আক্ষেপে নয়; বরং লিওনেল মেসির সাফল্যে মুগ্ধ হয়ে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২–০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন মেসি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষেও করেছিলেন হ্যাটট্রিক। ২ ম্যাচে ৫ গোল করা আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে নিয়ে ফক্স স্পোর্টসে কথা বলতে গিয়ে নিজের বিশ্বকাপ-ব্যর্থতাকেই যেন হাসিমুখে মেনে নিলেন ইব্রা।
শুরুতে পেনাল্টি মিস করার পরেও ২ গোল করে ম্যাচ জেতানো—মেসিকে নিয়ে ইব্রাহিমোভিচ বললেন, ‘এটা নিয়ে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। মাঝেমধ্যে পেনাল্টি মিস করে বলেই তাকে মানুষ মনে হয়, আবার কিছু মুহূর্তে তাকে মানুষ মনে হয় না। এটাই মেসি। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপটা তারই।’
এরপরই মেসির গোল–সংখ্যার সঙ্গে নিজের তুলনা টানেন সুইডিশ কিংবদন্তি, ‘সে এখনো জর্ডানের বিপক্ষে খেলেনি, তাই জানি না শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে। ২ ম্যাচে তার ৫ গোল। আর আমি দুই বিশ্বকাপ খেলেও গোল করতে পারিনি। তাই আমি খুশি, তার জন্য খুবই খুশি।’
সুইডেনের হয়ে ১২২ ম্যাচে ৬২ গোল করা ইব্রা ২০০২ ও ২০০৬ মিলিয়ে মোট ৫ ম্যাচ খেলেছিলেন। মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বার্সেলোনায় খেলেছিলেন ইব্রা। সাবেক সতীর্থকে বিশ্বকাপে সাফল্যের ফোয়ারা ছোটাতে দেখে ভীষণ মুগ্ধ সুইডিশ তারকা।
৪৪ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার মেসির জন্মদিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি চাই, সে এভাবেই এগিয়ে যাক। কয়েক দিনের মধ্যে তার জন্মদিন। তাকে উপভোগ করতে দিন। আসলে আমরা সবাই তাকে খেলতে দেখে উপভোগ করছি। অসাধারণ, সত্যিই অসাধারণ। তাকে নিয়ে বলার মতো ভাষা নেই।’