বাংলাদেশের নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা
বাংলাদেশের নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা

বাটলারের তুরুপের তাস ঋতুপর্ণাকে নিয়ে ভাবছে উত্তর কোরিয়া

এশিয়ান কাপের মঞ্চে তিনবার চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। সর্বশেষ ২০০৮ সালে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমে প্রথম ম্যাচেই উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু আগামীকাল সকাল ৮টায় বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার আগে উত্তর কোরিয়া শিবিরে বইছে সতর্ক হাওয়া। আর এর কেন্দ্রে আছেন কোচ পিটার বাটলারের তুরুপের তাস ঋতুপর্ণা চাকমা।

চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু ফুটবল এবং বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী ঋতুপর্ণার গতি ও ড্রিবলিং যে চীনের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরিয়েছে, তা আজ সিডনি ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচের কথাতেই স্পষ্ট। তাঁর চোখেও  ধরা পড়েছে চীনের বিপক্ষে ঋতুপর্ণার বাঁ পায়ের দূরপাল্লার সেই অবিশ্বাস্য শট, যে শটে তিনি প্রায় গোল করেই ফেলছিলেন!

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন হয়েছে, বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করছে কি না উত্তর কোরিয়া। উত্তরে ঋতুপর্ণাকে নিয়ে নিজের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কোচ রি সং হো বলেন, ‘মূলত আমি তাদের আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়কে (ঋতুপর্ণা) নিয়ে আমি সতর্ক, যিনি বাঁ প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারেন। আমি আগেই বলেছি, তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গতি অনেক বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই তাদের গতি ভালো। তাই আগামীকালের ম্যাচে এই খেলোয়াড়দের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’

র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ নিয়ে কোনোভাবেই হালকা মনোভাব দেখাচ্ছেন না উত্তর কোরিয়ার কোচ। গ্যালারিতে বসে চীন বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে রি সং হো বলেন, ‘আমি চীন বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ দেখেছি এবং আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। উদাহরণ হিসেবে, তাদের আক্রমণভাগ অনেক দ্রুত এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতা বেশ তীক্ষ্ণ। সাধারণভাবে বলতে গেলে, তারা বেশ দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে, যাতে তারা গোল করার কোনো সুযোগ না পায়।’

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সং হো

শুরুতে নিজেদের লক্ষ্য জানিয়ে উত্তর কোরিয়ার কোচ বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রথম ধাপের ম্যাচটি সফলভাবে শেষ করেছি এবং সেখানে জয় পেয়েছি। এখন আমরা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপের ম্যাচের মুখোমুখি হচ্ছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য বড় সুযোগ এবং টুর্নামেন্টে আমাদের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য এগুলো অনেক গুরুত্ব বহন করে। আমি এখন শুধু আগামীকালের ম্যাচের প্রস্তুতির দিকেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছি, যাতে আমরা সেরা ফলাফল অর্জন করতে পারি।’

২০১৯ সালে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলতে ঢাকায় এসেছিল উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ দল। সেই সূত্রে বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা জানতে চাইলে রি সং হো রসিকতা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ বললে কি ক্রিকেটের কথা প্রথমে আসে না? (হাসি)।’

তবে পরক্ষণেই যোগ করেন, ‘গত কয়েক বছর আগের কথা চিন্তা করলে দেখা যায়, পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান বেশ নিচে ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমি দেখতে পাচ্ছি যে, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো খুব দ্রুত উন্নতি করছে। আপনি ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বললেন, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি  বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ দেখে যা বুঝেছি, বাংলাদেশ দল অনেক বড় এবং দ্রুত উন্নতি করেছে। এখন তারা এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।’

বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলারের অভিযোগ ছিল উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে খুব একটা তথ্য না পাওয়া নিয়ে। এ প্রসঙ্গে রি সং হো বেশ বিনয়ী উত্তর দিয়ে বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ যে আপনারা আমাদের শক্তিশালী বলছেন, কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসার কারণে আমরাও অনেকটা নতুনের মতোই। তাই আমরা নিজেদের খুব বেশি শক্তিশালী ভাবছি না। বাংলাদেশের মতো আমরাও প্রতিটি ম্যাচকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা কোনো প্রতিপক্ষকেই অবমূল্যায়ন করছি না। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড় ওহ সল সংও কোচের সুরে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘আমরা আগামী ম্যাচে আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব এবং ভালো কিছুর আশা করছি।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখলের চেয়ে প্রতিটি ম্যাচ জেতাকেই এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা। সিডনির মাঠে কালকের লড়াইয়ে বাংলাদেশের গতি আর উত্তর কোরিয়ার কৌশলের মধ্যে কে জয়ী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।