২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার এই দল কি বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারবে

লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করার পর থেকেই শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া-বিশ্লেষণ। কেমন হলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল, এই দল নিয়ে তারা কি শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারবে? স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে এই আর্জেন্টিনা দলের বেশ কিছু শক্তির দিক যেমন আছে, পাশাপাশি আছে কিছু শঙ্কার দিকও।

আর্জেন্টিনার এই দলের বড় শক্তি অভিজ্ঞতা। এই দলের বেশির ভাগ সদস্যের শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা আছে। লিওনেল মেসি ছাড়াও এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজের মতো তারকারা কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পথে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। এই খেলোয়াড়েরা এখন আরও পরিণত। ফলে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবারও একই দলটির ওপরই আস্থা রেখেছেন স্কালোনি। এখন তাঁদের প্রতিদান দেওয়ার অপেক্ষা।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আরেকটি শক্তি জায়গা তাদের বিশ্বসেরা মাঝমাঠ। অনেকের মতে, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো দি পল ত্রয়ী আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ডগুলোর একটি। বল দখল, প্রেসিং, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণসহ সব কটি জায়গাতেই মিডফিল্ড দারুণ শক্তিশালী।

আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানে এগিয়ে রাখবে তাদের বড় ম্যাচ জয়ের মানসিকতাও। গত কয়েক বছর আর্জেন্টিনা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করেছে। এর মধ্যে একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমার ট্রফি জিতেছে তারা। এবার বিশ্বকাপ জিতলে বৃত্ত পূরণ হবে দলটির। সাম্প্রতিক সময়ে বড় ম্যাচ জেতার মানসিকতা বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোয় কাজে লাগানোর সুযোগ আছে ‘আলবিসেলেস্তা’দের।

বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে বিমান থেকে নামছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনি

কৌশলের চেয়ে স্কালোনির বড় শক্তি দলকে একসঙ্গে রাখা। তাঁর ওপর খেলোয়াড়দের আছে অগাধ আস্থা। পাশাপাশি লিওনেল মেসির মতো সর্বকালের সেরাদের একজনের উপস্থিতিও দলকে বাড়তি জ্বালানি দেবে। বিশেষ করে এই বিশ্বকাপ দিয়েই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে চলেছেন মেসি। তাঁর বিদায় রাঙাতে নিশ্চিতভাবে উন্মুখ হয়ে থাকবেন সতীর্থরা।

২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণভাগও ছিল অনেক বেশি মেসি নির্ভর। তাঁকে ঘিরেই সাজানো হতো সব পরিকল্পনা। তবে এবার একাধিক বিকল্প খেলোয়াড় পেয়েছে দলটি। হুলিয়ান আলভারেজ, লাওতারো মার্তিনেজ, থিয়াগো আলমাদা, নিকো পাজ কিংবা হোসে ম্যানুয়েল লোপেজরা নিজেদের দিনে একাই ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দিতে পারেন।

ফেবারিট হিসেবে বিশ্বকাপে গেলেও আর্জেন্টিনার জন্য কিছু শঙ্কার দিকও আছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মেসির বয়স ও ফিটনেস ঘিরে। মেসি নিজের সেরা সময় পেছনে ফেলে এসেছেন। তাঁর বয়স ৩৮ পেরিয়ে গেছে। বিশ্বকাপের আগে তাঁর বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ ও ক্লান্তির খবর সামনে এসেছে। অনেক বিশ্লেষণেই বলা হচ্ছে, মেসি পুরো টুর্নামেন্টে শতভাগ ফিট না থাকলে আর্জেন্টিনার মান কমে যায়।

আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ বয়স ও চোটের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছে। বিকল্প থাকলেও অভিজ্ঞতায় ঘাটতি আছে। ফুলব্যাক পজিশন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এসব সমস্যা মাথার ব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। আনহেল দি মারিয়ার অভাবও বিশ্বকাপ যত গড়াবে, উপলব্ধি করতে পারবেন দলটি। তাঁর ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হবে আর্জেন্টিনার জন্য।

এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বীরা আগের চেয়ে শক্তিশালী। স্পেনের তরুণ দল দারুণ উজ্জীবিত, ফ্রান্সের স্কোয়াড বেশ গভীর, ইংল্যান্ডের মিডফিল্ড শক্তিশালী, ব্রাজিলও দারুণ গতিময়—সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে কঠিন। আর ১৯৬২ সালের পর আর কোনো দল টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। অর্থাৎ বিশ্বকাপ জেতার চেয়ে ধরে রাখা আরও কঠিন। তবে ইতিহাসের সেরা দলগুলোই পারে এই সব কাঠিন্যকে জয় করতে। ৬৪ বছর আগে পেলের ব্রাজিল তো পেরেছিল, এখন মেসির আর্জেন্টিনার পালা।