গোলের পর মিকেল ওইয়ারসাবালের উচ্ছ্বাস
গোলের পর মিকেল ওইয়ারসাবালের উচ্ছ্বাস

পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপ: জিরো থেকে হিরো আর প্রথম জয়ের দিন

বিশ্বকাপে প্রতিদিনই হচ্ছে কোনো না কোনো রেকর্ড। কাল রাতেই যেমন স্পেনের লামিনে ইয়ামাল কিংবদন্তি পেলের ছায়া মাড়িয়ে নতুন ইতিহাস লিখছেন, আবার মিকেল ওইয়ারসাবাল এক ম্যাচের ‘অদৃশ্য মানব’ থেকে পরের ম্যাচেই বনে গেছেন ‘সুপারম্যান’। আবার মিসর পেয়েছে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয়। রেকর্ড আর পরিসংখ্যান ঘেঁটে বের করে আনা এমনই চমকপ্রদ কিছু তথ্যে নজর দেওয়া যাক।

স্পেন ৪-০ সৌদি আরব

বিশ্বকাপে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সৌদি আরব কোনো এক ম্যাচে ৪ বা তার বেশি গোল খেল। ১৯৯৪ সালে সৌদি আরবের বিশ্বকাপ অভিষেকের পর থেকে আর কোনো দল তাদের চেয়ে বেশি ম্যাচে ৪ বা তার বেশি গোল হজম করেনি।

১০ মিনিটের সময় গোল করেন ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সী লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচের প্রথম গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় তিনি। তাঁর ওপরে আছেন শুধু ১৯৫৮ বিশ্বকাপে গোল করা পেলে (১৭ বছর ২৩৯ দিন)।

সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম গোল করে রেকর্ডে লামিনে ইয়ামালের নাম
৩২

সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন এখন টানা ৩২ ম্যাচে অপরাজিত। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে টানা ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর এটিই তাদের দীর্ঘতম অপরাজিত পথচলা।

১৮

১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে গোল করে লামিনে ইয়ামাল স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছেন। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন গাভি, যিনি ২০২২ বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে ১৮ বছর ১১০ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।

ওইয়ারসাবাল: অদৃশ্য থেকে সুপারম্যান

প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ওইয়ারসাবাল এমনভাবে মাঠে অদৃশ্য ছিলেন যে খেলার প্রথম ৩০ মিনিটে বলে একটা টাচও নিতে পারেননি! রেকর্ড বলে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ৩০ মিনিটে শূন্য টাচ দেওয়া প্রথম খেলোয়াড় তিনিই।

কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই সৌদি আরবের বিপক্ষে যেন ‘সুপারম্যান’ হয়ে ফিরলেন ওইয়ারসাবাল। প্রথম ৩০ মিনিটেই গোল আর অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তিন তিনটি গোল কন্ট্রিবিউশন! ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই কীর্তি গড়া মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় এখন তিনি।

বেলজিয়াম ০-০ ইরান

নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ল ইরান। এর আগে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করেছিল তারা।

লিয়ান্দ্রো ত্রোসার তার সতীর্থ কেভিন ডি ব্রুইনার জন্য গোলের মোট ৫টি সুযোগ তৈরি করেন। ২০০৬ বিশ্বকাপে জার্মানির বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারও মাইকেল ব্যালাকের জন্য ৫টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এ দুটির বাইরে বিশ্বকাপে এক সতীর্থের জন্য কোনো একক খেলোয়াড়ের এত বেশি সুযোগ তৈরির রেকর্ড আর নেই।

ডি ব্রুইনাকে ৫টি সুযোগ তৈরি করে দেন ত্রোসার
৩২

গড়ে ৩২ বছর ১৮১ দিন বয়সের দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইরান, যা রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দলের সবচেয়ে বয়স্ক শুরুর একাদশ।

৪০৬

বেলজিয়াম এখন টানা ৪০৬ মিনিট ধরে নিজেদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বিশ্বকাপে কোনো গোল পায়নি। বিশ্বকাপে কোনো বেলজিয়ান খেলোয়াড়ের সর্বশেষ গোলটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে মিশি বাতশুয়াইয়ের করা গোলটি।

উরুগুয়ে ২-২ কেপভার্দে

১/৯

কোচ হিসেবে নিজের নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে এসে মার্সেলো বিয়েলসা অবশেষে তাঁর দলের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা দেখতে পেলেন।

কেপভার্দের পক্ষে কেভিন পিনার করা প্রথম গোলটি ছিল এই টুর্নামেন্টে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে হওয়া দ্বিতীয় গোল। ২০২২ বিশ্বকাপের পুরো ৬৪টি ম্যাচ মিলিয়েও ফ্রি-কিক থেকে মাত্র দুটি গোল হয়েছিল, অথচ এই টুর্নামেন্টের মাত্র ৩৯তম ম্যাচেই দুটি হয়ে গেছে।

বিশ্বকাপে গোলের খাতা খোলার দিন দুটি গোল করেছে কেপভার্দে

নিউজিল্যান্ড ১-৩ মিসর

অবশেষে নবমবারের চেষ্টায় মিসর বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসের প্রথম জয় পেয়েছে। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে জয় ছাড়াই বিদায় নিয়েছিল আফ্রিকান দলটি।

নিউজিল্যান্ড এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ৮টি ম্যাচ খেলে একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি। তাদের চেয়ে বেশি ম্যাচ জয়হীন থাকার রেকর্ড কেবল হন্ডুরাসের (৯টি ম্যাচ)।

বিশ্বকাপে আট ম্যাচ খেলেও জয়ের দেখা নেই নিউজিল্যান্ডের
৬৮

মিসরের হয়ে সালাহ এখন পর্যন্ত ৬৮টি গোল করেছেন, যা মিসরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম হাসানের রেকর্ডের চেয়ে মাত্র ১ গোল কম। মজার ব্যাপার হলো, হোসাম হাসানই এখন মিসর জাতীয় দলের প্রধান কোচ।