
সিডনির ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে তখন সকালের নরম রোদ। দীর্ঘ বিমানভ্রমণের ক্লান্তি কাটার আগেই মাঠে নেমে পড়লেন আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। হাতে সময় কম, সামনে হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে নামছে বাংলাদেশ। সিডনির প্রবাসী বাঙালিদের জন্যও এ যেন এক উৎসবের উপলক্ষ। প্রিয় লাল-সবুজ জার্সিতে বাংলাদেশের মেয়েদের খেলা মাঠে বসে দেখার সুযোগ এসেছে তাদের সামনে।
১ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ৩ শহরের ৫ ভেন্যুতে বসবে এশিয়ান কাপের এ আসর। বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমবারের মতো খেলবে এই টুর্নামেন্টে।
সিডনির প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও এটা শুধুই একটা টুর্নামেন্ট নয়, এ যেন বিদেশের মাটিতে ‘এক টুকরো বাংলাদেশ’ খুঁজে পাওয়ার উৎসব। বাফুফের অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি আবদুল খান রতন জানিয়েছেন, ২০ ডলারের টিকিটের জন্য এরই মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। মাঠে যেন প্রবাসীরা স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন, সে জন্য নামাজের জায়গাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। ৩ মার্চ দলের কর্মকর্তাসহ সবাইকে নিয়ে বড় ধরনের আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে তাঁদের।
সিডনির স্থানীয় সাংবাদিক নাইম আবদুল্লাহর চোখে এটি কেবল ফুটবল ম্যাচ নয়; বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নারীশক্তির উত্থানের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর ভাষায়, ‘সিডনি আর পার্থের মাঠে আমাদের লাল-সবুজ পতাকা উড়বে, এই দৃশ্য দেখার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’
তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও বইছে উত্তেজনার ঢেউ। সিডনিপ্রবাসী তরুণ ফাহিম ফয়সাল তো বন্ধুদের নিয়ে টিকিট কেটে তৈরি। রোমাঞ্চ নিয়ে বললেন, ‘আমরা টিকিট সংগ্রহ করেছি। বন্ধুদের নিয়ে মাঠে গিয়ে চিৎকার করে দলকে সমর্থন দেব। আমাদের বিশ্বাস, মেয়েরা অস্ট্রেলিয়ার মাঠেও গর্জে উঠবে।’
ফুটবল অনুরাগী আরিশা আকতারের কথাটিই যেন সবার মনের কথা, ‘মেয়েরা যখন মাঠে নামবে, স্টেডিয়াম তখন এক টুকরো বাংলাদেশ হয়ে উঠবে। তাদের প্রতিটি আক্রমণ আমাদের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেবে।’
৩ মার্চ, মঙ্গলবার সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ভেন্যুটি সেদিন হয়তো হয়ে উঠবে এক মিনি ঢাকা। এরপর ৬ মার্চ একই মাঠে উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লড়বে লাল-সবুজের দল।