যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ম্যাচের রেফারি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে পরে এই লাল কার্ডের কার্যকারিতা বাতিল করা হয়
যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন ম্যাচের রেফারি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে পরে এই লাল কার্ডের কার্যকারিতা বাতিল করা হয়

বালোগানের লাল কার্ড বিতর্কে ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলছে নরওয়ে

লাল কার্ড বিতর্ক নিয়ে আলোচনা থামছে না।

স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে তিন দিন আগে। শেষ ষোলোয় বাদ পড়া যুক্তরাষ্ট্রের টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে আরও দুই সপ্তাহ আগে। কিন্তু ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিতর্ক থামেনি।

এবার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার নৈতিক কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।

ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেসের মতে, বালোগানকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে খেলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘পুরো ফুটবল খেলাকেই ঝুঁকির মুখে’ ফেলছে।

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস

দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লাভেনেস বলেন, বিষয়টি তিনি তাঁর ফেডারেশনের বোর্ড সভায় তুলবেন এবং বোর্ডের অনুমোদন পেলে ফিফার নৈতিক কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করবেন। এর আগে, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায়ও নরওয়ে ফিফার নৈতিক কমিটিতে অভিযোগ জানিয়েছিল।

এবারের বিশ্বকাপে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় নিয়মানুযায়ী পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড বালোগানের। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফোনের পর ফিফা নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে।

ফোলারিন বালোগান

নরওয়ের ফুটবলপ্রধানের মতে, ফিফা আইনত তা করতে পারলেও নৈতিকভাবে পারে না, ‘আমার কাছে এটি নৈতিক বিষয়। এটি কখনোই ঘটা উচিত ছিল না। এভাবে নিয়ম ভাঙলে তা খুবই বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। এতে পুরো ফুটবলই ঝুঁকির মুখে পড়বে। খেলার মৌলিক নিয়মগুলোর সঙ্গে আপস করা হলে সেটি ফুটবলের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’

লাল কার্ড দেখা একজন খেলোয়াড়ের শাস্তি স্থগিত করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি উল্লেখ করে ক্লাভেনেস বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, এই রায়ে বাইরের প্রভাব ছিল এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়নি। ফিফার নেতৃত্বের উচিত এটি স্বীকার করা যে এটি একটি ভুল ছিল।’

২০২২ সাল থেকে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্লাভেনেস এ ধরনের ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে বলেন, ‘আপনি যদি রাষ্ট্রনেতা বা রাষ্ট্রনীতির সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য এভাবে সিদ্ধান্ত বদলাতে শুরু করেন, তাহলে আপনার আচরণ বদলাবে, সংগঠনের আচরণও বদলাবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রনেতারা কতটা হস্তক্ষেপ করতে পারবেন, সেই সীমারেখাও সরে যাবে। আর সেটাই এখানে ঘটেছে।’

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলকামালি একাই নিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে দ্য টাইমস। কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি পরামর্শ করেননি। ক্লাভেনেসের মতে, বাইরের প্রভাবের অভিযোগ থাকা এমন সিদ্ধান্তে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন ছিল।