শটে, কর্নারে, প্রতিপক্ষের বক্সে আনাগোনায় স্পষ্টতই এগিয়ে ছিল কানাডা। তবে বিশ্বকাপে আজ শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে গোলের দেখাই পায়নি এবারের আসরে সহ–আয়োজকেরা। বিপরীতে গোলমুখে চারটি শট নিয়ে তিনটিই কাজে লাগিয়েছে মরক্কো।
ফলাফল: মরক্কো ৩, কানাডা ০। দুটি গোল করেছেন আজ্জেদিন উনাহি, অন্যটি সুফিয়ান রাহিমি। হিউস্টনের ম্যাচটিতে জিতে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো।
শুরু থেকেই অবশ্য ম্যাচের চিত্র ছিল স্কোরলাইনের ঠিক উল্টো। প্রথম ২৫ মিনিটে মরক্কো কোনো শটই নিতে পারেনি। অন্যদিকে জোনাথন ডেভিড ও তানি ওলুওয়াসেয়িরা তৈরি করেন গোলের সুযোগ, তবে মরক্কো গোলকিপার ইয়াসিন বুনুর দৃঢ়তায় সফল হতে পারেননি।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় মরক্কো। ৫০তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে আক্রমণের সূচনা করেন অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। তাঁর পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে জাল খুঁজে নেন আজ্জেদিন উনাহি।
গোল হজমের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কানাডা। কিন্তু একের পর এক আক্রমণ ভেস্তে যায় বুনু ও মরক্কোর রক্ষণভাগের দৃঢ়তায়। ৭৯তম মিনিটে দূরপাল্লার শটে বুকানান গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন, কিন্তু বুনু আবারও দুর্দান্ত সেভ করেন।
কানাডা যখন সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখনই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটা নিজেদের করে নেয় মরক্কো। ৮২তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে আবারও দিয়াজের পাসে গোল করেন বদলি হিসেবে নামা সুফিয়ান রাহিমি, নিশ্চিত করেন ৩-০ ব্যবধানের জয়।
স্কোরলাইন যতটা একপেশে, ম্যাচটা ততটা ছিল না। শট, কর্নার এবং প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শ—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল কানাডা। মরক্কোর ৫ শটের বিপরীতে তারা নিয়েছে ১০টি শট। মরক্কো যেখানে কানাডার বক্সে মাত্র ১০ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছে, কানাডা করেছে ৩২ বার। এমনকি মরক্কোর মাত্র ১টি কর্নারের বিপরীতে কানাডা নিয়েছে ১১টি।
তবে এত কিছুর পরও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য। মাত্র চারটি শট লক্ষ্যে রেখে তিনটিতেই গোল করেছে মরক্কো। অন্যদিকে আধিপত্য বিস্তার হাতশূন্য সহ–আয়োজকদের।
টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শেষ আটে উঠে আবারও বড় কিছুর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্টরা। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার জয়ী দল।