
হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামের ঘড়িতে তখন যোগ হওয়া সময়ের ষষ্ঠ মিনিট। রেফারির বাঁশি মুখে ওঠার অপেক্ষা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকেরা ততক্ষণে গ্যালারিতে উৎসব শুরু করে দিয়েছেন। তিন পয়েন্ট তো পকেটেই, আর তো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের কারবার!
ঠিক তখনই দৃশ্যপটে অ্যানসলি মেটল্যান্ড-নাইলসের আগমন।
ডেডলাইন ডে-তে এভারটনে সই করা এই ডিফেন্ডার যখন বলটা নিজের পায়ে নিলেন, সামনে তখন ইউনাইটেড ডিফেন্সের দেয়াল, গোলপোস্টের দূরত্বটাও কম নয়। কিন্তু কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারল না। দূর থেকে নেওয়া মেটল্যান্ড-নাইলসের রকেট শটে বল জালে আছড়ে পড়তেই স্টেডিয়াম জুড়ে উদ্দাম উল্লাস। শেষ মুহূর্তের এই রোমাঞ্চকর নাটকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছ থেকে পয়েন্ট কেড়ে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এভারটন।
মৌসুমের শুরু থেকেই রক্ষণভাগে দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল মাইকেল ক্যারিকের দলের। প্রতি ম্যাচেই দুই গোল করে হজম করার সেই ধারা এই ম্যাচেও থামেনি।
অন্যদিকে লিওঁ থেকে ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনে মেটল্যান্ড-নাইলসের আগমন এভারটন সমর্থকদের মধ্যে খুব একটা আলোচনায় ছিল না। কারণ, আক্রমণভাগ শক্তিশালী না করতে পারা নিয়ে সমর্থকদের হতাশাই ছিল বেশি।
ইলিমান এনদিয়ায়ে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে গেছেন। বেটোও ছেড়েছেন ক্লাব। মোনাকোর ফোলারিন বালোগুনকে আনার কথা ছিল, কিন্তু মেডিক্যাল জটিলতায় চুক্তি ভেস্তে যায়।
ডেভিড ময়েস এখন কার্যত একজন নিখুঁত স্ট্রাইকার নিয়েই এই মৌসুমে লড়ছেন, থিয়ের্নো ব্যারি। পুরো স্কোয়াডেও আউটফিল্ড খেলোয়াড় মাত্র ১৮ জন। জ্যাক গ্রিলিশকে ধারে আনা কিছুটা স্বস্তি দিলেও বাস্তবতা কঠিন। ইউরোপিয়ান ফুটবলের লড়াই নয়, বরং অবনমন এড়ানোর যুদ্ধই হয়তো সামনে।
এ সবের মধ্যেই আজ সেই মেইটল্যান্ড নাইলসই ম্যাচের শেষ দৃশ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল চরিত্র হয়ে উঠলেন।
ম্যাচের প্রথম অর্ধটা ছিল ধীর, প্রায় নিস্তেজ। ব্রুনো ফার্নান্দেজ একবার ক্রসবারে লাগালেন বল। অন্যদিকে ব্যারি সহজ একটি হেডের সুযোগ নষ্ট করেন। এ ছাড়া বলার মতো আর কোনো ঘটনা নেই।
কিন্তু বিরতির পরেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ৪৭তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক দৌড়ে উঠে এসে ব্রায়ান এমবেউমো গোল করে এগিয়ে দেন ইউনাইটেডকে। এর কিছুক্ষণ পর জেমস টারকাভস্কি ম্যাথাউস কুনিয়াকে ঠেকিয়ে না দিলে ব্যবধান বাড়তেই পারত।
তখন পর্যন্ত ম্যাচটা ইউনাইটেডের দিকেই ঝুঁকে। কিন্তু ৮৩তম মিনিটে টাইরিক জর্জ জোরালো শটে সমতা ফেরান। দর্শকদের মধ্যে তখন নতুন করে উত্তেজনা।
এই উত্তেজনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮৮তম মিনিটে লুক শ’র ক্রস থেকে বেনিয়ামিন সেসকোর হেডে আবারও এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। মনে হচ্ছিল, তিন পয়েন্ট নিশ্চিত।
কিন্তু ফুটবল কখনোই শেষ বাঁশির আগে শেষ হয় না। কিন্তু এভারটনের জার্সিতে অভিষেক হওয়া মেটল্যান্ড-নাইলস যে অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলেন, তা কে জানত!