প্রথম আলোর চোখে এবারের সেরা ৫ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল, হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে ও আর্লিং হলান্ড
প্রথম আলোর চোখে এবারের সেরা ৫ ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল, হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে ও আর্লিং হলান্ড

প্রথম আলোর চোখে বিশ্বকাপের সেরা ৫

গোলরক্ষক

আলিসন, থিবো কোর্তোয়া, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, মাইক মাইনিয়ঁ ও মানুয়েল নয়্যার।

তাঁরা ভুল করলে ট্র্যাজেডি আর বুক চিতিয়ে দাঁড়ালে মহাকাব্য। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানো মানুষটার দিকে চোখ পড়ে সবচেয়ে কম। কিন্তু যেদিন সবকিছু ভেঙে পড়তে চায়, সেদিন ওই মানুষটাই হয়ে ওঠেন শেষ ভরসা। ব্রাজিলের গোলবারের নিচে এখনো সেই ভরসা আলিসন। তাঁর শান্ত চোখ আর নিখুঁত পজিশনিং ফাঁকি দেওয়া কঠিন। বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া যেদিন ছন্দে থাকেন, প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডরা বুঝতে পারেন গোলটা আসলে কতটা দূরে।

আলিসন, কোর্তোয়া, এমিলিয়ানো, মাইনিয়ঁ ও নয়্যার।

আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ শুধু গোলই বাঁচান না, প্রতিপক্ষের মনে ভয়ও ঢুকিয়ে দেন। পেনাল্টি শুটআউটে তিনি বরাবরই অনন্য। ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়ঁ এবার ফ্রান্সের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিশ্বকাপে নামছেনসুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে নাম লেখা হয়ে যাবে ইতিহাসে। আর জার্মানির নয়্যার? বয়স বেড়েছে, কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। জার্মানির গোলপোস্ট তাঁর হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।

ডিফেন্ডার

গ্যাব্রিয়েল, আশরাফ হাকিমি, ইয়োশুয়া কিমিখ, উইলিয়াম সালিবা ও নুনো মেন্দেস।

আক্রমণ গোল করে, কিন্তু রক্ষণ ট্রফি জেতায়পুরোনো এই কথাটা এবারের বিশ্বকাপেও মিথ্যা হওয়ার কারণ নেই। গ্যাব্রিয়েল এখন বিশ্বের সেরা সেন্টার ব্যাকদের একজন। আর্সেনালে যে আস্থা অর্জন করেছেন, সেটা ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতেও দেখাতে চাইবেন। গত বিশ্বকাপে মরক্কোর রূপকথার অন্যতম নায়ক আশরাফ হাকিমি এখনো রাইট-ব্যাক পজিশনে পৃথিবীর অন্যতম সেরা।

গ্যাব্রিয়েল, হাকিমি, কিমিখ, সালিবা ও মেন্দেস

জার্মানির রক্ষণ ও মাঝমাঠের সেতুবন্ধন হিসেবে থাকবেন ইয়োশুয়া কিমিখ। তাঁর ট্যাকটিক্যাল মগজ আর নিখুঁত পাসিং জার্মানির আক্রমণ তৈরির মূল ভিত্তি। উইলিয়াম সালিবা ফ্রান্সের রক্ষণে যে স্থিরতা এনেছেন, সেটা দলকে আরও একটি শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। শান্ত মস্তিষ্কে খেলা পড়ার অসামান্য ক্ষমতা তাঁকে এই সময়ের অন্যতম সেরা করে তুলেছে। পর্তুগালের নুনো মেন্দেস বাঁ দিক দিয়ে এমনভাবে ওঠানামা করেন যে প্রতিপক্ষের বোঝা কঠিন হয়ে যায়, তিনি ডিফেন্ডার নাকি উইঙ্গার।

মিডফিল্ডার

ব্রুনো ফার্নান্দেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রি, ডেকলান রাইস ও ফেদেরিকো ভালভের্দে।

খেলার হৃৎস্পন্দন তাঁদের পায়ে, আক্রমণ আর রক্ষণের মাঝের সেতু তাঁরা। রদ্রি যখন মাঠে থাকেন, স্পেনকে অন্য রকম দেখায়। বলের দখল থাকে, ছন্দ থাকে, নিয়ন্ত্রণ থাকে। গত মৌসুমে ব্যালন ডিঅর জিতেছেন। এবার বিশ্বকাপ জেতাই লক্ষ্য। ব্রুনো ফার্নান্দেজ পর্তুগালের আক্রমণের সুতো বোনেন। তাঁর পায়ে যখন বল থাকে, গোলমুখে কিছু একটা ঘটার সম্ভাবনা থাকেই।

ব্রুনো, এনজো, রদ্রি, রাইস ও ভালভের্দে

এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে নিজেকে অপরিহার্য করে তুলেছেন। মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ অনেকটাই তাঁকে ঘিরে। ডেকলান রাইস ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে ঢালের মতো কাজ করেন। রক্ষণ সামলান, আবার সুযোগ পেলে বল নিয়ে এগিয়েও যান। ভালভের্দে উরুগুয়ের হয়ে মাঠে নামলে রিয়াল মাদ্রিদে যা করেন, তার কাছাকাছি কিছু করার চেষ্টা থাকবে—অর্থাৎ সব জায়গায়, সব সময়।

ফরোয়ার্ড

কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল ও আর্লিং হলান্ড।

তাঁরাই দর্শক টানেন। তাঁদের জন্যই দর্শকেরা স্টেডিয়ামে যান, টেলিভিশনের সামনে বসেন। যেমন বসেন কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য। গতি, দক্ষতা, গোল করার ক্ষুধা—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ফরোয়ার্ড। ফ্রান্সের হয়ে আট বছর আগেই বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গেছে তাঁর, এবার আবার জিততে চাইবেন। তাঁর সতীর্থ ও বন্ধু উসমান দেম্বেলে এবার অন্য উচ্চতায়। পিএসজিতে গিয়ে নিজেকে যেভাবে বদলেছেন, সেটা বিশ্বকাপেও দেখা যেতে পারে।

এমবাপ্পে, দেম্বেলে, কেইন, ইয়ামাল ও হলান্ড

ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন গোল করেন, বারবার করেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে বড় শিরোপা এখনো নেই। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচাতে চাইবেন। স্পেনের লামিনে ইয়ামাল মাত্র সতেরো বছর বয়সে ইউরোর মঞ্চ মাতিয়েছিলেন। এবার বিশ্বকাপে কী করবেন, সেই উত্তর খুঁজছে গোটা ফুটবল দুনিয়া। আর নরওয়ের হলান্ডপ্রতি মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০ গোল করা সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে কী দেখাবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় দুনিয়া।