আর্সেনাল ১-০ আতলেতিকো মাদ্রিদ (দুই লেগ মিলিয়ে আর্সেনাল ২-১ গোলে জয়ী)
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর কোনো লড়াই নয়, ফুটবলশৈলীর নিপুণ প্রদর্শনীর কোনো ম্যাচও নয়—দুই দলই খেলল নিজেদের জাল আগলে রেখে এরপর সুযোগ তৈরির চেষ্টায়।
তবে খেলা যেমনই হোক, দিন শেষে উৎসব-উচ্ছ্বাসেই ভাসল এমিরেটস স্টেডিয়াম। বুকায়ো সাকার ট্যাপ-ইন গোলে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটিতে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল। প্রথম লেগ ১-১ সমতায় থাকায় দুই লেগ মিলিয়ে গানারদের জয় ২-১ ব্যবধানে। এই জয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল। নিজেদের ইতিহাসে এর আগে শুধু ২০০৬ সালেই ফাইনালে খেলেছিল ইংলিশ ক্লাবটি।
নর্থ লন্ডনে আতলেতিকোর মুখোমুখি হওয়ার আগেই মানসিকভাবে এগিয়ে ছিল আর্সেনাল। চলতি মৌসুমে লিগ পর্ব থেকে শুরু করে একটি ম্যাচও হারেনি মিকেল আরতেতার দলটি। এমনকি নিজেদের মাঠে খেলা তিন ম্যাচের কোনোটিতে গোলও হজম করেনি।
আজ তাই নিজেদের গোলপোস্ট অক্ষত রেখে অন্তত একটি গোল করার দিকেই যেন বেশি মনোযোগী ছিল আর্সেনাল। দুই দলের লিগ পর্বের দেখায় এমিরেটসে ৪:০ গোলে হারের দুঃস্মৃতি আছে বলে আতলেতিকোর খেলার ধরনও ছিল অনেকটা তা-ই।
রক্ষণ ও মাঝমাঠকেন্দ্রিক সেই লড়াইয়ে অবশ্য দুই দলই তাল মিলিয়ে লড়েছে। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলটা পেয়েছে স্বাগতিকেরাই।
ভিক্টর গিওকেরেসের বাড়ানো বল কোনাকুনি শট নিয়েছিলেন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সেই শট প্রতিহত করেন আতলেতিকো গোলকিপার ইয়ান ও’ব্লাক, তবে বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা বুকায়ো সাকা ফিরতি শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি সাকার তৃতীয় গোল, অক্টোবরের পর প্রথম। বলে দখল, শট ও সুযোগ তৈরিতে অনেক বেশি ব্যবধানে এগিয়ে না থাকলেও সাকার এই গোলের সুবাদে উজ্জীবিত হয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্সেনাল রক্ষণে কিছুটা চাপ তৈরি করে আতলেতিকো। ৫১ মিনিটে গিলিয়ানো সিমিওনে শট নিতে দেরি করায় সুযোগ নষ্ট করেন, পরমুহূর্তে গ্যাব্রিয়েলের ফাউলের শিকারও হন। যদিও ভিএআর চেক করে জানায়, পেনাল্টি হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। এর পাঁচ মিনিট পর আঁতোয়ান গ্রিজমানের শট আর্সেনাল গোলকিপার ডেভিড রায়া রুখে দিলে আরেক দফা হতাশ হয় আতলেতিকো।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের সবচেয়ে বড় সুযোগটা তৈরি করে আর্সেনালই। ৬৬ মিনিটে পিয়েরে ইনকাপিয়ের ক্রস বক্সে পেয়ে যায় গিওকেরেস। তবে গতির ওপর থাকা সুইডিশ ফরোয়ার্ড শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি, ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে বল চলে যায়।
ম্যাচের বাকি সময়ে দুই দল চেষ্টা করে গেলেও আর কোনো গোল হয়নি। শেষ দিকে অঝোর ধারায় শুরু হওয়া বৃষ্টির মধ্যে জয়োৎসব করে আর্সেনাল।
২০০৬ সালে ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে যাওয়া আর্সেনাল এবার ৩০ মে বুদাপেস্টে খেলবে বায়ার্ন মিউনিখ বা পিএসজির বিপক্ষে।