
কমলাপুর শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গ্যালারির অটোরিকশার দোকানের বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কমলাপুর স্টেডিয়ামের প্রশাসককে সাময়িক বরখাস্তও করেছেন।
আজ কমলাপুরে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা দেখে প্রতিমন্ত্রী এ সব নির্দেশ দেন। পরে সাংবাদিকদের আমিনুল হক জানান, আগামীকালই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে একটি প্রতিনিধিদল স্টেডিয়ামে যাবে এবং দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য একটি সময় বেঁধে দেবে।
স্টেডিয়ামের পরিবেশ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আমিনুল হক বলেন, ‘স্টেডিয়ামে এসে আমি হতাশ হয়েছি। একটা ক্রীড়া স্থাপনার পরিবেশ কখনো এমন হতে পারে না। ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারণে এই অবস্থা হয়েছে।’
খেলোয়াড় ও সংবাদকর্মীদের সুযোগ-সুবিধার বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য স্টেডিয়াম। ড্রেসিং রুমের পরিবেশ যাচ্ছেতাই। ওয়াশরুমও তাই। প্রেসবক্সের অবস্থাও যাচ্ছেতাই। সিঁড়ির নিচে অনেক ময়লা পড়ে আছে, যেটা মানা যায় না। পাশাপাশি এই স্টেডিয়ামে দোকান ভাড়া দেওয়া হয় বা বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে ক্রীড়াবিষয়ক কিছু নেই। এখানে অটোরিকশার ব্যবসা চলছে।’
বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের অনেক ব্যয় হচ্ছে। সরকার যেখানে বিদ্যুতের ব্যাপারে খুবই সজাগ, কীভাবে সঠিক ব্যবহার করা যায়, সেটা ভাবছে, কিন্তু এখানে এসে দেখছি প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুতের ব্যয় হচ্ছে। আমাদের ঘরবাড়িতে লোডশেডিংয়ে ভুগছি, অথচ তারা এখানে বিদ্যুতের অপচয় করছে। এসব রোধ করতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কমলাপুর স্টেডিয়াম এলাকায় যতগুলো দোকান আছে, সেগুলোর চুক্তি বাতিল করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, স্টেডিয়ামের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সেটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
প্রশাসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কমলাপুর স্টেডিয়ামের প্রশাসককে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। যে পরিবেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার জন্য আমাদের জনবল লাগবে। বলছি না যে রাতারাতি সব ঠিক করে ফেলব, তবে সব স্টেডিয়ামগুলোয় ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ আনতে চাই। এরই মধ্যে কমলাপুরের ড্রেসিং রুম, ওয়াশরুম, ক্যাম্প, প্রেসবক্স ও আবর্জনা সব পরিষ্কার করে নতুনভাবে কাজ করব। খেলোয়াড়দের জন্য ফ্যান বা এসি দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটা করতে চাই।’
উল্লেখ্য, মন্ত্রী হয়ে গত ১ মার্চ কমলাপুরের স্টেডিয়ামটি পরিদর্শনে গিয়ে নানা সংস্কারের কথা বলেন আমিনুল হক। কিন্তু গত কয়েক মাসে তেমন কোনো কাজই হয়নি। বিষয়টি নজরে আসায় এবার স্টেডিয়ামের প্রশাসককে বরখাস্ত করা হলো।
বর্তমানে কমলাপুর স্টেডিয়ামে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, যা আজ বা কালের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। স্টেডিয়ামে মাদকমুক্ত পরিবেশেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্টেডিয়ামের অটোরিকশার দোকানগুলো উচ্ছেদ করে সেখান ক্লাবসহ ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কাজে বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।