সৌদি আরবের লাভজনক চুক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করে তিন বছর আগে ইতালির জাতীয় দলের কোচের পদ ছেড়েছিলেন রবার্তো মানচিনি। সেই একই দায়িত্বে পুনর্নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
মানচিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই দুঃখিত। এটা যেন নিজের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় নারীকে হারানোর মতো অনুভূতি। এর অর্থ হচ্ছে, আপনি এমন একটি কাজ করেছেন, যা করা উচিত ছিল না। তাই আমি দুঃখিত, খুবই দুঃখিত। গত তিন বছরে যা কিছু ঘটেছে, সেসবের জন্যও আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এখন আমি চেষ্টা করব ইতালি জাতীয় দলকে আবারও তার প্রাপ্য অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে।’
বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয় ইতালি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে–অফে হারের পর গত এপ্রিলে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনা এবং জাতীয় দলের প্রধান কোচ জেন্নারো গাত্তুসো পদত্যাগ করেন।
৬১ বছর বয়সী রবার্তো মানচিনির অধীনেই ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল ইতালি। তবে ২০২৩ সালের আগস্টে তিনি জাতীয় দলের কোচের পদ ছেড়ে দেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পরই সৌদি আরবের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন।
সেই সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করে মানচিনি বলেন, ‘পুরো দোষটাই আমার ছিল।’ ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েলে গ্রাভিনার সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখাকেই তিনি নিজের ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। ইতালির কোচ হিসেবে দ্বিতীয় অধ্যায়ে রবার্তো মানচিনির প্রথম ম্যাচ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। উয়েফা নেশনস লিগে রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইতালি।
সমর্থকদের কাছ থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া আশা করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মানচিনি বলেন, ‘আমি জানি, অনেকেই আমার বিরুদ্ধে থাকবেন। তবে আশা করি দল ভালো খেলবে। হয়তো তখন মানুষ আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’
তবে ইতালির কোচ হিসেবে মানচিনি প্রথম পছন্দ ছিলেন না। কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলা দায়িত্ব নিতে রাজি না হওয়ায় বোর্ড শরণাপন্ন হয় দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার আন্দ্রেয়া পিরলোর দিকে।
তবে রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েন পিরলো। এরপরই মূলত দৃশ্যপটে প্রবেশ করেন মানচিনি। এখন কোচ হিসেবে আগের মেয়াদের সাফল্য ফেরাতে পারবেন কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা।