স্পেনের জার্সি গায়ে রদ্রি
স্পেনের জার্সি গায়ে রদ্রি

কেন রদ্রিকে কিনতে চাইছে রিয়াল মাদ্রিদ

কদিন আগেই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন। স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি এবার দলবদলের বাজারে আলোচনায়, ম্যানচেস্টার সিটি থেকে পাড়ি জমাতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদে।

মাদ্রিদভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, রিয়াল ও রদ্রির মধ্যে বেতন–ভাতা ও অন্যান্য বিষয়সংক্রান্ত সমঝোতা হয়েছে। এখন রিয়াল ও সিটির মধ্যে সমঝোতা হলেই কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের সতীর্থ হিসেবে দেখা যেতে পারে এই ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রদ্রিকে কেন চাইছে রিয়াল মাদ্রিদ?

বিশ্বকাপে স্পেনের জার্সি গায়ে রদ্রি

রদ্রির বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সটা যে এখানে বড় ভূমিকা রাখছে, সেটি না বললেও চলে। কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও রদ্রি কেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন, সেটা বুঝতে পারলেই রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহের কারণ বোঝা যায়। পুরো বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত খেলেছেন রদ্রি। তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাঁর খেলা আলাদা করে চোখে পড়েছে।

রদ্রি নিজেও রিয়ালের হয়ে খেলার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন গত মার্চে। বলেছিলেন, অবশ্যই একদিন তিনি লা লিগায় ও মাদ্রিদে ফিরতে চান। তখনই বলেছিলেন, একসময় আতলেতিকোর হয়ে খেলাটা তাঁর রিয়ালে খেলার পথে বাধা নয়। কারণ, অনেক খেলোয়াড়ই আছেন, যাঁরা মাদ্রিদের দুই ক্লাবেই খেলেছেন। ২০১৯ সালে সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে রদ্রি আতলেতিকো মাদ্রিদে খেলতেন।

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে রদ্রি

মাদ্রিদের সংবাদমাধ্যম বলছে, রিয়ালের নতুন কোচ হিসেবে জোসে মরিনিও দায়িত্ব নেওয়ার পর একজন মিডফিল্ডার খুঁজছেন। বিশ্বকাপজয়ী রদ্রিকেই এখন সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে ভাবা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক বলছে, রদ্রিকে নিয়ে শুরুতে মরিনিও বা রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আগ্রহ না দেখালেও বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের পর মনোভাব বদলেছে।

রিয়ালের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে অঁরেলিয়া চুয়ামেনি ও এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গারা থাকলেও আরও একটি বড় নাম চাইছে ক্লাবটি। চুয়ামেনি বিশ্বকাপে ফ্রান্স দলের একাদশে জায়গা করে নিতে পারলেও তাঁর ফ্রেঞ্চ সতীর্থ কামাভিঙ্গা স্কোয়াডেই জায়গা পাননি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম বলছে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর মাদ্রিদে আরও স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের উপস্থিতিটা জোরালোভাবে চাইছেন রিয়ালের কর্তারা। মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, এই বিশ্বকাপে স্পেন দলে রিয়ালের একজন খেলোয়াড়ও ছিলেন না। বিশ্বকাপজয়ী লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেয়া গত মৌসুমে ছিলেন চেলসিতে, বিশ্বকাপের মাঝপথে তাঁকে দলে নিয়েছে রিয়াল।

রদ্রির চুক্তির বর্তমান অবস্থাও রিয়ালের তাঁকে দলে নেওয়ার কারণ হতে পারে। সামনের বছরেই ম্যান সিটির সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে রদ্রির। পরের বছর রদ্রিকে বিনা মূল্যে ছেড়ে দেওয়ার আগে এই বছরেই ম্যান সিটি তাঁর জন্য ভালো দাম পেলে ছেড়ে দিতে পারে। নতুন করে সিটির সঙ্গে চুক্তি নিয়েও এখন পর্যন্ত খুব আগ্রহ দেখাননি রদ্রি। আবার কিছুদিন আগেই ১১.৬ কোটি পাউন্ড দিয়ে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে নিয়ে এসেছে সিটি, যিনি খেলতে পারেন মধ্যমাঠের যে কোনো পজিশনে। যদিও ম্যান সিটির নতুন কোচ এনজো মারেসকা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছেন, রদ্রি তাঁর পরিকল্পনায় খুব ভালোমতোই আছেন।

রদ্রি যেখানেই খেলেন না কেন, পিঠের চোটের জন্য তাঁকে বেশ কিছুটা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে। ম্যান সিটি কোচ মারেসকাও বলতে পারছেন না, ঠিক কবে মাঠে দেখা যাবে দুই বছর আগে ব্যালন ডি’অর জেতা এই ফুটবলারকে।

তবে এখনো রদ্রিকে নিয়ে রিয়াল ও সিটির মধ্যে কোনো চূড়ান্ত কথা হয়নি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম বলছে, খুব শিগগিরই দুই ক্লাবের মধ্যে সংলাপ শুরু হতে পারে।