সিডনিতে অনুশীলনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল
সিডনিতে অনুশীলনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল

নারী এশিয়ান কাপ: বাংলাদেশের কোন প্রতিপক্ষ কেমন

১ মার্চ শুরু হয়েছে এএফসি এশিয়ান কাপ, দুই দিন পর আগামীকাল বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের প্রথম ম্যাচ। নিজেদের ইতিহাসে এবারই প্রথম মহাদেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলছে বাংলাদেশ।

প্রথমবারেই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়াকে। আছে পাঁচবার এশিয়ান কাপে খেলা উজবেকিস্তানও। আফঈদা খন্দকার, ঋতুপর্ণা চাকমাদের কোন ম্যাচের প্রতিপক্ষ কেমন, সেটিই আরেকটু সবিস্তারে জেনে নেওয়া যেতে পারে এখান থেকে।

চীন

ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ১৭
অংশগ্রহণ: ১৫ বার
সর্বোচ্চ সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (৯ বার)  
সর্বশেষ আসরের ফল: চ্যাম্পিয়ন
এবারের আসরে যেভাবে: ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ: ৩ মার্চ

চীন এএফসি এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সবচেয়ে বেশিবারের চ্যাম্পিয়নও। এবারও যে দলটি শিরোপা ফেবারিট এবং এ লক্ষ্যেই মাঠে নামছে, তা সহজেই অনুমেয়। ২০২২ আসরের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩–২ ব্যবধানে হারানো দলটি এবার খেলছে আন্তে মিলিচিচের অধীনে।

চীন এবারের আসরের অন্যতম শিরোপার দাবিদার

মিলিচিচ একসময় অস্ট্রেলিয়া নারী দলের প্রধান কোচ ছিলেন। টুর্নামেন্টটি অস্ট্রেলিয়ায় হচ্ছে বলে কোচের অভিজ্ঞতার সুবিধা তো চীনের খেলোয়াড়েরা পাবেনই, সঙ্গে দেশটিতে থাকা চীনাদের সমর্থনও থাকবে গ্যালারিতে। এ বিষয়ে চীনের অস্ট্রেলিয়ান কোচ বলেন, চীনের এখনকার দলের মেয়েরা তাদের নিজেদের ইতিহাস গড়তে চায়। সিডনিতে বড় হওয়ার সুবাদে আমি জানি এখানকার চীনা কমিউনিটি কতটা শক্তিশালী। তবে খেলোয়াড় এবং স্টাফ হিসেবে এটা আমাদের ওপরও নির্ভর করে, যেন আমরা তাদের গর্বিত করতে পারি এবং ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারি, যাতে তারা স্টেডিয়াম থেকে খুশি মনে ফিরতে পারে।’

গত বছর এএফসি আয়োজিত প্রথম নারী চ্যাম্পিয়নস লিগে শিরোপা জিতেছিল চীনের ক্লাব উহান জিয়াংদা উইমেন্স এফসি। সেই দলটির তিন মূল খেলোয়াড় ওয়াং শুয়াং, উ হাইয়ান এবং ইয়াও ওয়েই জাতীয় নারী দলেরও মূল খেলোয়াড়।

‘বি’ গ্রুপের খেলায় চীনের তিন প্রতিপক্ষের মধ্যে উত্তর কোরিয়াই তাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চীনের প্রধান লক্ষ্য পরিষ্কার—এশীয় ফুটবলের শিরোপা ধরে রাখা।

উত্তর কোরিয়া

ফিফা র‍্যাঙ্কিং:
অংশগ্রহণ: ১০ বার
সর্বোচ্চ সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন (২০০১, ২০০৩, ২০০৮)  
সর্বশেষ আসরের ফল: অংশগ্রহণ করেনি
এবারের আসরে যেভাবে: বাছাইয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ: ৬ মার্চ

টুর্নামেন্টের শিরোপার অন্যতম দাবিদার উত্তর কোরিয়া। ২০১০ আসরে রানার্সআপ হওয়া দলটি সর্বশেষ তিন আসরে খেলেনি। একবার নিষেধাজ্ঞায়, আরেকবার বাছাই উতরাতে না পারায় আর সর্বশেষবার নিজেরাই নাম প্রত্যাহার করায়। তবে দেড় দশকের বিরতি পড়ে গেলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই অন্যদের সামনে হাজির হচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের নবম স্থানে দলটি বাছাইপর্বের গ্রুপ 'এইচ' পেরিয়েছে খুব সহজেই। তাজিকিস্তান ও ফিলিস্তিনকে ১০-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার পর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় ছিল ৬-০ গোলে। দলের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন কিম কিয়ং ইয়ং, যিনি তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে চারটি এবং মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনের বিপক্ষে জয়ে মিয়ং ইউ জং করেন চারটি গোল।

২০২৪ সাল থেকে নারী ফুটবলে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব ২০ উইমেন্স এশিয়ান কাপ তো জিতেছেই, ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ উইমেন্স  বিশ্বকাপও জিতেছে উত্তর কোরিয়ার বয়সভিত্তিক দলগুলো। ২০২৫ সালে  ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপও জিতেছে উত্তর কোরিয়া, যাদের মধ্যে কয়েকজন খেলোয়াড়কে এরই মধ্যে জাতীয় দলে নিয়ে আসা হয়েছে।

উজবেকিস্তান

ফিফা র‍্যাঙ্কিং: ৪৯
অংশগ্রহণ: ৫ বার
সর্বোচ্চ সাফল্য: গ্রুপ পর্ব
সর্বশেষ আসরের ফল: অংশগ্রহণ করেনি
এবারের আসরে যেভাবে: বাছাইপর্বে গ্রুপ 'এফ' চ্যাম্পিয়ন হিসেবে
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ: ৯ মার্চ

২০০৩ সালের পর আবার এশিয়ান কাপে ফিরেছে উজবেকিস্তান। কখনো গ্রুপ পর্ব উতরাতে না পারা দলটির এবারের লক্ষ্য নকআউট। বাছাইপর্বে কঠিন পথই পাড়ি দিতে হয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশটিকে। ‘এফ’ গ্রুপে শীর্ষ স্থানের জন্য নেপালের সঙ্গে রীতিমতো ‘যুদ্ধজয়’ করতে হয়েছে তাদের।

দুই দলই সমান ৭ পয়েন্ট, একই গোল ব্যবধান এবং এমনকি গোল করা (২০টি) ও গোল খাওয়ার (৩টি) সংখ্যাতেও সমান অবস্থানে গ্রুপ পর্ব শেষ করে। যে কারণে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই তাসখন্দের মিলি স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপের টিকিট নির্ধারিত হয় পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে। সেই শুটআউটে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ৪–২ ব্যবধানে জিতে অস্ট্রেলিয়ার টিকিট কাটে উজবেকিস্তান।

লিথুয়ানিয়ান কোচ কোট্রিনা কুলবাইটের অধীনে উজবেকিস্তান এশিয়ান কাপেও শুরু থেকে চাপে থাকবে। প্রথম ম্যাচ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তরে কোরিয়ার বিপক্ষে, পরেরটিতে প্রতিপক্ষ চীন। প্রথমবার এশিয়ান কাপে আসা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে। উজবেকিস্তানের সাফল্যের অনেকখানি নির্ভর করছে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় লিউডমিলা কারাচিক, ডিয়োরাখোঁ হাবিবুল্লায়েভা এবং মাফতুনা শোইমোভার ওপর।