সালাহ, ইকার্দির সঙ্গে বেকার আর কোন কোন ফুটবলার

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিশ্বে ২০-২১ কোটি লোক বেকার। এর মধ্যে এমন কিছু নাম আছে, যাঁদের ‘বেকারত্ব’ বাকিদের চেয়ে আলাদা। মোহাম্মদ সালাহ, জেডন সানচো, মাউরো ইকার্দি, দুসান ভ্লাহোভিচ—যাঁদের নাম এক দশক ধরে ইউরোপের বড় বড় স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটে জ্বলজ্বল করেছে, তাঁরা এই মুহূর্তে ক্লাবহীন। ফুটবলের ভাষায় যাঁদের বলা হচ্ছে ‘ফ্রি এজেন্ট’।

তালিকার শীর্ষে থাকা নামটাই সবচেয়ে বেশি চোখ টানে—মোহাম্মদ সালাহ। ৯ বছরের অ্যানফিল্ড অধ্যায়ের ইতি টেনে সালাহ এবার লিভারপুল ছেড়েছেন চুক্তির এক বছর বাকি থাকতেই। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন দুই বছরের চুক্তি সই করা সালাহর সঙ্গে আর্নে স্লটের রসায়ন শেষ মৌসুমে আর জমেনি।

লিভারপুলের জার্সিতে সালাহ

দুই শর বেশি গোল, দুটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আর চারটি গোল্ডেন বুট নিয়ে সালাহ যখন লিভারপুল ছাড়ছেন, তখন তাঁর গন্তব্য নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সৌদি প্রো লিগের আল-হিলাল ও আল-ইত্তিহাদ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস, এমনকি ফেনেরবাচে ও রোমার মতো ইউরোপীয় ক্লাবও নাম লিখিয়েছে দৌড়ে।

বিশ্বকাপে মিসরের হয়ে ছন্দে থাকা সালাহর পরের ঠিকানা কোথায় হবে, সেটাই এখন ফুটবল–বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিজ্ঞাসাচিহ্ন।

পিএসজিতে শুরুর দিনগুলিতে মাউরো ইকার্দি

আরও দুই স্ট্রাইকারের নতুন গন্তব্য নিয়েও চলছে আলোচনা। জুভেন্টাস ২০২২ সালে ৬৬ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে দুসান ভ্লাহোভিচকে এনেছিল ইউরোপের সেরা নাম্বার নাইনদের একজন বানানোর স্বপ্ন নিয়ে। এই সার্বিয়ান স্ট্রাইকারই এখন ক্লাবহীন; নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।

অন্যদিকে গালাতাসারাই ছেড়ে দেওয়া মাউরো ইকার্দির গল্পটা আলাদা। সাবেক ইন্টার মিলানের স্ট্রাইকারের তুরস্কে চার মৌসুমে ১৩৪ ম্যাচে ৭৭ গোল আর ২৫ অ্যাসিস্ট—সংখ্যাগুলো এখনো তাঁর ক্ষুধার কথাই বলে। কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বরে ডান হাঁটুর এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ার ধাক্কা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি ৩৩ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন। ইনজুরি আর বয়স—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইকার্দির পরের অধ্যায় লেখা এখনো বাকি।

জেডন সানচো

জেডন সানচোর গল্পটা অন্য রকম এক বিষণ্নতার। একসময়ের বিস্ময় এই ইংলিশ উইঙ্গার ২৬ বছর বয়সেই যেন অপাঙ্‌ক্তেয়। ডর্টমুন্ডে তিন মৌসুমে ১২৫ ম্যাচে ১০২ গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অবদান রেখেছিলেন। এরপর ২০২১ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ৭৩ মিলিয়ন পাউন্ডের রেকর্ড ট্রান্সফারে যাওয়া সানচো যেন হারিয়েই গেছেন।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ৮৩ ম্যাচে মোটে ১২ গোল, এরপর ডর্টমুন্ড, চেলসি এবং সব শেষে অ্যাস্টন ভিলায় ধারে কাটানো মৌসুমগুলোও তাঁকে ছন্দে ফেরাতে পারেনি।

রক্ষণেও একই রকম দৃশ্য। রিয়াল মাদ্রিদে পাঁচ মৌসুম কাটিয়ে ক্লাব ছাড়ছেন ডেভিড আলাবা—চারবারের চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এই অস্ট্রিয়ান এখনো অভিজ্ঞতার প্রশ্নে অতুলনীয়, প্রশ্ন শুধু ফিটনেস নিয়ে। আলাবার ক্লাব সতীর্থ রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক দানি কারভাহালও এই মুহূর্তে ‘বেকার’।

সতীর্থদের সঙ্গে গোরেৎজকা (বাঁয়ে)।

ম্যানচেস্টার সিটিতে এক দশক কাটিয়ে জন স্টোনস এবার মুক্ত। পেপ গার্দিওলার অধীনে সব জেতা এই ডিফেন্ডারের শেষ মৌসুমটা ইনজুরি-জর্জর ছিল, এখন জানা যাচ্ছে তিনি যেতে পারেন ইন্টার মিলানে। আর্সেনাল থেকে অলেকসান্দার জিনশেঙ্কোর নামও এই তালিকায়, যদিও হাঁটুর লিগামেন্টের চোট তাঁকে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে রাখতে পারে।

বায়ার্ন মিউনিখে আট বছর কাটিয়ে লিওন গোরেৎস্কাও এবার ফ্রি এজেন্ট—ভিনসেন্ট কমপানির অধীনে গত মৌসুমে জায়গা ফিরে পেলেও নতুন চুক্তির জন্য যথেষ্ট মনে করেনি ক্লাব। কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজের নামটাও ঘুরে বেড়াচ্ছে তালিকায়—এমএলএসে মিনেসোটা ইউনাইটেডের হয়ে খেলার পর এই মুহূর্তে তিনিও খুঁজে বেড়াচ্ছেন নতুন ক্লাব।

এ তালিকায় আরও আছেন ব্রাজিলের ফাবিনহো, আইভরিকোস্টের ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে, ইংল্যান্ডের জেমি ভার্ডি, আলজেরিয়ার রিয়াদ মাহরেজের নাম। এ ছাড়া কদিন আগেই বিশ্বকাপে নরওয়েকে নিয়ে শেষ আটে যাওয়া গোল কিপার অরইয়ান নিল্যান্ডও এই মুহূর্তে ক্লাবহীন।