প্রেসবক্সে মাত্র একটি করে টেবিল আর চেয়ার। তাই দাঁড়িয়েই খেলা দেখতে হয়েছে সাংবাদিকদের
প্রেসবক্সে মাত্র একটি করে টেবিল আর চেয়ার। তাই দাঁড়িয়েই খেলা দেখতে হয়েছে সাংবাদিকদের

বাংলাদেশ ফুটবল লিগ

মাঠে শিরোপার লড়াই, বাইরে অপেশাদার আয়োজন

পেশাদার ফুটবলে মাঠের লড়াই যতটা উত্তেজনার, মাঠের বাইরের ব্যবস্থাপনা ঠিক ততটাই হতাশাজনক। আজ কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের অঘোষিত ‘ফাইনাল’ দেখতে এসে গণমাধ্যমকর্মীরা যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন, তাকে শুধু ‘বিড়ম্বনা’ বললে ভুল হবে। এটি ছিল চরম অব্যবস্থাপনা ও অপেশাদারত্বের উদাহরণ।

এর আগে কুমিল্লা স্টেডিয়ামে এসে সাংবাদিকেরা অন্তত কাজ করার মতো ন্যূনতম পরিবেশ পেতেন। চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু আজ আবাহনী-কিংসের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ছিল না কোনো সুযোগ–সুবিধাই। পুরো প্রেসবক্সে মাত্র একটি করে টেবিল আর চেয়ার।

ঢাকা থেকে আসা জনা কয়েক ক্রীড়া সাংবাদিক ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেই ম্যাচ কাভার করতে হয়েছে। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভ্যাপসা গরম। প্রেসবক্সের এসি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় সেখানে অবস্থান করা ছিল রীতিমতো দুঃসহ। গরমে সেদ্ধ হওয়ার মতো অবস্থায় যখন সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত, তখন পাশের ভিআইপি বক্সের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।

৯০ মিনিট কি এভাবে দাঁড়িয়ে খেলা দেখা সম্ভব!

প্রেসবক্সের ঠিক পাশেই ভিআইপি গ্যালারিতে দেখা গেল কর্মকর্তাদের আয়েশি উপস্থিতি। সেখানে আরামদায়ক চেয়ারে বসে তাঁরা খেলা উপভোগ করছেন। অথচ তাঁদের পাশেই গণমাধ্যমকর্মীরা ন্যূনতম সুবিধা না পেয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, সেদিকে কারও নজর নেই।

এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার জন্য বাফুফে, স্থানীয় জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা মাঠের স্বাগতিক দল আবাহনী লিমিটেডের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি; যেন সংবাদমাধ্যমের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা কারোরই দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে না।

বিশ্বজুড়ে পেশাদার লিগে ম্যাচ আয়োজনের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করে স্বাগতিক ক্লাব। কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টো। এখানে ক্লাবগুলো কেবল নামেই ‘পেশাদার’, কাজের বেলায় কোনো কিছুর খবর রাখার প্রয়োজন মনে করে না তারা। সামান্যতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কোনো মাথাব্যথা নেই তাদের। আর দেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাফুফেও এই নজরদারির ক্ষেত্রে চরম উদাসীন।

প্রেসবক্সের ঠিক পাশেই ভিআইপি গ্যালারিতে দেখা গেল কর্মকর্তাদের আয়েশি উপস্থিতি

অথচ আজকের ম্যাচের গুরুত্ব ছিল আকাশচুম্বী। বসুন্ধরা কিংস জিতলে তারা এক মৌসুম পর এক ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে। অন্যদিকে আবাহনী জিতলে তারা কিংসের চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে গিয়ে শিরোপার সুবাস পাবে।

শিরোপা নির্ধারণী এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণে মাঠের লড়াইয়ে রোমাঞ্চ থাকলেও মাঠের বাইরের এই লেজেগোবরে অবস্থা দেশের ফুটবল ব্যবস্থাপনার কঙ্কালসার রূপটিই আরেকবার উন্মোচিত করে দিল। এমন পরিবেশ চলতে থাকলে পেশাদার লিগের তকমা শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।