রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও
রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও

রদ্রি আসেনি তো কী হয়েছে—নতুন রিয়ালে খুশি মরিনিও

গ্রীষ্মের দলবদলের বাজারে ব্যস্ত সময় কেটেছে রিয়াল মাদ্রিদের। নতুন মুখে ভরা ড্রেসিংরুম। তবু কোথাও যেন একটা শূন্যতা। সেই শূন্যতার নাম রদ্রি!

শেষ পর্যন্ত তাঁকে পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার জার্সিতেই দেখা যাবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে। কিন্তু তাতে যেন খুব একটা চিন্তিত নন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিও। পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড জানিয়ে দিলেন, এই রিয়াল নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। এই দল নিয়েই তিনি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত।

দলবদলে ছয় নতুন মুখ এসেছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে কেনা আইভরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে এসেছেন বের্নার্দো সিলভা ও মার্ক কুকুরেয়া। তবু মাঝমাঠে রদ্রিকে না পাওয়ার আক্ষেপটা থেকেই গেছে। সিলভা ছাড়া মাঝমাঠে বড় কোনো সংযোজন হয়নি।

এস্পানিওল ম্যাচের পর কার্লোস এস্পির সঙ্গে জোসে মরিনিও। এস্পির গোলেই লা লিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলকে ২–১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল

তবে যাঁদের পেয়েছেন, তাঁদের নিয়েই খুশি মরিনিও। গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমার চোখে দল প্রস্তুত। কিন্তু ট্রান্সফার মার্কেট তো এখনো খোলা, আপনি কখনোই জানেন না কে কখন এসে বলবে যে সে টানা দুই ম্যাচ বেঞ্চে বসে থেকে দল ছাড়তে চায়!’

তারপরও কি নতুন আরও কেউ আসতে পারেন? প্রশ্নের মুখে মরিনিওর উত্তরটা আত্মবিশ্বাসে ভরা, ‘তাত্ত্বিকভাবে নতুন কোনো চুক্তি হওয়ার কথা নয়। তবে ফুটবলে সব সময়ই কিছু না কিছু ঘটতে পারে। আমার মাথায় অবশ্য দল পুরোপুরি তৈরি। আমি নতুন করে কারও জন্য ক্লাবের কাছে আবদার করিনি। যেসব খেলোয়াড় হাতে আছে, তাঁদের নিয়েই আমি ভীষণ খুশি।’

গত দুই বছরে লুকা মদরিচ ও টনি ক্রুসের বিদায় মাঝমাঠে একটা শূন্যতা তৈরি করেছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হয়েছে মাদ্রিদকে। নতুন মৌসুমের শুরুতেও তার ছাপ আছে। লা লিগার নিজেদের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলে জিতেছে মরিনিওর দল। সেদিন মরিনিও একাদশে মাঝমাঠে রেখেছিলেন সিলভা ও ফেদেরিকো ভালভার্দেকে।

জয় দিয়ে লিগ শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ

আগের কোচরা ভালভার্দেকে কখনো ডান প্রান্তে, কখনো রাইট ব্যাক হিসেবেও ব্যবহার করেছেন। কিন্তু মরিনহোর ছকে তিনি অন্য ভূমিকায়। পর্তুগিজ কোচের সোজা কথা, ‘আমার কাছে সে কেবল মাঝমাঠের ফুটবলার। প্রতিপক্ষ কে আর আমাদের লক্ষ্য কী, তার ওপর নির্ভর করবে সে এক জায়গায় স্থির থাকবে, নাকি সারা মাঠ চষে বেড়াবে।’

আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট পজিশনে বেঁধে রাখার পক্ষপাতী নন মরিনিও, ‘আমি কাউকে নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করতে চাই না। চুয়ামেনি ৬ নম্বর, কামাভিঙ্গা ৬ নম্বর, ফেদে ৮ নম্বর, বের্নার্দো ১০ নম্বর, এভাবে ভাবি না। ম্যাচের ভেতরে এই ছক আর অবস্থানগুলো সব মিলিয়ে মিশিয়ে এক হয়ে যায়।’

পরের ম্যাচের দল নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে, ফরাসি মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নন। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে তাঁকে পাওয়া যাবে না। মরিনিও ব্যাখ্যা করলেন, ‘ওর একটু সমস্যা আছে। ছুটির সময়টা ওর সুস্থতার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের দিন যত এগিয়ে আসছিল, ছেলেটা খেলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছিল। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুরো ফিট না হলে ওকে নামাব না। মৌসুমের শেষ দুই মাস হয়তো কষ্ট করে করে পার করে দেওয়া যায়, কিন্তু আগস্টে শতভাগ ফিট না হয়ে শুরু করা উচিত নয়। তাই মেডিক্যাল টিম আর কোচিং স্টাফ মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ও যখন শতভাগ তৈরি হবে, তখনই মাঠে নামবে।’

মৌসুম শুরুর আগে প্রীতি ম্যাচের বিরতিতে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মরিনিও

নতুন মুখ আছে, তবু প্রশ্ন আছে। রদ্রি নেই, তবু আস্থা আছে। এর মাঝেই মরিনিও নিজের মতো করে তৈরি করছেন এক নতুন রিয়াল মাদ্রিদ। মাঠই বলবে, এই আত্মবিশ্বাস কতটা সত্যি। তবে আপাতত কোচের কণ্ঠে শুধু একটাই কথা, ‘আমি খুশি।’