মাঠের এক কোণে বল হারালেন তিনি। সাধারণ একটা ভুল—ফুটবলে যা খুবই সাধারণ। কিন্তু ভিলা বেলমিরোর গ্যালারি সেটাকে ক্ষমা করল না। দুয়ো উঠল। আর সেই দুয়োর মধ্যেই দাঁড়িয়ে হাত নাড়লেন নেইমার।
নেইমার তখন কিছু বলেননি জোরে। শুধু শরীরী ভাষায় গ্যালারির উদ্দেশে জিজ্ঞেস করেছিলেন—সমর্থন কোথায়?
ম্যাচ তখনো শেষ হয়নি। ব্রাজিলিয়ান লিগে মাকারার বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে সান্তোস, ঘড়িতে তখনো ৬০ মিনিটের বেশি বাকি।
এরপরই পাল্টাল ম্যাচের চিত্র। পাল্টে দিলেন নেইমারই। তাঁর দুই অ্যাসিস্টে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা সান্তোস ম্যাচ জিতে গেল ২-১ গোলে।
জয়ের বাঁশি বাজার পর নেইমার মুখ খুললেন ইএসপিএন ব্রাজিলের কাছে। বললেন, ১-০–তে পিছিয়ে থাকা মুহূর্তে তিনি শুধু এটুকুই বলছিলেন—সমর্থকেরা বহু বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছেন, সেটা তিনি জানেন। কিন্তু নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে আসার কোনো মানে হয় না।
তারপর যেটা বললেন, সেটিতেই ফুটে উঠল নেইমারের ক্ষোভ, ‘আমরা এক গোলে পিছিয়ে ছিলাম। এটা তাদের ভালো লাগেনি। আমি জানি তারা অনেক দিন ধরে কষ্ট পাচ্ছে...। কিন্তু তারা যদি শুধু নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে আসে, তার চেয়ে ঘরে বসে থাকাই ভালো।’
নেইমার গ্যালারি থেকে দুয়ো আসার বিষয়ে বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি আমাদের সমর্থন করো, উৎসাহ দাও। সান্তোসের সমর্থক হওয়া কি এতটাই সহজ? জেতার সময়ই শুধু তোমরা আমাকে পছন্দ করো।’
নেইমারের ক্লান্তি আর অভিমান এ থেকেই যেন স্পষ্ট! কয়েক দিন আগেই ব্রাজিল দলকে বিদায় বলে দিয়েছেন। সান্তোসের একটা ম্যাচ না খেলে পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ায় হয়েছে সমালোচনা। এ ঘটনার পর আরও পরিষ্কার, সান্তোস সমর্থকদের সঙ্গে নেইমারের সম্পর্কটা এখন ভালো নয় মোটেই।