স্পেনের উদ্‌যাপন
স্পেনের উদ্‌যাপন

সংখ্যার গল্পে স্পেনের কীর্তি ও ফ্রান্সের হতাশা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২–০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। এই ম্যাচ দিয়ে পরিসংখ্যানগত দিক থেকে বেশ কিছু কীর্তিও গড়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে একই মানদণ্ডে হতাশ করেছে ফ্রান্স। এই ম্যাচ ঘিরে পরিসংখ্যানে কী কী অদল–বদল ঘটল একনজরে দেখে নেওয়া যাক।  

স্পেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এক আসরে ৬ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার কীর্তি গড়েছে।

স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল। ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর আবারও ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল তারা।

স্পেনের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। তারা যদি এবার বিশ্বকাপ জেতে, তবে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপও জেতা তৃতীয় দল হবে। এর আগে এই কীর্তি গড়েছে মাত্র দুটি দল—স্পেন (ইউরো ২০০৮ জয়ের পর ২০১০ বিশ্বকাপ) এবং পশ্চিম জার্মানি (ইউরো ১৯৭২ জয়ের পর ১৯৭৪ বিশ্বকাপ)।

স্পেনের কাছে হেরে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করেছে ফ্রান্স। এর ফলে পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪-২০০২) পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারাল ফরাসিরা।

সব প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচবারের দেখায় চারটিতেই জিতেছে স্পেন। এই সময়ে স্পেনের একমাত্র হারটি ২০২১ সালে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে।

মিকেল ওইয়ারসাবাল পেনাল্টি থেকে ২২তম মিনিটে গোল করে এই বিশ্বকাপে নিজের ৫ম গোলটি করেছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপে এক আসরে ৫ বা তার বেশি গোল করা স্পেনের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার। এর আগে এই কীর্তি গড়েন ২০১০ বিশ্বকাপে দাভিদ ভিয়া (৫ গোল) এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এমিলিও বুত্রাগেনিও (৫ গোল)।

পেদ্রো পোরো ৫৮তম মিনিটে গোল করে বিরল এক কীর্তিতে নাম লিখিয়েছেন। গত ৬০ বছরে এক আসরের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাধিক গোল করা পঞ্চম ডিফেন্ডার তিনি।


স্পেনের বিপক্ষে হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের টানা ৬ ম্যাচ জয়ের ধারাবাহিকতার ইতি ঘটল। এটি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ইতিহাসে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও ছিল।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে সর্বশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই হেরেছে ফ্রান্স। এই সময়ে ফরাসিদের জয় মাত্র ২টি, একটি ম্যাচ ড্র হয়।

কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে একবারও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি। বিশ্বকাপে তাঁর সর্বশেষ ৯ ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম এমনটি ঘটল। এর আগে শেষবার ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেননি ফরাসি তারকা।

১০

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হারের পর থেকে নকআউটে টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত তারা। এই সময়ে স্পেন জিতেছে ৮টি ম্যাচ, ড্র করেছে ২টি। উল্লেখ্য, যে ম্যাচগুলো টাইব্রেকারে গড়ায়, ফিফার আনুষ্ঠানিক হিসেবে সেগুলো ড্র হিসেবেই গণ্য করা হয়।

৩৭

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা ৩৭ ম্যাচে পৌঁছাল। এ সময়ে তারা জিতেছে ২৮টি ম্যাচ, ড্র করেছে ৯টি। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের কোনো পুরুষ জাতীয় দলের সবচেয়ে দীর্ঘ অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ইতালির পাশে নাম লেখাল স্পেন। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইতালিও টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল।  

২–০

স্পেনের কাছে এই হারের ব্যবধান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১৯৮৬ সালের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল ফরাসিরা। এরপর নকআউট পর্বে এত বড় ব্যবধানে হারতে হয়নি তাদের।