ইতিহাস বারবার তাঁদের কাছাকাছি এনেছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় মঞ্চে দুজনকে মুখোমুখি করেনি। প্রায় এক দশক স্পেনের লিগে খেলেছেন, এল ক্ল্যাসিকোর উত্তাপে একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, ব্যালন ডি’অর পালা করে জিতেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে কখনোই দেখা হয়নি লিওনেল মেসি–ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়তো সেই অপূর্ণতার অবসান ঘটাতে পারে। এবারের আসরের যে সূচি, তাতে আর্জেন্টিনা–পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার একাধিক পথ তৈরি হয়ে আছে। আর তেমনটা ঘটলে ৩৯ বছর বয়সী মেসি আর ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর ‘লাস্ট ড্যান্স’ বিশ্বকাপে দেখা যেতেই পারে।
গ্রুপ পর্বে মেসির আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’তে আলজেরিয়া (১৬ জুন), অস্ট্রিয়া (২২ জুন) এবং জর্ডানের (২৭ জুন) বিপক্ষে খেলবে। আর রোনালদোর পর্তুগাল গ্রুপ ‘কে’তে খেলবে ডিআর কঙ্গো (১৭ জুন), উজবেকিস্তান (২৩ জুন) এবং কলম্বিয়ার (২৭ জুন) বিপক্ষে।
কাগজে–কলমে দুটি গ্রুপই আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের জন্য বেশ অনুকূল। দুই দলেরই প্রত্যাশিত ফল গ্রুপসেরা হওয়া।
যদি আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’ এবং পর্তুগাল গ্রুপ ‘কে’ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে ওঠে, তাহলে মেসি–রোনালদোর দেখা হয়ে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সে ক্ষেত্রে শেষ বত্রিশ এবং শেষ ষোলোয় জিততে হবে দুজনের দলকেই। আর্জেন্টিনার জন্য সম্ভাব্য কঠিন বাধা হতে পারে শেষ বত্রিশে উরুগুয়ে। পর্তুগালের পথ অবশ্য কোয়ার্টার পর্যন্ত মসৃণই।
যদি আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল দুই দলই নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে শেষ ষোলোতে দেখা হবে মেসি–রোনালদোর। তবে তার আগে আর্জেন্টিনাকে শেষ বত্রিশে স্পেন এবং পর্তুগালকে ক্রোয়েশিয়া–বাধা টপকে আসতে হতে পারে।
দেখা গেল, দুই দল একইভাবে গ্রুপসেরা বা গ্রুপ রানার্সআপ হতে পারেনি। একটি দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, আরেকটি দল গ্রুপ রানার্সআপ। তখন মেসি–রোনালদোর দেখা হওয়ার সম্ভাব্য মঞ্চ ফাইনালে। সে ক্ষেত্রে দুজনের দলকেই টানা চারটি নকআউট ম্যাচ জিততে হবে।
মেসি–রোনালদো সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি, সৌদি আরবে। সেদিন রিয়াদ অল স্টারসের হয়ে রোনালদো আর পিএসজির হয়ে মেসি মাঠে নেমেছিলেন। মেসি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে, রোনালদো আল নাসরে। দুজনের আরেকবার দেখা হওয়ার সম্ভাব্য শেষ সুযোগ হয়তো এবারের বিশ্বকাপই।