গোলের পর এমন উল্লাস দেখা যাবে বিশ্বকাপজুড়েই
গোলের পর এমন উল্লাস দেখা যাবে বিশ্বকাপজুড়েই

বিশ্বকাপের ম্যাচ কেন দেরিতে শুরু হচ্ছে

পাড়ার খেলায় এটা হয়। কিছু লোক থাকেনই, যাঁরা সবকিছুতেই দেরি করেন। অনেক সময় আয়োজকদের মধ্যেও এমন কাউকে পাওয়া যায়, যাঁরা নিজেরাই মাঠে যান সবার পরে। তাঁরা এবার খুশি হতে পারেন। বলতে পারবেন, শুধু আমরাই দেরি করি নাকি! ফুটবল বিশ্বকাপের মতো দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্টেই তো নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হয় না!

হ্যাঁ, ঠিক বলা হয়েছে। শুনলে অবাক হবেন, এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ৮টি ম্যাচই শুরু হয়নি নির্ধারিত সময়ে। সবচেয়ে বেশি দেরি হয়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৬ মিনিট পর শুরু হয় সেই ম্যাচ।

কাতার–সুইজারল্যান্ডের ম্যাচ শুরু হয় ৫ মিনিট পর। এই ৮ ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে কম দেরিতে শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়া–তুরস্ক ম্যাচ, নির্ধারিত সময়ের ৪০ সেকেন্ড পর।

এক মিনিট বা দুই মিনিট দেরি হয়তো ম্যাচে তেমন একটা প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ফিফা ও স্বাগতিক দেশগুলোর তো বিশ্বকাপ নিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি থাকে। খেলোয়াড়দের টানেলে জড়ো হওয়া, মাঠে প্রবেশ এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুর নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ থাকে।

এই সূচি দেখেই খেলা সম্প্রচারক চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনের সময় নির্ধারণ করে, যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য বাদ না পড়ে। কিন্তু তারপরও কেন দেরি হচ্ছে?

এবারের বিশ্বকাপে জাতীয় সংগীতে অংশ নিতে হচ্ছে স্কোয়াডের সবারই

কারণ অনেকই থাকতে পারে, তবে সবচেয়ে বড় কারণ খেলোয়াড়দের সঠিক সময়ে প্রস্তুত না হওয়াটাই। হাইতি ও স্কটল্যান্ড ম্যাচ শুরুর ঠিক ৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে দুই দলের মাঠে নামার কথা ছিল। অথচ ওই সময় কোনো দলের খেলোয়াড়েরাই মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না।

সম্প্রচারকারী টেলিভিশনে তখন দেখা যায়, একজন ফিফা কর্মকর্তা খেলোয়াড়দের দ্রুত মাঠে যাওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছেন। দুই দলের ফুটবলাররা যখন টানেল থেকে বের হন, ততক্ষণে নির্ধারিত সময় থেকে ৯০ সেকেন্ড দেরি হয়ে গেছে। অন্য ম্যাচগুলোতেও মূলত বিলম্ব হয়েছে খেলোয়াড়েরা মাঠে দেরিতে নামায়।

সবচেয়ে বেশি দেরি হয়েছে মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুতে

সবচেয়ে বেশি দেরি হয়েছে মেক্সিকো–দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুতে। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই বিলম্বের পেছনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কোনো প্রভাব ছিল না। কারণ, ম্যাচ শুরুর বেশ আগেই শেষ হয়ে যায় অনুষ্ঠান। ম্যাচ দেরিতে শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ আসলে ফিফার এক সিদ্ধান্ত।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এত দিন জাতীয় সংগীতের সময় শুধু শুরুর একাদশের খেলোয়াড়েরাই মাঠে থাকতেন। এবারের বিশ্বকাপে জাতীয় সংগীতে অংশ নিতে হচ্ছে স্কোয়াডের সবারই। সবাইকে তখন মাঠের মাঝ বৃত্তে এসে দাঁড়াতে হয়। মাঠের দুই পাশে দুই প্রতিপক্ষ দেশের বিশাল দুটি পতাকাও তখন প্রদর্শন করা হয়।

ফিফা মনে করে, জাতীয় সংগীতে সবার অংশগ্রহণ সবার মাঝে ‘ঐক্য, গর্ব ও আবেগ’ ছড়িয়ে দেয়। তবে মাঠের ভেতর এটি আয়োজন করা বেশ জটিল। টুর্নামেন্ট যত এগোবে, দল ও আয়োজকেরা এই নিয়মের সঙ্গে ততই মানিয়ে নিতে পারবেন। তাতে অবশ্য কেউ আপত্তি করছে না। প্রশ্ন হলো, এই আনুষ্ঠানিকতা সারতে কতটা সময় লাগতে পারে, সে হিসাবটা কি ঠিকঠাক করেছিল ফিফা!