বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ ড্র করেছে ব্রাজিল
বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১–১ ড্র করেছে ব্রাজিল

ভিনি ৮, রাফিনিয়া ৬—ব্রাজিলের ফুটবলাররা কে কেমন খেললেন

জয় দিয়ে শুরু কে না চায়? ব্রাজিল চেয়েছিল, মরক্কোও চেয়েছিল। দুই দলের ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জন্য এই ড্র হজম করা একটু কঠিনই। শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে কে কেমন খেললেন, এ নিয়ে চলছে বিস্তর কাটাছেঁড়া।

গোল ডট কমের রেটিংয়ে জেনে নিতে পারেন মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা কে কত নম্বর পাওয়ার মতো খেলেছেন।

আলিসন — ৬/১০

কয়েকটি দারুণ সেভ করেছেন। তবে মরক্কোর গোলটি ঠেকানোর কিছু ছিল না তার হাতে।

রজার ইবানিয়েজ — ৪/১০

মাঠে থাকা প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্নের। বারবার মরক্কোর আক্রমণের মুখে খেই হারিয়েছেন। ৩১ বার বলে টাচ, দুটি ড্রিবলের একটিতে গড়বড় করেছেন। গ্রাউন্ড ডুয়েলসে ৯টির ৫টিতে ব্যর্থ।

মার্কিনিওস — ৫/১০

লং পাস ৭টির ছয়টিই ঠিকঠাক পৌঁছেছে, হেডে ক্লিয়ারেন্স আছে ৩টি। মরক্কোর গোলের সময় জায়গামতো ছিলেন না।

গ্যাব্রিয়েল — ৬/১০

মরক্কোর গোলের জন্য মার্কিনিওসের মতো সমানভাবে দায়ী। তবে এরপর ভালো খেলেছেন। রক্ষণে ক্লিয়ারেন্স, ব্লক ও ট্যাকল মিলিয়ে ৯ বার পরিষ্কার অবদান রেখেছেন।

গোল হজমের পর গ্যাব্রিয়েল ভালো খেলেছেন

দগলাস সান্তোস —৫/১০

ছয়বার বল পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন, গ্রাউন্ড ডুয়েল জিতেছেন ৯ বারের সাতবার। তবে ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে মোটের ওপর আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়নি। বয়সের ছাপ ছিল স্পষ্ট।

কাসেমিরো —৪/১০

মিডফিল্ডে সত্যিকার অর্থেই বাজে খেলেছেন। খেলার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি, বিরতির আগেই হলুদ কার্ড পেয়েছেন, এরপর বিরতিতেই তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

ব্রুনো গিমারাইস —৬/১০

মিডফিল্ড জুটির মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভালো ছিলেন। ভিনির গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন, মাঠের বড় অংশ কভার করেছেন।

ভিনির গোলে অ্যাসিস্ট ছিল গিমারাইসের

লুকাস পাকেতা —৫/১০

প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময় মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ফাইনাল থার্ডে ১০টি পাস আর গোলমুখে একটি শটে কিছুটা ঝলকও দেখা গেছে। মরক্কো গোলকিপার একটি দারুণ সেভ না করলে হয়তো গোলও পেতেন।

রাফিনিয়া — ৬/১০

প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণে একটু বেশিই গড়বড় করেছেন। দ্বিতীয়ার্ধে কিছু সুযোগ তৈরি করেছেন। ম্যাচে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ৩টি সুযোগ তৈরি করেছেন, প্রতিপক্ষের বক্সেও বল স্পর্শ করেছেন পাঁচবার। তবে তাঁর আরও বেশি দেওয়ার সুযোগ ছিল।

রাফিনিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল ব্রাজিলের

ইগর থিয়াগো —৬/১০

কিছু মুহূর্তে বল ধরে রেখেছেন ভালোভাবে। একটি বড় সুযোগ নষ্ট করেচেন। সামগ্রিকভাবে খুব কমই চোখে পড়েছেন।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র —৮/১০

প্রথম সুযোগ পেয়েই গোল করেছেন। এরপরও বিপজ্জনক ছিলেন প্রতিনিয়ত। মরক্কোর বক্সে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৫টি টাচ করেছেন। আরও এক-দুটি গোল না হওয়াটা দুর্ভাগ্যের।

ভিনিসিয়ুস ছিলেন ব্রাজিলের সেরা পারফরমার

দানিলো (রাইট ব্যাক) —৬/১০

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ছিলেন। ফুল ব্যাক হিসেবে যতটুকু করার, খারাপ করেননি।

ফাবিনিও —৬/১০

শরীরী ফুটবল খেলেছেন, আবার বেশ জায়গাও কাভার করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু করতে পারেননি।

মাতেউস কুনিয়া — ৬/১০

বদলি নেমে বাড়তি এনার্জি আনতে পেরেছেন দলে। তবে আক্রমণের ধার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেননি।

লুইস এনরিকে — ৫/১০

৩০ মিনিটে ১৪টি টাচ। বেশ হতাশাজনক।

কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেক ছিল কার্লো আনচেলত্তির

কোচ: কার্লো আনচেলোত্তি — ৫/১০

বিশ্বকাপ অভিষেকটা মিশ্রই হলো। মরক্কো খারাপ দল নয়, তবে ব্রাজিল নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি কিছু করতে পারত।