
বিপদ উঁকি দিচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। সামান্য ভুলে বড় ক্ষতির শঙ্কা ছিল। অবশেষে সেই ক্ষতিটা হলো বার্সেলোনার। লা লিগায় কিছুদিন ধরে ১ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বার্সা অবশেষে লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখার সুযোগ হারাল। গতকাল সোমবার রাতে জিরোনার কাছে ২–১ গোলে হেরে দুইয়ে নেমে গেছে কাতালান ক্লাবটি। আর বার্সার হারে ২ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
রিয়াল শীর্ষে উঠেছিল আগের রাতেই। রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪–১ গোলে হারায় তারা। তবে গতকাল রাতে বার্সা যদি জিতে যেত, তাহলে আবার শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধার করতে পারত তারা। কিন্তু শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।
বার্সেলোনা এই ম্যাচে ২৬টি শট নিয়েও হার এড়াতে পারেনি। লা লিগার ম্যাচে প্রথম গোল করার পর ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বরের পর এই প্রথম হারল তারা। সেবার আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল বার্সা। জিরোনার মাঠে হারের পর বার্সার পয়েন্ট এখন ২৪ ম্যাচে ৫৮। সমান ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৬০।
বার্সার বিপক্ষে গতকাল পাল্লা দিয়ে খেলেছে জিরোনা। বল দখল ও আক্রমণে বার্সা এগিয়ে থাকলেও পরীক্ষা বেশি দিতে হয়েছে হান্সি ফ্লিকের দলকেই। ২ গোল হজম করা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া একাই অন্তত ৭টি গোল সেভ করেন। গার্সিয়া রুখে না দাঁড়ালে বার্সার হারের ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত। পাশাপাশি বার্সার হারে বড় ভূমিকা রেখেছে লামিনে ইয়ামালের পেনাল্টি মিস। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে সুবর্ণ সুযোগটি নষ্ট করেন বার্সা তারকা।
লা লিগায় চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৭টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে বার্সেলোনা। এর মধ্যে দুটি শট পোস্টের বাইরে মেরেছেন রবার্ট লেভানডফস্কি, আর গতকাল রাতে ইয়ামালের শটটি লেগেছে পোস্টে। লা লিগার এক মৌসুমে, সর্বশেষ ২০১৫-১৬ মৌসুমে তিনটি পেনাল্টি মিস করেছিল বার্সেলোনা। সেবার একটি করে শট বাইরে মারেন লিওনেল মেসি ও নেইমার। ব্রাজিল তারকার আরেকটি শট লেগেছিল ক্রসবারে।
কদিন আগে কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকোর কাছে ৪–০ গোলে বিধ্বস্ত হয় বার্সা। সেই হারের রেশ কাটার আগেই টানা দ্বিতীয় হারের সাক্ষী হলো দলটি। ম্যাচ শেষে হতাশ বার্সা কোচ ফ্লিক বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত জিরোনা জয়েরই যোগ্য ছিল। তারা অনেক সুযোগ পেয়েছে, আমরা খুবই খারাপভাবে রক্ষণ সামলেছি।’
শীর্ষস্থান হারালেও লড়াই চালিয়ে যেতে চান বার্সা কোচ, ‘আমরা ভালো অবস্থায় নেই, মানসিক দিক থেকেও না। তাই খেলোয়াড়দের দুই দিনের ছুটি দিয়েছি, যেন তারা নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারে। সামনে পথ এখনো অনেক। আমরা এখন দ্বিতীয় স্থানে, শীর্ষে উঠতে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’