একেই হয়তো বলে কানের পাশ দিয়ে গুলি যাওয়া! কেপ ভার্দের বিপক্ষে কোনোমতে বেঁচে গেছে আর্জেন্টিনা। খেলতে হয়েছে ১২০ মিনিট, জিতেছে ৩–২ গোলে।
কেপ ভার্দে অবশ্যই ভালো খেলেছে, কিন্তু আর্জেন্টিনা কি নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছে? নিশ্চয়ই না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে এমন বোতলবন্দী হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে কী শিখতে পারে আর্জেন্টিনা?
গতি লাগবে আরও
সাধারণত উইঙ্গাররা মাঠের সাইডলাইন ধরে খেলেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার উইঙ্গাররা এক জায়গায় আটকে না থেকে মাঠের মাঝে বা যেকোনো জায়গায় চলে আসেন।
প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা যখন বল নিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেন, তখন তাঁরা বল কেড়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হন না। তাঁদের খেলায় গতিও কম। লিওনেল স্কালোনির দল এই কৌশলেই বিশ্বকাপ জিতেছে। তবে এতে ঝুঁকিও আছে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এমন এক রক্ষণভাগের মুখোমুখি হয়েছিল, যারা পাঁচজন ডিফেন্ডার দিয়ে পুরো রক্ষণভাগে তালা মেরে রেখেছিল। প্রথমার্ধে পানি পানের বিরতির আগপর্যন্ত আর্জেন্টিনা খেলার গতি বাড়ায়নি। শুধু এক পা থেকে অন্য পায়ে বল পাস দিয়ে গেছে। কড়া মার্কিং ও জমাট রক্ষণভাগের কারণে মেসি জ্বলে উঠতে পারেননি। এমনকি মেসির গোলের পরও খেলার গতি বাড়েনি। এ কারণেই দ্বিতীয়ার্ধে তাদের ভুগতে হয়েছে।
কেপ ভার্দে বুঝতে পেরেছিল পুরোপুরি রক্ষণাত্মক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তারা মাঠের দুই প্রান্তে ঘন ঘন ওপরে উঠে আসা মোলিনা ও মেদিনার পেছনে খালি জায়গা ব্যবহার করে আক্রমণ চালাতে থাকে। গোলও পেয়ে যায়। পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের গতির ওপর বাড়তি নজর দিতে হবে মেসির দলকে।
গো ফর দ্য কিল
১-০তে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার খেলা যেন আরও ধীরগতির হয়ে পড়েছিল। লিওনেল স্কালোনির দল আরও গোলের চেষ্টা করে ম্যাচের ভাগ্য দ্রুত ঠিক করে ফেলতে চেয়েছিল কি? উল্টো কেপ ভার্দের আক্রমণে দ্বিতীয়ার্ধের ১৩ মিনিটে গোল হজম করে।
অতিরিক্ত সময়ে ঠিক শুরুতেই সেট পিস থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের গোলে আবার লিড নেয় আর্জেন্টিনা। তা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের ভুলগুলোরই পুনরাবৃত্তি দেখা যায়, তৃতীয় গোলের জন্য কোনো প্রেসিং দেখা যায়নি।
কোনো প্রতিপক্ষই ছোট নয়
কেপ ভার্দে দেখিয়েছে কোনো দলকে ছোট করে দেখলে হবে না। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিসর। নামে–ভারে এই দলটাও যে অনেক বড় প্রতিপক্ষ তা বলা যাবে না। তবে মিসরকে হালকাভাবে নিলে চলবে না। অন্তত কেপ ভার্দে ম্যাচের শিক্ষা এটাই বলছে।