কদিন ধরেই গুঞ্জন, তিন বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে কোচ হিসেবে ফিরছেন জোসে মরিনিও। তবে নতুন খবর হলো, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’–এর দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
গোল ডট কম খবর দিয়েছে, মরিনিওর সঙ্গে চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে যাওয়ায় তাঁর রিলিজ ক্লজের অঙ্ক দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। ফলে পর্তুগিজ এই মাস্টারমাইন্ডকে ডাগআউটে আনতে স্প্যানিশ ক্লাবটির এখন ১৫ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২১৫ কোটি টাকা খরচ হতে পারে।
রিয়ালের ডাগআউটে মরিনিওর ফেরা প্রায় নিশ্চিত হলেও প্রশাসনিক মারপ্যাঁচে আপাতত প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম আরটিপির দাবি, মরিনিওর ও রিয়ালের চুক্তি না হওয়ার মূল কারণ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ গত দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
মরিনিওর সঙ্গে ক্লাবের তিন বছরের একটি মৌখিক চুক্তি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। তবে পেরেজকে এখন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকে রিকেলমের বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণাকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে।
এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র সই করার কাজটি আটকে গেছে। ফলে ক্লাবের ভোট গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মরিনিও কাগজে–কলমে বেনফিকার কোচ হিসেবেই থেকে যাচ্ছেন।
এই বিলম্ব রিয়ালের জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কম মূল্যে মাত্র ৭ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে মরিনিওকে দলে নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল। সেই সময়সীমা গত মঙ্গলবার শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে এখন যেকোনো ক্লাবকে লিসবন থেকে চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই কোচকে নিতে হলে অনেক বড় অঙ্কের টাকা গুনতে হবে।
ডেডলাইন পার হয়ে যাওয়ায় বেনফিকায় মরিনিওর রিলিজ ক্লজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ মিলিয়ন ইউরো। বেনফিকার এখন পুরো অর্থ দাবি করতে পারবে। অথবা রিয়ালকে একটি সমঝোতায় আসতে কঠিন আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে পারবে।
গোলডটকম আরও খবর দিয়েছে, আর্থিক এবং রাজনৈতিক এত জটিলতা সত্ত্বেও মরিনিও রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার বিষয়ে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়ালে তিন মৌসুম কাটিয়েছিলেন তিনি। সে সময় রেকর্ড ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা জিতলেও ক্লাবটিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এনে দিতে পারেননি।
১৩ বছর পর এই প্রত্যাবর্তনকে তিনি তাঁর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। নতুন চুক্তির শর্তগুলো সাজানো হয়েছে মূলত ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাবের আধিপত্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে। তিন বছরের মূল চুক্তির পাশাপাশি এখানে পারফরম্যান্সভিত্তিক কিছু শর্ত রয়েছে। প্রথম ২৪ মাসের মধ্যে লা লিগা শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারলে ক্লাবে তাঁর অবস্থান আরও মজবুত হবে।