
কলকাতায় পা রাখার আগেই যেন এক অচেনা পৃথিবীর আবহাওয়া টের পাচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি। যে দেশে ক্রিকেট সব আলো শুষে নেয়, সেখানেই ফুটবলের প্রতি যে এক অমোঘ টান লুকিয়ে আছে, তা বুঝতে পারছেন যথেষ্টই। আর সেই আবেগ ও উন্মাদনার মুখোমুখি হওয়ার আগে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখলেন পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ, ব্রাজিলের অভিধানে কোনো ম্যাচই ‘প্রীতি’ নামের ছাড়পত্র পায় না।
আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে খেলবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ নম্বরে থাকা ব্রাজিলের জাতীয় দলের এটাই প্রথম ভারত সফর। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-রাফিনিয়াদের মতো তারকাদের চোখের সামনে দেখার এই দুর্লভ সুযোগ ঘিরে কলকাতার ফুটবলপাগল মানুষের মধ্যে চড়ছে উত্তেজনার পারদ।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই উন্মাদনা নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথাই জানালেন ব্রাজিলের ৬৭ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। পৃথিবীর সব প্রান্তেই হলুদ জার্সির আলাদা একটা সমর্থকগোষ্ঠী থাকে। কোচের মুখেও সেই সুর, ‘বিশ্বের প্রতিটি কোণেই ব্রাজিলের সমর্থক রয়েছে। ভারতে খেলাটা আমাদের জন্য আনন্দের। শুধু সেখানে থাকা ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য নয়, ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও এটা এক বিশেষ মুহূর্ত।’
কাগজে-কলমে ম্যাচটির গায়ে ‘প্রীতি’র তকমা সাঁটানো থাকতে পারে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকা ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের এই ম্যাচ একপেশে হওয়ারই কথা। তবে আনচেলত্তি এটাকে স্রেফ প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না, ‘এটা একটা প্রস্তুতির ম্যাচ, প্রীতি ম্যাচ। কিন্তু সত্যি বলতে আমাদের জন্য প্রীতি ম্যাচ বলে কিছু নেই।’
বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত খেলতে না পারলেও ফুটবল নিয়ে ভারতীয়দের আবেগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে কলকাতা আর কোচির মতো জায়গায় ফুটবল এখনো জীবনের সঙ্গে গেঁথে আছে। আনচেলত্তির কাছে এই সফর শুধুই ৯০ মিনিটের ফুটবল নয়, নতুন এক সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা নেওয়াও, ‘আমাদের অন্য দেশ ও তাদের ফুটবল সংস্কৃতি দেখতে হবে। আমরা বিভিন্ন ধারার দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলতে অভ্যস্ত। ভারতে যাওয়াটা দারুণ উত্তেজনাকর হতে যাচ্ছে। এটা ঠিক যে বিশ্বমানের কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার মতো অভিজ্ঞতা ভারতের নেই, তবে তারা কীভাবে খেলে তা জানা আমাদের জন্য জরুরি। আমি এর আগে কখনো ভারতে যাইনি। কলকাতায় নামার কথা ভেবে ভীষণ রোমাঞ্চ বোধ করছি।’
এর আগে ১৯৭৭ সালে মোহনবাগানের বিপক্ষে কসমসের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ফুটবলের রাজা পেলে। ২০১৫ সালেও কলকাতায় পা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ব্রাজিল ফুটবলের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দলের ভারতে আসা এবারই প্রথম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে সরাসরি ভারতে পৌঁছাবে আনচেলত্তির দল।