দলের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলের পর ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেজ
দলের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলের পর ইউনাইটেডের ব্রুনো ফার্নান্দেজ

ফার্নান্দেজের হ্যাটট্রিক, পিছিয়ে পড়েও ইউনাইটেডের বড় জয়

এক গোলে পিছিয়ে পড়েও অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ঘুরে দাঁড়াল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইপসউইচ টাউনকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এবারের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম জয়ের মুখ দেখল রেড ডেভিলরা।

গত সপ্তাহে আরেক নবাগত দল হাল সিটির কাছে ২-০ গোলের হারের পর এই ম্যাচেও শুরুতে চেপে বসেছিল ইপসউইচ। লিফ ডেভিসের গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডকে স্তব্ধ করে দেয় তারা। তবে প্রথমার্ধেই ফার্নান্দেজের কামানের মতো এক শটে সমতায় ফেরে ইউনাইটেড। এরপর জ্যাকব গ্রিভসের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করার পর কাছ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ক্যারিয়ারের আরেকটি হ্যাটট্রিক পূরণ করেন পর্তুগিজ প্লে-মেকার। সেখানেই থামেননি, পরে ব্রায়ান এমবেউমোকে দিয়ে একটি গোলও করান তিনি।

হ্যাটট্রিকের পর ব্রুনো ফার্নান্দেজ

আগের ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর একাদশে চার পরিবর্তন আনেন কোচ মাইকেল ক্যারিক। প্রায় দুই বছর পর ইউনাইটডের প্রথম একাদশে ফেরেন মার্কাস রাশফোর্ড, সঙ্গে চোট সারিয়ে নামেন কোবি মাইনু। ইংল্যান্ডের দুই তারকা ফেরার প্রভাব মাঝমাঠে দেখা গেলেও মূল পার্থক্য গড়ে দেন সেই ফার্নান্দেজই।

অবশ্য ক্যারিকের রক্ষণভাগ নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ইপসউইচ এগিয়ে যাওয়ার আগেই হুলিও এনসিসোর নিশ্চিত গোল বাঁচান ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে লামেন্স। তবে ২৯ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। উইং ধরে লুক শকে পেছনে ফেলে ক্রুস বাড়ান আবদুল ফাতাউ, আর শূন্যে ভেসে থাকা দারুণ এক ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন ইপসউইচ লেফট-ব্যাক ডেভিস। এর কিছুক্ষণ পর নিজের দ্বিতীয় গোল পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও লামেন্সের হাতে বল তুলে দেন তিনি।

ম্যাচ ঘুরে যায় ইপসউইচ মিডফিল্ডার মার্সেলিনো নুনেসের এক ভুলে। মাঝমাঠে পিছলে পড়ে বল হারান তিনি, সেই বল ধরে মাতেউস কুনিয়া পাস বাড়ান ফার্নান্দেজের দিকে। বাঁ পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি তিনি।

ইপসউইচকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লিফ ডেভিস (৩ নং)

দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে আবারও ভাগ্যের ছোঁয়া পায় ইউনাইটেড। শট নেওয়ার আগে হ্যারি ম্যাগুয়ারের হাতে লাগলেও বল সরাসরি জালে না ঢুকে ইপসউইচ ডিফেন্ডার গ্রিভসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী হ্যান্ডবলটি সরাসরি গোল না হওয়ায় ভিএআর গোলটি বহাল রাখে।

সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কুনিয়াকে বক্সে ফাউল করে বসে পড়েন গ্রিভস। সেখান থেকে পাওয়া পেনাল্টিতে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন ফার্নান্দেজ।

গত মৌসুমে ৯টি গোলের বিপরীতে রেকর্ড ২১টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। এবার যেন গোল করাতেই বেশি নজর তাঁর! এমবেউমোর ডিফ্লেক্টেড শট ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচের হ্যাটট্রিকটি পূরণ করেন তিনি। এরপর ফার্নান্দেজের ভাসানো পাস থেকে ইপসউইচ গোলরক্ষক কিয়েল শেরপেনের ওপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৫-১ করেন এমবেউমো।

আক্রমণভাগের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাঝেও শেষ মুহূর্তে রক্ষণের ভুল ইউনাইটেডকে অস্বস্তিতে ফেলে। ইনজুরি টাইমে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে চুবা আকপমকে দিয়ে ফাঁকা জালে গোল করান এনসিসো।