ফ্রান্সের অনুশীলনে কিলিয়ান এমবাপ্পে
ফ্রান্সের অনুশীলনে কিলিয়ান এমবাপ্পে

ফ্রান্স–ইরাক

আজ কি মেসিকে পেছনে ফেলতে পারবেন এমবাপ্পে

তিনি মাঠে নামলেই এখন কোনো না কোনো রেকর্ড হচ্ছে, গড়ছেন নতুন কোনো কীর্তি। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে আরও একবার মঞ্চটা তৈরি কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য।

ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই ফ্রান্সের জার্সিতে ১০০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক ছোঁবেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল তাঁকে ফ্রান্সের ইতিহাসে এবং বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা বানিয়ে দিয়েছে। এবার আরও একটা রেকর্ডের হাতছানি তাঁর সামনে। কিন্তু লিওনেল মেসি এরই মধ্যে সেই পথে এসে দাঁড়িয়েছেন।

সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১৪। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের বিশ্ব রেকর্ড থেকে তিনি তখন মাত্র ২ গোল দূরে ছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে দেন মেসি। নিজেই বসে যান ক্লোসার পাশে।

এবার রোমাঞ্চের পারদ আরও বাড়ছে সূচির কারণে। কাকতালীয়ভাবে আজ ফ্রান্স-ইরাক ম্যাচের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে মেসির আর্জেন্টিনা। ফলে রাতটা হতে পারে ইতিহাস লেখার। মেসি যদি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হন, তবে ইরাকের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলে মাত্র ২৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন এমবাপ্পে।

ম্যাসাচুসেটসের বেন্টলি ইউনির্ভাটি মাঠে অনুশীলন করেছে ফ্রান্স ফুটবল দল

তবে ফ্রান্স শুধু এমবাপ্পের রেকর্ডের হিসাব কষছে না। ইরাককে হালকাভাবে নিতে রাজি নয় তারা। ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা ম্যাচটা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন। গত পরশু সংবাদ সম্মেলনে সালিবা বলেছেন, ‘ইরাক বেশ ভালো দল। লোকে যতটা সহজ ভাবছে, কাজটা অত সহজ হবে না। তারা যোগ্যতা অর্জন করেই এখানে এসেছে, প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়েছে, স্পেনের সঙ্গে ড্র করেছে। আমরা একটা কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

ইরাকের বিশ্বকাপ রেকর্ড অবশ্য বড্ড মলিন। এর আগে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছে তারা। ১৯৮৬ সালের সেই বিশ্বকাপে তিন ম্যাচের সব কটিতেই হেরেছিল তারা। এবার মূল পর্বে আসতে তাদের খেলতে হয়েছে ২১টি বাছাইপর্বের ম্যাচ। গত মার্চের শেষে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট পায় ইরাক। বিশ্বকাপের কয় দিন আগেই প্রস্তুতি ম্যাচে স্পেনের সঙ্গে ১–১ ড্র করেছে।

আজ রাতের ম্যাচটা দুই দলের শারীরিক শক্তির পরীক্ষা হবে বলে মনে করছেন আরেক ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে, ‘আমার মনে হয় ম্যাচটা খুব তীব্র হবে। তারা বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য খেলবে, তাই শারীরিক ফুটবল খেলবে। আমাদের তৈরি থাকতে হবে।’

প্রথম ম্যাচে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মাঠের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন সালিবা ও তাঁর সতীর্থরা। ফিলাডেলফিয়ার মাঠ নিয়েও কিছুটা শঙ্কিত তাঁরা। সালিবা স্পষ্টই বললেন, ‘সেদিন মাঠের মান দেখে আমি কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল কৃত্রিম ও শক্ত পিচ। তবে আমাদের খেলতেই হতো। ঘাসগুলো মোটেও ভালো ছিল না। জানি, এটা দুই দলের জন্যই সমান, তবে মাঠটা ভালো ছিল না।’ ফিলাডেলফিয়ায় সেটা ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তবে ফ্রান্সের নকআউট নিশ্চিত করে ফেরার সুযোগ, ইরাকের টিকে থাকার লড়াই আর মাঠের মান নিয়ে শঙ্কা ছাপিয়ে আজ একটাই প্রশ্ন—মেসি এগিয়ে যাবেন, নাকি এমবাপ্পে?